প্রমথ চৌধুরীর ৪ কবিতা
প্রকাশিত : আগস্ট ০৭, ২০২৬
কবি, প্রাবন্ধিক ও কথাসাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীর আজ জন্মদিন। ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তার জন্ম। তার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে তার লেখা ৪টি কবিতা পুনর্মুদ্রণ করা হলো:
মধ্যরাত্রি
দ্যাখো সখি আঁধারের পানে
চেয়ে আছে দুটি শুভ্র তারা।
দুটি শিখা বিকম্পিত প্রাণে
চেয়ে আছে স্থিররাত্রি পানে,
আঁধারের রহস্যের টানে
দুটি আলো হ’য়ে আত্মহারা।
রাখো সখি জ্বেলে মোর প্রাণে
আলো ভরা দুটি কালো তারা।
ফুলের ঘুম
বরফ ঢাকিয়াছিল ধরণীর বুক
অখণ্ড শীতল শুভ্র চাদর পরিয়ে।
রাশি রাশি চন্দ্রালোক নিঃশব্দে ঝরিয়ে,
আপাণ্ডুর করে’ ছিল নীলিমার মুখ।
সেদিন ছিল না ফুটে শিরীষ কিংশুক,
গিয়েছিল বর্ণ গন্ধ সকলি মরিয়ে।
তুষারের জটাভার শিরেতে ধরিয়ে
বৃক্ষলতা সমাধিস্থ ছিল হয়ে মূক।
পাতার মৰ্ম্মর আর জল-কলরব,
হিমের শাসনে ছিল নিস্তব্ধ নীরব।
পৃথিবীর বুক হতে তুষার সরিয়ে
সেদিন দেখিনি আমি, কোথায় গোপনে,
সুযুপ্ত ফুলেরা সবে নয়ন ভরিয়ে
রেখেছিল বসন্তের রক্তিম স্বপনে!
উপদেশ
প্রিয় কবি হ’তে চাও, লেখো ভালবাসা,
যা’ পড়ে’ গলিয়া যাবে পাঠকের মন।
তার লাগি চাই কিন্তু দু’টি আয়োজন,—
জোর-করা ভাব, আর ধার-করা ভাষা!
বড় কবি কিম্বা হ’তে যদি তব আশা,
ভাবুক বলিবে তোমা জন-সাধারণ,
শেখো যদি সমাজের, করি প্রাণপণ,—
দরকারি ভাব, আর সরকারি ভাষা!
যত যাবে মাটি আর খাঁটিকে ছাড়িয়ে,
শূন্যে শূন্যে মূল্য তব যাইবে বাড়িয়ে॥
কবিতার জন্মস্থান কল্পনার দেশ,
সে দেশ জানেনা কিন্তু মোদের ভূগোল—
সত্যের সেখানে নেই কোন গণ্ডগোল,
দেহ নেই সেই দেশে, শুধু আছে বেশ!
গজল
নয়ন-গোলাপ তব করিতে উজ্জ্বল,
বুলবুলের সুরে আজি বেঁধেছি সেতার।
গাহিব প্রেমের গান পারসী কেতার,
ফুলের মতন লঘু রঙিলা গজল!
যে সুর পশিয়া কানে চোখে আনে জল,
সে সুর বিবাদী জেনো মোর কবিতার।
মম গীতে নত তব চোখের পাতার
সীমান্তে রচিয়া দিব দু’ছত্র কাজল!
বাজিয়ে দেখেছি ঢের বীণ ও রবাব,
পাইনি সে সুরে তব প্রাণের জবাব॥
আজ তাই ছাড়ি যত ধ্রুপদ ধামার,
চুট্কিতে রাখি সব আশা ভালবাসা।
দরদ ঈষৎ আছে এ গীতে আমার,—
সুরে ভাবে মিল আছে, দুই ভাসা ভাসা!























