করোনা আপডেট
আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৪০৪৭৬০ ৩২১২৮১ ৫৮৮৬
বিশ্বব্যাপী ৪৫৯২১৬৯৮ ৩৩২৫২২১৮ ১১৯৩৯০৯

মহাকালে রেখাপাত

পর্ব ২৮

স্বকৃত নোমান

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চুক্তি সই করেছে মুসলিম অধ্যুষিত দেশ বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি আরব-ইসরায়েল তো এখন ভাই ভাই। সকাল-বিকাল কোলাকুলি না করলে রাতে তাদের ঘুম হয় না। নতুন করে যে বাহরাইন ও আমিরাত চুক্তি করল, দেশ দুটির মুসলমানদের কি ঈমান-আকিদা বলতে কিছু থাকল? অধিকাংশ বাঙালি মুসলমান এখন বলবে, ‘ওরা প্রকৃত মুসলমান নয়।’ তা বাবা, সৌদিরা প্রকৃত মুসলমান নয়; বাহরাইন, আমিরাত, ইন্দোনেশিয়ার মুসলমানরাও প্রকৃত মুসলমান নয়, প্রকৃত মুসলমান আসলে কারা? জেহাদি জজবায় মুষ্ঠিবদ্ধ হাত ঊর্ধ্বে তুলে তারা জবাব দেবে, ‘আমরা, আমরাই প্রকৃত মুসলমান।’

তা এই ‘প্রকৃত মুসলমানদের’ স্বভাব-চরিত্র ও কৃতজ্ঞতা বোধ কেমন? একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানিরা যখন নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করল, তখন কোনো মুসলিম অধ্যুষিত দেশ বাঙালিদের পক্ষে দাঁড়ায়নি। মুজিবনগর সরকার প্রতিটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ও ইসলামি আন্তর্জাতি সংগঠন ওআইসির কাছে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা ‘মুসলিম উম্মাহর ভাঙন রোধে’ পাকিস্তানের সার্বিক স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর ছিল। কিন্তু ইসরায়েল কী করল? ইসরায়েলই প্রথম রাষ্ট্র, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। আর বাংলাদেশ কী করল? বাংলাদেশ ইসরায়েলকে নৈতিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করে না, বাংলাদেশি নাগরিকরা ইসরায়েলে ভ্রমণ করতে পারে না, বাংলাদেশের পাসপোর্ট ইসরায়েল ছাড়া বিশ্বের সব দেশ ভ্রমণের জন্য বৈধ। বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র সমর্থন করে এবং ইসরায়েলের ‘অবৈধভাবে প্যালেস্টাইন দখলের’ সমাপ্তি দাবি করে। এই হচ্ছে ‘প্রকৃত মুসলমানদের’ কৃতজ্ঞতা বোধ!

শুধু কি তাই? যদি বাংলাদেশের মুসলমানদের মধ্যে জরিপ করা হয়, পৃথিবীতে সবচেয়ে খারাপ মানুষ কারা? অধিকাংশের উত্তর হবে, ইসরায়েলের ইহুদিরা। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয়, কেন খারাপ? কেউ উত্তর দিতে পারবে না। উল্টো এই যে আমি লেখাটা লিখছি, এটা পড়ে কেউ কেউ বলে বসতে পারে, ‘এ লোক নিশ্চয়ই ইহুদিদের দালাল। টাকা খেয়ে তাদের পক্ষে লিখছে।’ তাদের এই মানসিকতার প্রধান কারণ, ইসলামে ইহুদি ও নাসারাদের বিরুদ্ধে এতই ঘৃণা ছড়িয়েছে যে, মুসলমানরা ইহুদি বলতেই খারাপ মানুষ মনে করে। অথচ এই ‘খারাপ মানুষরাই’ বলা যায় এখন পৃথিবীর নেতৃত্ব দিচ্ছে। লন্ডন টাইমস-এর ইহুদি সম্পাদক ডানিয়েল ফিঙ্কেলেস্টাইন তো বলেই ফেলেছেন, ‘ইসরায়েল লবি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ন্ত্রণ করে, সুতরাং ইহুদিরাই পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করে।’ শুধু তাই নয়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে ইহুদিরাই। এ পর্যন্ত নোবেল বিজয়ীদের শতকরা ২২ ভাগই ইহুদি।

সপ্তম শতক থেকে মুসলমান ও খ্রিস্টানদের হাতে মার খেয়ে আসা, পৃথিবীর দেশে দেশে পালিয়ে বেড়ানো জেরুজালেমের এই ভূমিপুত্ররা আরো এগিয়ে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা তো করবেই, পৃথিবীটাও নিয়ে নিতে পারে তাদের কবজায়। কেউ কিচ্ছু করতে পারবে না। কারণ, সংখ্যায় তারা এক কোটির কম হলেও জ্ঞান-বিজ্ঞান তাদের হাতে। কেবল সৌদি, বাহরাইন, আমিরাত কেন, একদিন দেখা যাবে সকল মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে ফেলেছে। তখন আমরা অকৃতজ্ঞরা কী করব? কী আর করব, পেছনের টুল থেকে হাত তুলে বলব, ভাই, আসেন কোলাকুলি করি। আপনার মতো ভালো জগতে দ্বিতীয়টি নেই। চলবে