থাইল্যান্ডে স্কুলে বন্দুক হামলায় নিহত ৭
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : আগস্ট ০৭, ২০২৬
থাইল্যান্ডের ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে আজ শুক্রবার বন্দুক হামলায় ৭ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছে।
ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেচ্রাফি কংদে বলেন, “সন্দেহভাজন বন্দুকধারী হামলার পর আত্মহত্যা করে।”
থাইল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আরসিত সাম্পানথারাত স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পিপিটিভিকে বলেন, “হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরও বন্দুকধারী কিছু সময় স্কুলের ভেতরেই অবস্থান করছিল।”
হামলার পরপরই স্কুলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যায়, স্কুলের বাইরে স্বজন ও শিক্ষার্থীরা একে অপরকে সান্ত্বনা দিচ্ছে। অন্যদিকে পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীরা স্কুল ভবনের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালাচ্ছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হামলার সময় অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তারা পাশের একটি ভবন থেকে একের পর এক গুলির শব্দ শুনতে পায়। পরে পুলিশ সদস্যরা কক্ষের দরজায় কড়া নেড়ে নিরাপদে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ১৮ বছর বয়সি এক শিক্ষার্থী বলেন, “শুরুতে আমি গুলির শব্দ চিনতে পারিনি। ধারণা হয়েছিল, কেউ হয়তো আতশবাজি ফোটাচ্ছে বা কোনো কিছুর ওপর আঘাত করছে। পরপর অনেক গুলি চলছিল। কিছুক্ষণ নীরবতার পর আবার গুলির শব্দ শোনা যায়।”
ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের দ্রুত স্কুল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। উদ্ধারকর্মীদের প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে স্কুল ত্যাগ করছে এবং বাইরে কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে আহতদের স্ট্রেচারে করে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে প্রায় ৩ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী এবং ১৪৭ শিক্ষক কর্মরত ছিল। স্কুলটি থাইল্যান্ডের রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত ডেবসিরিন স্কুল নেটওয়ার্কের অংশ।
এই নেটওয়ার্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষাবিদ ও খ্যাতিমান লেখকেরা পড়াশোনা করেছেন।























