জুলাই গণঅভ্যুত্থান: কামরুল ও মেননের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : জুন ২৩, ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হচ্ছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে এ মামলার ওপেনিং স্টেটমেন্ট বা সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে। এরপর প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দির মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণের ধাপ শুরু হবে। এর আগে ১৭ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল আজকের দিন ধার্য করেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ৩০ এপ্রিল কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে।

প্রসিকিউশনের আনা ৩টি প্রধান অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেনন বিভিন্ন উসকানি দিয়েছেন। তারা আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পদে থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং কারফিউ জারির প্ররোচনা দিয়েছেন।

তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের ফলস্বরূপ আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। যার ফলে রাজধানীর বাড্ডাসহ আশপাশের এলাকায় ২৩ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়।

রাশেদ খান মেননকে ২০২২ সালের ২২ আগস্ট এবং কামরুল ইসলামকে ২০২২ সালের ১৮ নভেম্বর গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।