করোনা আপডেট
আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৩৪৫৮০৫ ২৫২৩৩৫ ৪৮৮১
বিশ্বব্যাপী ৩০৩৭৫৩৯৭ ২২০৬০০১৬ ৯৫০৯৮৮

চাঁদ সোহাগীর ডায়েরী

পর্ব ৪৬

শ্রেয়া চক্রবর্তী

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০

যারা অনেককে অনেক তেল মেরে ওপরে ওঠে, কিছুটা ওপরে ওঠা গেলেও এই ওপরে ওঠার মধ্যবর্তী পথের যে অভিজ্ঞতা, তা নিয়ে তারা নিজেরাও খুব বিক্ষুব্ধ থাকে। কারণ, এমনি এমনি কেউ কাউকে কিছু পাইয়ে দেয় না সচরাচর, এমনকি যোগ্যতা থাকলেও। এটা একধরনের টিজিং। কোথাও পৌঁছনোর তাড়া থাকলে মানুষ দাঁতে দাঁত চেপে সেগুলো সহ্য করে নেয়। কিন্তু ভেতর ভেতর পলেস্তরা খসতে থাকে। কারণ, একটা মিনিমাম আত্মসম্মান সবার আছে। থাকা উচিত।

অনেক তথাকথিত কবিদেরই সামনে থেকে দেখা, জানা ও অনুভব করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। জানা অর্থে সবসময়ই যে তাকে পাওয়া, এমন নয়। প্যাসিভ অবসার্ভেশন বলেও একটা ব্যাপার আছে। আমি সম্পূর্ণ অন্য কাজে ব্যস্ত থেকেও বা একটি কথা না বলেও একজনকে যেটুকু দেখার, দেখে নিতে পারি।

কবিতা লিখতে পারার যে শক্তি তাহলো মগজের একটা বিশেষ ফ্রিকোয়েন্সি। একটু একটু ছড়া বা কবিতার মতো হাবিজাবি একটা কিছু অনেকেই লিখে ফ্যালে। কিন্তু কবি সেই যার মগজ কোনও কোনও বিশেষ মুহূর্তে সেই বিশেষ ফ্রিকোয়েন্সির সাথে যুক্ত হতে পারে। কারো কারো এই বোধ বা অবস্থা এতটাই প্রগাঢ় যে, সে সারাজীবন সেই ভাবালুতার মধ্যেই কাটিয়ে দিতে পারে।

একজন কবিকেও খুব সাধারণ একটা জীবনও কাটাতে হয়। যেখানে তিনি বাজারে গিয়ে দর কষাকষি করেন। বাড়িতে উদোম ঝগড়া করেন। কোনও কোনও দিন তার পেট খারাপ হয়। সুতরাং অনেক কিছুই যা ঠিক কবিসুলভ নয়, সেসবের মধ্যে দিয়েও তাকে যেতে হয়। পার করতে হয় এমন অনেক সময় যেখানে নিজেকে কবি বলে দাবি করলে কেউ তাকে ছেড়ে কথা বলবে না। অতঃপর কবিতা নামক বিভ্রমকে লুকিয়ে রেখেও তাকে সন্তর্পণে একটা গড়পরতা জীবনের স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে রাখতে হয়।

যিনি কবিতা লেখেন তিনি কি করেন, এটা কোনও বিচার্য বিষয় নয়। তিনি জমিদারি করেন না বাজারে বসে মাছ বেচেন, নাকি কিছুই করার যোগ্য হয়ে উঠতে পারেননি, কবিতার বিচারের মধ্যে এসব বিচার এসে পড়ে তাদের যারা কবিকে ব্যক্তিগত ভাবে চেনেন। কিন্তু কবিতাটা তাদের জন্যই কেবল লেখা হয় না। কবির পরিচিতি যতক্ষণ না তুচ্ছ হয়ে যাচ্ছে ততক্ষণ কবিতার যথার্থ বিচার হবে কি করে? কবিতা তাই অবশ্য করেই অনাগত সময়ের জন্য লেখা হয়।

সবথেকে বড় কথা হলো, কবিতা লেখার মতো মনটাকে বাঁচিয়ে রাখা। যেটা মোটেও সহজ কাজ নয়। অনেকের শুরুটা কবির মতো হলেও শেষ অবধি আর হয়ে ওঠে না। সিঁড়ি টপকানোর উন্মাদনায় বড় হওয়ার তাড়ায় এগলি ওগলি হাতড়াতে হাতড়াতে এর-ওর পিছনে সময় খরচ করতে করতে এর থেকে ওর থেকে সমর্থন ও প্রত্যাঘাত দুই কুড়োতে কুড়োতে কবির ভেতরের শিশুটি কুঁকড়ে মরে যায়। কবির আলখাল্লার ভেতর তিনি তখন দানব হয়ে ওঠেন। কিংবা ভিখিরি।