রহিমা আফরোজ মুন্নীর উপন্যাস ‘ধুরন্ধর’
পর্ব-১
প্রকাশিত : জুন ২৫, ২০২৬
টুং টাং সুরের মিষ্টি আওয়াজের কলিং বেলের শব্দে ঘুম ভাঙে নিধি আর ইভানের। ‘স্বভাবতই খালা, আর কে!’ বলতে বলতে ইভানকে আস্বস্ত করে এলোমেলো নাইটির ওপর গাউন চাপিয়ে দরজা খুলে দেয় নিধি। ‘দুই কাপ গ্রীন টি দাও লাইব্রেরি রুমে।’ বলে বেড রুমে ঢুকে হ্যাঁচকা টানে ইভানকে খাট থেকে তুলে পাশের লাইব্রেরি রুমে ঢুকিয়ে দিয়ে সশব্দে নিজের বেড রুমের দরজা লাগিয়ে দিল। মৃদু স্বরে বলল, ‘থাকুক বসে হাঁদারামের ছানা হয়ে, পইপই করে বলেছিলাম রাতে থাকা যাবে না। কিন্তু উল্টা আমারই নাকি মগজ চাইছে। নানা কথা বুঝিয়ে ঠিকঠিক সে যা চাইছে, তা করিয়ে ফেলল বরাবরের মতো!’
বিরক্তির চড়া সুরে, ‘ধুরো, আসল হাঁদারাম তবে কে?’ ভাবতে ভাবতে ‘কে জানে!’ আবারও বেশ চড়া শব্দে হাঁক পাড়ে নিধি, খানিকটা সময় নিয়ে ধাতস্থ হয়ে ফিসফিসিয়ে বলতে গিয়েও থেমে ভাবতে থাকে, হয়তো এই রকম প্রতিক্রিয়া কাঙ্ক্ষিত পরস্পর দুজনের জন্যই, যারা একে অন্যকে বুঝবার দায় দিয়ে রেখেছিল বিনা বুঝে। ‘ধুরো’ আবারও গলা চড়ে যায় নিধির, কেউ নাই আশপাশে, তবুও নিজের সাথে এইসব আলাপচারিতা পারে তো যেখানে সে ভাবতেই চায় না সেখানে স্পষ্ট উচ্চারণে নিজেরই কানের রোম খাড়া করানোর অস্বস্তি কাহাতক সওয়ানো যায়!
বিরক্তিভাব এড়ানোর জন্য দুই হাত মাথার চুলে বুলিয়ে নিজেকে রুমের আয়নায় দেখতে থাকে নিধি। হালকা কোকড়ানো চুলের ভেতর থেকে সদ্য ঘুম থেকে উঠা ফোলা মুখ দেখে তার মনে পড়ে গতরাতের চুমুগু্লোর বাড়াবাড়ির বহর। আয়নায় হাতের ঝাপটায় আবারও বলে ওঠে, ‘ধুরো।’ এবার খানিকটা ফিসফিসিয়ে। কারণ, এর মধ্যেই পা থেকে মাথা অব্দি পুরো শরীরে সুখের শিহরন টের পায়, আনন্দে নাচের ভঙ্গিমা চলে আসে অজানিতেই। কিন্তু দরজার মৃদু ঠকঠক শব্দ সব ভুলিয়ে দ্রুত পা দুটোকে দৌড়ে নিয়ে দাঁড়ায় বাথরুমের বেসিনে। মুহূর্মুহ পানির ঝাপটায় ঝরাতে থাকে উত্তেজনা।
আয়নার চোখে চোখ ফেলে নিজেকে মৃদু শাসায় নিধি, কিন্তু কে মানে কার শাসানি! ঠাণ্ডা পানির স্পর্শের আদরে ভাবনারা আবারও তাকে ফাঁদে ফেলে ফিসফিসিয়ে ডালপালা ছড়াতে দেয়। আর এইসবের প্রতিক্রিয়ায় একজনে যদি ঝাপসা দেখে তার বিপরীতে অন্যে স্পষ্ট দেখলে তাই নিয়ে বিছানা বালিশ খাট থেকে লাফঝাফ কেন দেবে মেঝেতে! রাতে ইভানের মেঝেতে ড্রাইভ মারা যে স্রেফ লোক দেখানো ছিল, বুঝতে সকাল লাগলো বলে ঠাস করে আবারও গলা চড়ে যায় নিধির, ‘আমি বুঝতে চাইও না!’ বাথরুমের আয়নায় রুমের ভেতরটা দেখা যাচ্ছিল আর সেখানে গতরাত ধরে এই সকাল পর্যন্ত হওয়া ঘটনার রেশ তার নাচের ভঙ্গিমায় দাঁড়ানো শরীরটাকে সরল রেখার একটানে সোজা করে নিয়ে এলো বর্তমানে।
মুহূর্তেই ঝটপট দুই গালে দুটো চড় দেয়া সারা, যাতে ব্যথা নেই; কিন্তু বর্তমান খুব বুঝদার আর তার সাথে মানিয়ে টনটনে চোখ জোড়াও। ফলে অজুহাতের মুখ বন্ধ করে একটানে টানটান চাদর বালিশও।
২.
না, কোথাও কোনো অগোছালো ভাব নেই। এক নজরেই নিশ্চিন্ত হয়ে পরিপাটি নিধি লাইব্রেরি রুমে ঢুকেই হোঁচট খায়। ইভান দুই হাত জড়ো করে কাপ ধরে ঠোঁট গোল করে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভীষণ কিছু একটা শুরুর, বিরক্তির ভ্রু জোড়া করে চেয়ার টেনে ইভানের মুখোমুখি হওয়া এড়িয়ে নিধি বসল পাশাপাশি। জানে, চায়ের কাপে কোনো ঝড়বৃষ্টি নেই, এমনকি বাতাসেও নেই বাড়াবাড়ি, তবুও প্রস্তুতি নেয় নিস্তব্দতা ভাঙচুর করে সুড়ুৎ সুড়ুৎ টানের শুরুর অগোছালো শব্দের শুরু হবার। নিধির আগাম প্রস্তুতিকে হার মানাতেই যেন গেল বারের চেয়েও তীব্র সুড়ুৎ সুড়ুৎ শব্দে ঢেকে যায় আশপাশের রোজকারের আওয়াজ। তারপর সামান্য বিরতি যেন নিধির কানকে সয়ে নিতে দিতে না দিতেই আবারও সর্বস্ব ভাঙচুর করে ইভানের সুড়ুৎ সুড়ুৎ টান।
নিধির জোড়া ভ্রুয়ের দিকে তাকিয়ে শেষ হওয়া্র ইঙ্গিত দিল। কিন্তু বরাবরের মতো সেটা ইঙ্গিতসর্বস্ব হয়েই অনন্তকাল ধরে বাজতে থাকবে মনে হলো নিধির। ধৈর্য হারাবার ঠিক আগে আগেই শেষ সুড়ুতের বিশেষ টানের চেনা প্রতিধ্বনি নিধির কানে ভনভন বাজিয়ে আস্বস্ত করল, ‘যাক, বাঁচা গেল।’ জোড়া ভ্রু শিথিল করে চেয়ারে আরাম করে বসে নিজের জন্য চা বানাতে হাত বাড়িয়ে নিয়েই আবার গুটিয়ে নিল নতুন দৃশ্যের অবতারণায়, ইভানের হাত এবার বড় সাইজের দুটো বিস্কিট একসাথে মুখে পুরে দাঁত-মুখ ফাটিয়ে চাবাচ্ছে কচর মচর শব্দে, যেন দাঙ্গা বেঁধে গেছে মুখগহবরে, ফাঁকফোকরে হা মুখের ভেতর থেকে জিভে বিভিন্ন রংয়ের ঝিলিক ঝলকাচ্ছে, সাথে আটার দলা বাদাম কিসমিস চকলেট সব মিলিয়ে ঘোঁট পাকিয়ে ধীরে কুড়মুড় শব্দেরা নিস্তেজ হতেই ফিঁচেল হাসির মুখে নিধির উদ্দেশ্যে, ‘কেমন শুনলে অর্কেস্ট্রা?’
নিধি চোখ না সরিয়ে নির্লিপ্তভাবে বলল, ‘স্বাভাবিক সৌন্দর্য ব্যাপারটা এমন কোনো বিশেষ জ্ঞানের বিষয় নয়, অন্যের অনুভূতির প্রতি মর্যাদা আর অন্যের কাছ থেকে নিজের অনুভূতির মর্যাদা নিশ্চিত করা স্রেফ।’
ইভান ঘর কাঁপিয়ে হাসতে হাসতে বলল, ‘একটু কম সুশীল হলে জীবনকে উপভোগ করতে শিখতে নিধি, সামান্য মজাটাও হজম হয় না তোমার। অথচ অর্কেস্ট্রা ছিল তোমাকে নিবেদন করতেই।’ বলা শেষ করে সিরিয়াস চোখে নিধির দিকে তাকায়, ইভানের নির্লজ্জতায় নিধির সন্দেহ হয় নিজের বোধবুদ্ধির ওপর। ভাবতে গিয়ে তীব্র হোঁচট খায়, এই রকম স্থূল মানসিকতার কাউকে কী ভেবে নিজের জীবনে জড়াচ্ছে, জড়াবে? পাশে বসে চা খাবার ইচ্ছে চলে গেছিল নিধির। কিন্তু শান্ত হয়ে ভাবলো, ইভানকে বুঝিয়ে বলা দরকার তার অস্বস্তির বিষয়ে।
সে বলল, ‘শোনো, মুখ হা করে বা শব্দ করে খাওয়াটা এমন কোনো অপরাধের বিষয় নয়, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে আমার অপছন্দের জেনেই করাটা তোমার অপরিমিত বোধের পরিচয়, যেখানে তোমার দরকার আমার অনুভূতিকে গ্রাহ্যে আনা, উল্টো সেটাকেই হাতিয়ার বানিয়ে কাটাকাটি খেলার মজা শেষতক আর মজা থাকে না। যাহোক, এই নিয়ে বলা বাদ। কারণ, বিষয় সামান্যই, তবে বিশেষ যেটা বলা এড়িয়ে যাই তোমাকে আঘাত দিতে চাই না বলে সেইটা শোনো, আমাদের স্ট্যাটাসের বিস্তর ফারাক আছে—এই সত্যি জানি দুজনেই, আর জানি বলেই তোমার ইনফিরিয়র কমপ্লেক্সগুলো স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়েছি। প্রতিক্রিয়া আমারও হয়, কিন্তু তুলনায় ভালো অবস্থানে আছি বলে তোমার চোখে এটাও আমারই দোষ, মানি আর তাই নিজের জন্য ছাড়ও রাখিনি। অথচ দূর্বলতাগুলো হলো তোমার কিন্তু সেটা ঢাকবার চেষ্টাটা আমার, জানি যে দূর্বল বলে তোমাকে অপমান করাটা অনৈতিক। তাই সবলের দায়িত্বজ্ঞানে নিজের অপমান নৈতিক এও মেনে নিয়েছি, তোমার দায়িত্বজ্ঞানহীনতার নাম সরলতা নাহয় নির্দোষ মজা, তাই তোমার ওপর ভরসা করবার বেলায় সে দোষও চাপে আমার ওপর। তুমি ভাবো যে, অপমান না স্রেফ মজা। তাই তোমার নীচতাও নাই। কারণ, সেটাও থাকে আমার মতো সুশীলদের, নিজের দুর্বলতাগুলো নিয়ে এত সবল আর উদ্ধত কাউকে আমি এর আগে দেখিনি।’
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলতে বলতে নিধি টের পায়, তার আওয়াজের রেশ ঘরজুড়ে গমগম ভাপ ছড়াচ্ছে। তাকিয়ে দেখে, ইভান মাথা নিচু করে বসা। নিধির কথা শেষ হলে আড়ষ্টভাব নিয়ে উঠে দাঁড়ায়, মুচকি হাসিতে তাকিয়ে নিধির উদ্দেশ্যে বলে, ‘দোষ সব কয়টাই ধরলে কিন্তু একটাই যে গুণ তা গাইলে না।’ ইভানের হাসিতে নিধির কোনো ভাবান্তর হয় না দেখেও ইভান আরও চড়া হাসিতে বলে, ‘আমার শরীরের কোথাও গর্ব নাই তাই কোনো ফাটাও নাই দেখো।’
নিধি বিরক্তিভরে বলে ওঠে, ‘এইটা ঠিক।’ ঘাড় নেড়ে সায় দেয় ইভানও, নিধির বিরক্তি অগ্রাহ্য করে বলে, ‘তোমাকে হাসাতে চাইলাম একটু, এর বেশি সাধ্য যে আমার নেই!’ কথা শেষ করে কিছুটা ইতস্ততভাবে এক পা দুই পা করে নিধির মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়িয়ে হাত দুটো ধরে বলল, ‘সরি, সবকিছুর জন্য এমনকি যা আমি করিওনি! তবে তুমি যে মজা করবার মধ্যেও পরিমিতবোধ জরুরি মানবে, ভাবিনি। অথচ মজা হয়ই এইসব বোধের ব্যাধি থেকে মুক্ত হলে।’
ইভানের কথা কেড়ে নিয়ে নিধি জোর গলায় বলল, ‘মজারও সীমারেখা আছে, কারোর অভক্তির বিষয় সেই কারোর জন্য কিছুতেই মজার নয়, আর সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ যেই বিষয় অগ্রাহ্য করে যাচ্ছ তা হলো আমার পেশা আর নেশার প্রতি স্থূলতা দেখানো, যেই খাবারকে কেন্দ্র করে আমার পেশা তার প্রতিটি স্তর আমার কাছে শিল্প, আর সেটা রান্না থেকে শুরু করে চিবিয়ে খাওয়ার স্বাদ নেয়া পর্যন্ত, সবটাই।’
ইভান ঘাড় নেড়ে সায় দিল। চেয়ারে বসে শব্দ না করে চায়ের কাপে চুমুক দিল, ‘ঠিক ছিল?’
নিধি উত্তর দিল না দেখে নিধির কাপ সামান্য এগিয়ে দিয়ে মৃদু স্বরে বলল, ‘মজাটা মজা ছিল না মানছি, কিন্তু বিশ্বাস করো নিধি, বাদবাকি যা বললে তা তোমার ভুল ভাবনা, আমার অবস্থান নিয়ে আমি খুশি। তোমাদের স্ট্যাটাস কিংবা এর তার আমার চাইতে অল্প বেশি কিংবা বেশ বেশি এইসব নিয়ে আমি ভাবিইনি। কারণ, দরকারই পড়েনি। সেটাও অবশ্য তোমার অনুগ্রহে। তবে হ্যাঁ, তুমি এটাও মানবে যেচে পড়ে চাইনি কখনোই। তবে তোমার ভালবাসা পাবার সীমাহীন চাহিদার কাছে নতজানু হয়ে আজও তা চেয়েই যাচ্ছি আর সেটায় কতটা সত্য তা তুমিও জানো। কিন্তু তার মধ্যেও লোভ ছিল না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি। তাই হীনমন্যতা থেকে তোমাকে আঘাত করে বলা প্রতিটা শব্দের জন্য সরি। তবে আমার কিন্তু কিচ্ছু মনে নেই।’
বলেই শব্দ করে হাসলো ইভান। হাতে এবার একসাথে তিনটা বিস্কিট, ‘তোমার শিল্পের ব্যাঘাত না ঘটিয়ে খাবো, কথা দিচ্ছি।’
নিধি নিষ্প্রাণ ভঙ্গিতে তাকিয়ে ভাবতে লাগল, মুহূর্তেই মিটমাট করা সারা ইভানের। নিধির সন্দেহ হলো, সে কিসের মিটমাট সেরে আবার খাওয়ায় মন দিয়েছে, তাও ঠিকঠাক মনে করে বলতে পারবে না। হাল ছেড়ে নির্বিকার ভঙ্গিতে নিধি কাপে চা ঢেলে টুংটাং শব্দের জোর বাড়িয়ে ইভানের শব্দ করে খাওয়ার বিষয়ে তার মত পাল্টাবে ভাবলো, মুখ চোখের পেশীতে নানা রকমের ক্যারিকেচারে চকাস চকাস শব্দ আর দুই মুঠো পরিমাণ হা করা একটা গর্ত ওপর-নিচ করছে বিনা বিরতিতে। কেননা তাকে দ্রুত নিষ্পেষিত করতে হবে তিনটা বিস্কিট, তাও আবার একই তালে আর ঘোষিত না হলেও এইটা প্রতিযোগিতা ভেবে নিলে ইভানের জন্য আরও ইন্সপায়ারিং যে সন্দেহ নেই, সাথে নিধির জন্যও যেহেতু খাবারের শব্দ দূর্ঘটনা নয়, তা আর অঘটন লাগবে না নিধির কানেও।
ভাবতে ভাবতে কুচুর মুচুর শব্দের তালে তালে নিধি পা নাচাতে নাচাতে ইভানের দ্বিতীয় পর্বের তিনটা বিস্কিটও শেষ। এত দ্রুত শেষ হওয়ায় হতাশা চায়ের কাপে ঝেড়ে নিধি ভাবলো, শব্দের গুরত্ব নিয়ে এত বলায় একবিন্দু লাভও তো হতে পারত, অন্তত তিনটা বিস্কিটের বদলে প্রথমবারের সমানে না হয় সম্মানে দুটোই একযোগে প্রবেশ করত, কচর মচর হয়তোবা ঢিমেতালে হতো, হয়তোবা দ্বিতীয়বার অন্তত মাইনাসে থাকতে হতো না, চেষ্টা করেও ইভানের জন্য প্লাস যোগ করা যাচ্ছে না। অথচ নিধির কাছে তার প্রত্যাশা সীমাহীন বলতেও আটকাচ্ছে না কোনো দিক থেকেই।
নিধি এইবার শেষ চেষ্টা হিসেবে শব্দের বিষয়টা নিয়ে পজিটিভলি ভাবতে চাইলো। কাপে আবারও চা ঢেলে ইভানের চোখ এড়িয়ে অযথাই টুং টাং শব্দের বাহানায় ব্যস্ততা দেখিয়ে ভাবতে থাকলো, যাকগে, শব্দ করে খাওয়া এমন দোষের মধ্যে নয় যে, তাকে অপরিমিত বোধের বলে মাইনাস পয়েন্ট দিয়ে যেতে হবে, মাঝে মাঝে মৃদু শব্দের বেলায় প্লাস পয়েন্ট পেলে ব্যালেন্সড হতে আর কতক্ষণ। তাছাড়া প্লাসের প্রতি ঝোঁকে ঝাঁকি ভরে উপুড় হতে সেও নাহয় আরেকটু বেশিক্ষণই লাগাবে।
ভাবতে ভাবতে নিধি অজান্তেই বলে ওঠে, ‘বাহ!’ আর ঠিক তক্ষুনি সুড়ুৎ সুড়ুৎ শব্দের টানে নিধি নিশ্চিত হয়, এই পর্বের টান আগের পর্বের চাইতেও দ্রুতগতির।
‘আবারও মাইনাস!’ বলে সশব্দে হাতের কাপ টেবিলে নামিয়ে নিধির রীতিমতো কান্না পায়। মুখ দুই হাতে চেপে আর কিছু বলবে না ভেবেও বলেই ফেলে, ‘তুমি আর পরিমিত শব্দটা রেললাইনের মতো যারা পাশাপাশিই থাকে কিন্তু কখনো একসাথে মিলে না।’ ইভান মুচকি হেসে নিধিকে বলে, ‘হতে পারে তারা মিললো না ভাব ভালবাসা নাই বলে।’ নিধির চোখে রাগ টের পেয়ে এইবার ইভান সিরিয়াস সুরে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলে, ‘এইভাবে একপাক্ষিক ভাবনা তো একমাত্র মহামান্য নিধির বলায় সত্য প্রমাণিত হয়ে যায় না, উপরন্তু যে কারোরই নিশ্চিত জানার কথা না অন্যের বেলায় তার জানার হিসাব কতদূর যায় বা আসে।’
নিধি ঘাড় নেড়ে সায় দেয়। ভাবে, পরিমিত বোধের অনুভব থাকাটা তার মতে আবশ্যিক বলে ইভানেরও একই মত হবে, এই আশা করাটাও তবে একই দোষে দুষ্ট! চলবে
























