ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত ১৬৪, কংক্রিটের নিচে অসংখ্য মানুষ
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : জুন ২৫, ২০২৬
পরপর দু’বার ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার কাতিয়া লা মার শহরে ধসে পড়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবন। ধসে পড়া এসব কংক্রিটের নিচে এখনও জীবন্ত চাপা পড়ে আছে বহু মানুষ। সারা রাত ধরে স্বজনরা প্রিয়জনদের খুঁজে বেড়ানোর চেষ্টা করলেও, সেখানে এখনও পৌঁছায়নি কোনো সরকারি উদ্ধারকারী দল।
নিজের ধসে পড়া বাড়ির সামনে বসে আছেন ৪৯ বছর বয়সী ল্যারি রোজাস। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছে তার কয়েকজন আত্মীয়। ল্যারি অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। ধসে পড়া এই ভারী কংক্রিট সরানোর মতো সামান্য শারীরিক শক্তিটুকুও আমাদের অবশিষ্ট নেই।”
একই রকম বুকফাটা আর্তনাদ আরেক মায়ের। তার ফুটফুটে মেয়েটি একটি ১২ তলা ভবনের নিচে আটকে আছে। ভূমিকম্পের পর ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোনো উদ্ধারকর্মীর দেখা মেলেনি। এই মা বলেন, “ভেতরে মানুষ এখনও জীবিত আছে। তারা বাঁচতে চাইছে! কিন্তু তাদের উদ্ধার করতে কেউ এগিয়ে আসছে না।”
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে প্রথম ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্পটি কাঁপিয়ে দেয় গোটা অঞ্চলকে। এই জোড়া আঘাতের পর পুরো শহরটি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে যায়।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সর্বশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৬৪। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ও ভবনের আঘাতে আহত হয়েছে ৯৭১ জন।
সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকাদের বেঁচে থাকার আশাও তত ক্ষীণ হয়ে আসছে। স্বজনদের একটাই আকুতি, দ্রুত যেন সেখানে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়।
























