খাইরুল ইসলামের “সিনিয়র জুনিয়র”

মোহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ ফয়সল

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

জীবন চলার পথে প্রতিনিয়িত সিনিয়র-জুনিয়রদের মাঝে দ্বন্দ্ব এবং টানাপোড়া চিরন্তন, এটাকে মেনে নিয়ে, এটার মাঝে আপস করে চলতে যে পারে, ছাত্রজীবনের শেষ সময়টা কেটে যায় প্রভুত্বে!

 

কিন্তু, মাঝে মাঝে এই দ্বন্দ্ব এবং টানাপোড়া কারো কারো জীবনে করুণ পরিণতি বয়ে আনে। উপন্যাসে কেন্দ্রীয় চরিত্র রবি যেন তার প্রতিচ্ছবি।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের জুনিয়র ছাত্রনেতার নিমর্ম নিষ্ঠুরতা যেমন রবিকে ক্ষত-বিক্ষত করেছে, তেমনি সিনিয়র ছাত্রনেতার ব্যবহার, মানবতাবোধ, স্নেহ-ভালোবাসা রবিকে আপ্লুত করেছে বারবার।

 

অশ্রু ঝরিয়েছে অবিরত। প্রায়শ প্রতিনিয়ত সম্মুখীন হতে হয়েছে বাস্তবতার, যেখানে রাজনীতির অপঘাতে থাকা কিছু নামধারী ছাত্র বারবার অবমাননা করেছে সম্পর্কের নামাকরণকে!

 

একসময়, সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে বাধ্য হয়ে বেরিয়ে আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে রবি। নিজেকে আবারো নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিয়ে উঠে কিছু কৌশর পড়ন্ত ছেলের সাথে।

 

মেসে! সেখানেও যেন অসফলতা আর কষ্ট রবি’র পিছু ছাড়ে নি, মেসে থাকা এক সদস্যের বেহায়াপনার দরুণ রবিকে শেষমেষ অপমানিত হয়ে সেই রাতের মধ্যে ছেড়ে দিতে হয় মেস।

 

নিঃসঙ্গ রাত আর রবি, তখন একে অপরের সাথী, সঙ্গী!

কর্মজীবনের সফলতয়ার জন্য রবি যখন অন্যদের কাছে অনুকরণীয়, সিনিয়র সহকর্মীদের হিংস্র মানসিকরায় রবির জীবন ঠিক সে সময়ে এলোমেলো। আর এখানে বেশ বড় ভূমিকা রেখেছে রবির বিভাগের ছাত্রী যুথি।

 

সব হারিয়ে রবি ফিরে গেলো যুক্তরাজ্যে। পি,এইচ,ডি শেষ করতে ওখানে আবারো ঝড়ো হাওয়ার মতো দেখা হয় নিধির সাথে। নিধি রবির চেয়ে দুই বছরের সিনিয়র। চার বছর আগে সেই সমাজ ঘোষিত “মেয়ে বয়সে বড়, এমন মেয়েকে কি বিয়ে করা যায়?” এসব নীতিবাক্যের নিচে চাপা পড়ে নিধির ভালোবাসাকে প্রত্যাখান করেছিলো রবি!

 

নিজের ব্যক্তিগত পাঠ প্রতিক্রিয়ায় বলবো যে, আমাদের প্রতিদিনের বাস্তব জীবনে ঘটা ঘটনাগুলো এই বইয়ে তুলে ধরেছেন শ্রদ্ধেয় ও ভালোবাসার শিক্ষক খাইরুল ইসলাম স্যার।

 

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে হলগুলো রাজনৈতিক এক পৈশাচিক ছায়ার আঁচ পড়ে প্রতিটি ছাত্রের বুকে, যার দরুণ ধীরে ধীরে বিষাদ কালো মেঘে হারিয়ে যায় সেই কোমল শিক্ষার্থীগুলো! হলে থাকা জুনিয়র শিক্ষার্থীরা যখন রাজনীতির অপচ্ছায়া মিশে যায়, সিনিয়র নিরীহ শিক্ষার্থীর জীবনের নেমে আসে কালো অন্ধকার ছায়া।

 

লেখক সেগুলো খুব চমৎকার আর দারুণ চিত্রকল্পে এঁকেছেন, লিখেছেন।

একইসাথে, বইয়ের অন্যতম একটি চরিত্র, যেখানে সৃষ্টি হয় ভালোবাসার, মায়ার, শ্রদ্ধার। কিন্তু, সমাজের কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মের প্রাচীরে চাপা পড়ে যায় রবি’র সেই অনুভূতিগুলো। নিজেকে আপস করে নেয় সমাজের কালো শিকলে, ইট-পাথরের দেয়ালে!

 

লেখক খাইরুল ইসলাম স্যার খাইরুল ইসলামের এটি দ্বিতীয় সৃষ্টি। সাবলীল ভাষা, মিষ্টি উদ্ধৃতি আর বাস্তব জীবনের প্রতিটি দৃশ্যপটে এঁকেছেন বইটিতে। সমাজ জীবনের সম্পর্কের দৃষ্টিতে যদি মেয়েটি ‘সিনিয়র’ হয়, তবে কি সমাজ সেই প্রেমের সম্পর্কে মেনে নেয়?

মেনে নিবে?

তবে কি রবি পারবে না সমাজের প্রথাগত নিয়ম ভেঙে ভালোবাসার সেই মায়াময় চোখগুলোতে অটুট মিলন দেখতে?

 

প্রশ্নবিদ্ধ সম্পর্কের টানাপোড়নে সিনিয়র-জুনিয়র বর্তমান সময়ের প্রতিটি উঠতি বয়সী সম্পর্কে বেশ আলোড়িত করে বারবার, সবসময়।

 

বইপ্রেমীদের, রোমান্টিক বই ও বিচ্ছেদের বেদনা যাদের টানে, তাদের সবাইকে স্যারের এই অনন্য বাস্তব সামাজিক-রোমান্টিক উপন্যাস পড়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। বিন্দুমাত্র সময়ের ক্লেশ হবে না আপনার, কথা দিচ্ছি.....

ধারাবাহিক
একুশে বইমেলা ২০১৮