রহিমা আফরোজ মুন্নী
রহিমা আফরোজ মুন্নীর নভেলা ‘ধুরন্ধর’
শেষ পর্ব
প্রকাশিত : জুলাই ০২, ২০২৬
১৪.
রাত ৩টা প্রায়। ওটির বাইরে ক্লান্ত চেহারায় ড. বিভাস নার্স রিফাতের খোঁজ করে। অন্যান্য নার্সরা ইশারায় এর-ওর সাথে চোখ টিপে মুখ টিপে হাসে। বিভাস ইন্টার্ন এক ডাক্তার কে বলে, ‘আমি রুমে যাচ্ছি। ঝামেলা হলে ডাক দিয়ো।’
রুমে ঢুকে কাবার্ডের ভেতর থেকে ছোট বোতলে আনা জুস মেশানো ভদকা গিলে ফেলে ঢকঢক করে। এমন সময় রিফাত নতুন এক নার্স নিয়ে চেম্বারে ঢুকে বলে, ‘স্যার আমাকে ডেকেছিলেন?’
বিভাস বলে, ‘ওটিতে যে কয়জন পেশেন্ট আছে তাদের ফাইলগুলো নিয়ে আসো।’
রিফাত বলে, ‘ঠিক আছে স্যার।’ তারপর সাথে থাকা সিস্টারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়, ‘এর নাম রুমকি, আজই জয়েন করল। আপনার রুমটা গুছিয়ে দেবে চট করে। আর আপনি তো এখন রেস্ট করবেন, তাই না?’
রিফাত মুখে বিশেষ হাসিতে ভরিয়ে চলে গেল। বিভাস কাবার্ডে বোতল রাখতে গেলে চট করে রুমকি দুই হাত দিয়ে তার বুকটাকে আরও একটু প্রকাশ্য করতে গেলে ওপরের বোতামটা ছিঁড়ে গিয়ে পড়ল বিভাসের টেবিলে। কাচের গায়ে পড়ায় বেশ শব্দই হলো।
বিভাস ঘুরে টেবিলের কাছে এসে বোতামটা হাতে নিয়ে বলল, ‘হোয়াট অ্যা কোইন্সিডেন্স, মাত্রই ভাবছিলাম ওদের কথা।’ বলতে বলতে এগিয়ে আসে রুমকির খুব কাছে। হাত দিয়ে রুমকি তার আগানোকে থামিয়ে দেয়, ‘স্যার, ফাইল নিয়ে এক্ষুনি আসবো।’
রুমকির হাত দুটো ধরে সামান্য টান দিতেই ব্যথায় বলে ওঠে, ‘উফফ!’
বিভাস হেসে ছেড়ে দেয় হাত দুটো। বলে, ‘পরখ করলাম কতখানি নিতে পারবে।’ বলে আবারও কাবার্ডের কাছে এগিয়ে গিয়ে ঢকঢক করে গলায় ঢেলে দেয় পুরোটা। বেসামাল হয়ে চেয়ারে বসে। জিজ্ঞেশ করে, ‘কোথায় থাকো তুমি?’
রুমকি অদ্ভুত উত্তর দেয়, ‘আপনি একটা ব্যবস্থা করে দেন স্যার।’ বলে এগিয়ে এসে বিভাসের চেয়ারের পেছনে দাঁড়ায়, কাবার্ডের ভেতর বোতলটা যথাস্থানে রেখে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিভাসের ঘাড়ে ম্যাসাজ করতে থাকে। আরামে বিভাস বলে ওঠে, ‘তুমি তো ভীষণ চালু।’ বলেই তাকে টেনে নেয় কোলের কাছে। ব্যালেন্স না রাখতে পেরে ধপাস করে চেয়ার উল্টে পড়ে যায় মেঝেতে। সেই অবস্থায় তাকে চুমু খেতে যায়।
আওয়াজ পেয়ে চেম্বারের ভেতর ঢুকে পড়ে ইন্টার্ন এক ডাক্তার। অপ্রস্তুত হয়ে বলে, ‘সরি স্যার।’ নিমিষে এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতালে।
১৫.
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ড. চৌধুরীর অফিস রুম। নিধি নক করে ঢোকে। স্যার ইশারায় চেয়ারে বসতে বলে। নিধি দাঁড়ানো অবস্থায়ই বলতে শুরু করে, ‘স্যার আমাকে সুযোগটা দিন। অনেকগুলো কারণে আমার এই মুহূর্তে দেশের বাইরে যাবার প্রয়োজন হয়েছে এটা ঠিক। কিন্তু সেসবের চাইতেও বড় কথা, এই সাবজেক্টে পিএইচডি করতে চাইছি বিষয়টা আমার পছন্দের বলেই। আর এতটা প্যাশনেট আর কারও পক্ষে হওয়া সম্ভব নয়, সেটাও আপনি ভালো জানেন।’
স্যার মাথা চুলকালো খানিকক্ষণ। কপালের দুই পাশে হাত দিয়ে টিপলো উদ্বিগ্ন ভঙ্গিতে। খুক খুক করে কাশলো। পানি খেলো। তারপর বলল, ‘নিধি মাই ডিয়ার, তুমি জানো সব মিলিয়ে স্কোরে সবচেয়ে এগিয়ে ইভান। রচনাতেও সর্ব্বোচ্চ নম্বর সে পেয়েছে।’
নিধি বলে ওঠে, ‘কিন্তু আমার অনার্স আর মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস, যেটা ইভানের নেই।’
মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দেয় ড. চৌধুরী। বলে, ‘এক্সট্রা কারিকুলাম বিষয়ে ফটোগ্রাফিতে সে এগিয়ে। আর তুমি ফটোগ্রাফির ফ পর্যন্ত জানো না।’
জ্বলে উঠল নিধি। বলল, ‘হ্যাঁ, সেটা ও খুব ভালো জানে। কারণ ন্যাংটো মেয়েদের ছবি তুললেই সেটা খুব আর্টিস্টিক হয়।’
স্যার মাথা নেড়ে না না করে বলে ওঠে, ‘ভুল বলছ এবং বুঝছ তুমি নিধি। যাহোক, আমি বিষয়টা পর্যালোচনা করে দেখি। এখন তুমি আসো।’
হনহন করে দরজার দিকে আগালো নিধি। ড. চৌধুরী পিছন থেকে ডাকলেন, ‘মোবাইল রেখে যাচ্ছ তুমি।’
মোবাইলে ঠিক তক্ষুনি কল আসলো অনামিকার। হাতে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে কল ধরল। অনামিকা বললো, ‘একটু বিরক্ত করছি ম্যাম, আমাদের দুজনকে মানে আমি আর তনু একই রুমে শিফট হতে চাইছি। আপনি ব্যাপারটা দেখবেন বলেছিলেন, মনে করিয়ে দিতে কল দিলাম।’
নিধি হাঁটতে হাঁটতে তার রুমের দিকে যেতে যেতে বলল, ‘এক্ষুনি ডিপার্টমেন্টে আসো, সরাসরি রুমে আসবে।’
অনামিকা বলল, ‘আমি আপনার রুমের সামনেই ম্যাম।’
কথা বলতে বলতে রুমের সামনে এসে অনামিকাকে দেখে এক রকম টেনেই রুমের ভেতর ঢুকালো নিধি। বলল, ‘জরুরি আলাপ আছে তোমার সাথে। বাইরে কেউ আছে কিনা, দেখে নিয়ে দরজা লক করে এসে বসো।’
নিধি বলতেই অনামিকা রুমের বাইরে এক ঝলক দেখে এসে চেয়ার টেনে নিধির সামনে বসল বেশ অস্বস্তি নিয়ে। নিধি সরাসরি জিজ্ঞেশ করল, ‘ইভানের থেকে কত টাকা পাও তুমি?’
অনামিকা হাতে গুনে বের করবার চেষ্টা করতেই নিধি বলল, ‘এত গুনতে হবে না, আনুমানিক কত হবে?’
অনামিকা বলল, ‘হাজার বিশেক তো হবেই, কেন ম্যাম?’
নিধি ব্যাগ খুলে গুনে গুনে দশ হাজার টাকা অনামিকার দিকে ঠেলে দিল। বললো, ‘বাকি দশ পেয়ে যাবে দুই চার দিনের মধ্যেই। আর হোস্টেলের রুমের ব্যাপারটা বলে দেব সুপারিন্টেন্ডেন্টকে। একটু সময় লাগবে একই রুমে ব্যবস্থা করতে, কিন্তু হয়ে যাবে।’
অনামিকা বিস্ময় আর খুশিতে হতভম্ব হয়ে যায়। বলে, ‘থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ ম্যাম, কিন্তু টাকাটা আপনি দিলেন কেন?’
নিধি বলল, ‘বলছি।’ বলেই এক গ্লাস পানি খেল ঢকঢক করে, ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে টেবিলে রাখল। শাড়ির আঁচল টেনে মুখ মুছল। স্পষ্টই টের পাওয়া যাচ্ছে তার অস্বস্তি।
অনামিকা তাকে সহজ করার জন্য বলল, ‘আপনি নির্দ্বিধায় আমাকে যে-কোনো ব্যাপারে বলতে পারেন। আমি আপনার কাছে বহু বিষয়ে কৃতজ্ঞ। আর ঋণী থাকতে আমার ভালো লাগে না। আপনার কোনো উপকারে আসলে মনে করব, কিছুটা শোধ হলো।’
অনামিকার কথার মাঝখানে উঠে পায়চারি করছিল নিধি। তার কথা শেষ হতেই এসে চেয়ারে বসল মুখোমুখি। বলল, ‘তোমাকে একটা কাজ করে দিতে হবে আমার জন্য। আর সেটা যেন সম্পূর্ণ গোপন থাকে।’
অনামিকা সিরিয়াস হয় এবার, ‘আপনার জন্য যে-কোনো কিছু করতে পারি ম্যাম, বলেন।’
নিধি কোনো রাখঢাক না করেই বলল, ‘ডিপার্টমেন্টের হেডের কাছে ইভানের নামে কমপ্লেইন করবে যে, ছবি তুলবার কথা বলে সে তোমাকে সেক্সুয়ালি হ্যারাস করেছে।’
প্রচণ্ড বিস্ময়ে অনামিকার মুখ হা হয়ে যায়। সে জানতো ইভান স্যার আর নিধি ম্যাম বিশেষ কোনো সম্পর্কে আছে। অথচ ম্যাম চাইছে স্যারের বিরুদ্ধে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের কমপ্লেইন করতে! যা আবার মোটেও সত্যি নয়।
অনামিকা বলে বসল, ‘আপনাদের বন্ধুত্বটা খুব গভীর বলেই জানতাম ম্যাম।’
নিধি বলল, ‘হ্যাঁ, সেইজন্য শত্রুতটাও গভীর।’
আরেক গ্লাস পানি খেলো নিধি। অনামিকার উত্তরের অপেক্ষায় সে। অনামিকা বললো, ‘এত বড় মিথ্যা আমি কী করে বলব ম্যাম, যেখানে স্যার কখনোই বিন্দুমাত্র হ্যারাস করেনি আমাকে। উল্টো স্যারের বাসায় আমি আর তনু প্রায়ই যেতাম। ফ্ল্যাটের চাবি বেশ কয়েকবারই আমাকে দিয়েছে স্যার।’
নিধি ঠাণ্ডা স্বরে বলল, ‘তোমাকে হ্যারাস করেনি তুমি লেসবিয়ান বলে। কিন্তু তাতে প্রমাণ হয় না যে, তোমার স্যার মহাপুরুষ। শুধু তোমার ছবিগুলো প্রমাণ হিসেবে কাজের বলেই তোমাকে ভিক্টিম সাজানো। নাহলে তার অন্যান্য ঘটনাগুলোও কম যথেষ্ট নয়।’
অনামিকা অবাক হয়ে বলে ওঠে, ‘কার কথা বলছেন ম্যাম?’
নিধি জবাব দেয়, ‘অনেকেই আছে, কাকে ছাড় দেয়! ম্যানিউপুলেট করার উস্তাদ সে। ছবি তোলার নাম করে ঘনিষ্ঠতা তো আছেই, এক্সট্রা কারিকুলাম ক্লাসের সিনিয়র স্টুডেন্ট প্রিয়তির সাথে তার মেলামেশা গ্রহণযোগ্য নয়। আফটার অল সে একজন টিচার।’
অনামিকা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। স্যারকে সে চেনে অনেক দিন ধরে। তার ছেলেমানুষী স্বভাবের কথাও জানে। ম্যামের কথাগুলোর ভেতর কিছু সত্য থাকতেও পারে। কিন্তু সেই সবের কারণে এতবড় শাস্তি স্যারকে দেয়া ঠিক না, এইটাও বুঝে সে। কিন্তু নিধি ম্যাম তাকে ব্যবহারের এই সুযোগ ছাড়বে না বুঝতে পেরে সে অসহায় বোধ করে।
ব্যাগের দশ হাজার টাকার কথা ভাবে অনামিকা। বিভাস স্যার আগামী দশ মাসেও এর অর্ধেক দিতে পারবে না। তার ওপর আছে হোস্টেলের রুমের বিষয়টা। তনুর গ্রেড নিয়মিত এত কমছে যে, আদৌ হোস্টেলের সীট তার ভাগে জুটবে না। তবুও অনামিকার মন সায় দেয় না।
সে বলল, ‘আমি সরি ম্যাম। আমার পক্ষে সম্ভব না এমন ডাহা মিথ্যা বলা।’
নিধি রেগে আগুন হয়ে ওঠে, ‘ডাহা মিথ্যা! তুমি বিশ্বাস করছ না তাহলে আমাকে! তুমি জানো বিভাস আমাকে বিয়ের কথা বলছে এক বছর ধরে! সাথে সাথে প্রিয়তির সাথেও সম্পর্কে জড়িয়ে আছে!’
অনামিকা বলে, ‘এগুলো আপনাদের ব্যাক্তিগত বিষয়। আপনারা হ্যাণ্ডেল করুন। তার সাথে আমাকে দিয়ে মিথ্যা বলাবেন কেন?’
নিধি উত্তেজিত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। বলে, ‘তাই বুঝি! ঠিক আছে। টাকাটা ফেরত দাও। আর তোমার স্কলারশীপ কীভাবে ক্যান্সেল করানো যায়, তা আমি ব্যাক্তিগতভাবে দেখব। আর হোস্টেল সুপারকে বলে তনু তো দূরের কথা, তোমার রুমও বাতিলের ব্যবস্থা করছি।’
অনামিকা জোরে চেয়ার ঠেলে দাঁড়িয়ে পড়ল। হাত উঁচিয়ে নিধির দিকে তাক করে বলল, ‘আপনি এমন করতে পারেন না আমার সাথে!’
উত্তরে নিধি বলল, ‘দরকার হলে আমি যে-কোনো কিছু যে -কারও সাথে করতে পারি। কারণ আমিও দেখেছি, অন্যেরাও এমন করে আমারও সাথে।’
চেপে চেপে কঠিন স্বরে একনাগাড়ে বলল নিধি। অনামিকাকে হাত দিয়ে ইঙ্গিতে বসতে বলে আবারও বলল, ‘বসো তুমি, আমার সব কথা এখনও শেষ হয়নি। ডিপার্টমেন্টের হেডের কাছে গিয়ে আরও বলবে যে, যদি কোনো অ্যাকশন না নেয় তবে তুমি প্রকাশ্যে এই নিয়ে হাঙ্গামা করবে। মিডিয়ায় জানাবে। এছাড়া তুমি ক্ষতিপূরণও চাইবে।’
দূর্বল আর অসহায় চোখে নিধির দিকে চেয়ে কেঁদে ফেলল অনামিকা। মাথা নিচু করে চুপচাপ কিছু সময় নিয়ে নিজেকে সামলায় সে। মাথা সোজা করে নিধির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কাল বাকি টাকা দেবেন আমাকে আর রুমের ব্যাপারটা তো কনফার্ম, তাই না?’
নিধির গলায় জয়ের সুর, ‘একদম!’
১৬.
হাসপাতালের রিসিপশন। আট-দশজন ফাইনাল ইয়ারের স্টুডেন্ট আর চার-পাঁচজন ইন্টার্ন কথা বলতে বলতে করিডরে গিয়ে দাঁড়ায়। আগের রাতের ড. বিভাস আর নতুন নার্সের হুটোপুটি করার দৃশ্য বর্ণনা করতে থাকে একজন ইন্টার্ন। সেইই সরাসরি দেখেছিল দৃশ্যটা। তাই তাকে ঘিরেই সবার ভিড়।
সে বলতে থাকে, ‘জিনিয়াস শালা, মদ খেয়েছে চেম্বারে বসেই।’
অন্য এক ইন্টার্ন যোগ করে, ‘এই কাজতো সে রোজই করে ওটির ডিউটি সেরে এসেই।’
তৃতীয় একজন ইন্টার্ন জিজ্ঞেশ করে, ‘ড. বোস এইসব বিষয়ে জানেন তো?’
প্রথম ইন্টার্ন উত্তর দেয়, ‘জানারই কথা, ভাগেযোগে খান তাহারা।’
সবাই মিলে একচোট হো হো হাসির রব। প্রথম ইন্টার্ন আবারও বলে, ‘শুধু কি পানাহার, বাদবাকি আহারও তাদের গর্ভে।’
আবারও হাসির রব। চতুর্থ ইন্টার্ন বলে ওঠে, ‘সুইটি বল আর কিউটি বল, সব নয়া মালই তাদের ভোগে যায়। আর আমাদের বেলায় জোটে উচ্ছিষ্ট।’
এইবার একটু ক্ষোভের স্বর সবার। প্রথম ইন্টার্ন প্রত্যক্ষদর্শী। সে বলে, ‘চল শালাকে ফাঁসিয়ে দেই, সিধা মায়ের ভোগে।’
এইবার লাস্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট বলে, ‘ঠিক কথা, এই ইস্যুতে পরীক্ষাটা পিছিয়ে দেবার একটা চান্স জোটে।’
সব হৈ হৈ করে একমত। পরীক্ষা পেছানোর বাহানা ছেড়ে দেয়া যাবে না। ড. বোস চেম্বারেই আছে বলে একজন খবর নিয়ে আসলো। কয়েকজনের সম্মিলিত দলটা ঠিক করল, ড. বিভাসের অনৈতিক আচরণ নিয়ে কথা বলবে আর তাকে অপসারণের জন্য আন্দোলন শুরু করবে। আর তার জের ধরেই পরীক্ষা পেছানোর কথায় আসবে।
বোস চেম্বারেই ছিলেন। দুজন স্টুডেন্ট আর সবার প্রতিনিধি হয়ে তার সাথে কথা বলতে যায়। তারা কিছু বলবার আগেই বোস থামিয়ে দেয়। হাতে লেখা একটা কাগজ ধরিয়ে দেয় নেতাগোছের ছেলেগুলোর কাছে। ড. বিভাসের রিজাইন লেটা।, হা হয়ে যায় স্টুডেন্টদের মুখ। পরীক্ষাটা পেছানো গেল না ভেবে সকলেই দুঃখিত হয়ে পড়ে।
১৭.
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিগাগের ডিপার্টমেন্টের হেডের রুম। অনামিকা কয়েকটা ছবি হাতে নিয়ে ঢোকে। তার অর্ধনগ্ন বেশ কিছু ছবি, যা ইভানের হাতে তোলা এবং দেখে মনে হয়, অনামিকার অজান্তে। প্রফেসরকে সেই ছবিগুলো দেখিয়ে অনামিকা বলল, ‘ইভান আমাকে ব্ল্যাকমেইল করেছে এই বলে যে, ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেবে, যদি না আমি ইভানের সাথে ঘনিষ্ঠ হই।’
ইনিয়ে বিনিয়ে কেঁদে সে বিশাল গল্প ফাঁদে। প্রফেসর স্তম্ভিত হয়ে যায় সেসব ছবি দেখে। সে অনামিকাকে এই সমস্ত অভিযোগ প্রমাণাদিসহ লিখিত আকারে জমা দিতে বলে।
ঠিক পনের দিন পর নিধি উড়াল দেয় পিএইচডি করবার জন্য। বিভাস তার ফ্ল্যাটের নিচে ছোট একটা চেম্বার খুলে সাধারণ এমবিবিএস ডাক্তারির প্র্যাক্টিস শুরু করে। উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে ইভানের সাজা কিছুটা কমই হয়। ছয় মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয় তাকে।























