করোনা আপডেট
আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৩৪৫৮০৫ ২৫২৩৩৫ ৪৮৮১
বিশ্বব্যাপী ৩০৩৭৫৩৯৭ ২২০৬০০১৬ ৯৫০৯৮৮

কেমন হয়, যদি মৃত্যু নির্মম হয়ে ওঠে?

রায়হানুল হোসাইন রবিন

প্রকাশিত : আগস্ট ৩০, ২০২০

‘ছিঁড়ে নেয়া গলা দিয়ে এখনো একটু একটু করে রক্ত বের হচ্ছে, দেহের সর্বত্র রক্তাক্ত আঁচড়ের চিহ্ন। বুকের দু`পাশের রিব ভেঙে দেবে গেছে, পুরুষাঙ্গ আর অণ্ডকোষ ছিড়ে নেয়া হয়েছে, গোটা পেট ফাঁড়া, নাড়িভুঁড়ি পুরোটা রাস্তায় লুটাচ্ছে।’ কেমন হয়, যদি মৃত্যু এতটা নির্মম হয়ে ওঠে?

মাতৃগর্ভে যেদিন আপনার জন্ম তখন থেকেই সুনিশ্চিত হয়ে যায় মৃত্যু। এ এক চিরন্তন সত্য। কিন্তু কোথায়, কখন কিভাবে হবে, তা কেউ জানে না। যেমনটা জানে না এ-কাহিনির চরিত্রগুলো। কাহিনির শুরু মেহবুব শায়লা দম্পতির ফ্ল্যাটে। একে একে কাহিনিতে বাড়তে থাকে চরিত্র। কাহিনি বিস্তার লাভ করে শহর থেকে গ্রামে, জঙ্গল থেকে চার্চে, ফ্ল্যাট থেকে ক্লাবে সব জায়গায়। ঘটতে থাকে নারকীয় সব কাণ্ডকারখানা, যার অন্তিমে রয়েছে নৃশংস মৃত্যু।

আপাতদৃষ্টিতে এইসব কাণ্ডকারখানা সম্পর্কহীন মনে হলেও সবগুলো এক সূত্রে গাঁথা। এবং যে এইসব কাণ্ড ঘটাচ্ছে সে নিশ্চই অশুভ কিছু কিংবা অপার্থিব কেউ! ঘৃণা, লোভ, হিংস্রতা, নৃশংসতার সমন্বয়ে লেখা পৈশাচিক এক উপাখ্যান ‘অপার্থিব’। আমি সাধারণত ভৌতিক উপন্যাস তেমন একটা পড়ি না। শুধু সুস্ময় সুমনের লেখা বলেই বইটি হাতে নিই। উনার লেখা মানেই দারুণ কিছু। এই বইটিও আমাকে নিরাশ করেনি। বেশ উপভোগ করেছি পুরোটা বই। সহজ সরল লেখনির মধ্যেই পৈশাচিকতা, ভায়োলেন্স নিয়ে এসেছেন চমৎকারভাবে।

একদম প্রথম পাতা থেকে পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখতে সক্ষম বইটি। অন্তত এটুকু বলা যায় পড়লে বিরক্তি আসে না মোটেও। ‘অপার্থিব’ হরর থ্রিলার। কলেবরে ছোট, তাই উপন্যাসিকা বলা যায়। বেশ কয়েকটা অধ্যায়ে সাজিয়েছেন পুরো কাহিনিটি। জটিল করেন নি কিছুই।  সহজভাবে বর্ণনা লিখে গেছেন এবং অবাক হয়েছি যে, এত সহজে এত্ত বেশি নৃশংস বর্ণনা দিয়েছেন যা পড়লে গা গুলানোর মতো অনুভূত হয়। থ্রিলারপ্রেমীদের জন্য অবশ্য এই ভায়োলেন্সগুলো বেশ উপভোগ্যই লাগবে। এডাল্ট জিনিসপত্রও ছিল। ভূতের গল্প পড়তে ভালোবাসে অথচ অপ্রাপ্তবয়স্ক এমন কারো হাতে বইটি দেয়া উচিত হবে না।

এক বসাতেই শেষ করার মতো এই বইটিতে ডিটেইলিংয়ের দিকে যাননি লেখক। বর্ণনা ভঙ্গি ছিল মেদহীন ঝরঝরে। তবে শেষ অংশে পাঠকদের মনে কিছুটা অপ্রাপ্তির অনুভূতি হতে পারে। ডায়রীটার উৎস কিংবা উৎপত্তিস্থলের ব্যাপারে আরেকটু বিস্তারিত বললে মন্দ হতো না। বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন সেলিম হোসেন সাজু এবং প্রচ্ছদটি চমৎকারভাবে বইয়ের কাহিনির সঙ্গে খাপ খাইয়ে গেছে। রিডার্স ব্লক কাটাতে, জার্নিতে কিংবা হুটহাট কোনও বই পড়তে চাইলে সুস্ময় সুমনের বই-ই হবে বেস্ট চয়েজ। এই বইটির ক্ষেত্রেও তা ব্যতিক্রম নয়।

অপার্থিব প্রকাশ করেছে বাতিঘর। ১৪৩ পৃষ্ঠার বইটির দাম ১৫০ টাকা।

একুশে বইমেলা ২০১৮