করোনা আপডেট
আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ
বিশ্বব্যাপী

লিট ফেস্ট: কালচার দখলের কর্পোরেট কোলাবরেশন

তুহিন খান

প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৮, ২০২৩

বিষ্যুদ ও শুক্র— দুইদিন গেছিলাম লিট ফেস্টে। স্টুডেন্ট আইডি সাথে থাকলে লিট ফেস্টে এন্ট্রি ফ্রি— এইটা ক্যাম্পাসে গিয়া অন দ্য স্পট শুনলাম। শুইনা একটু তাজ্জুবও হইলাম। কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত? আর সিদ্ধান্তটা প্রোগ্রামের আগে তেমন চাউড় হইল না কেন? এখনো অনেকে এইটা জানে না; অনেকেই অন দ্য স্পট ব্যাপারটা জানতেছে। কেন? টিকেট বিতর্ক সামলাইতেই কি লিট ফেস্ট কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত? নাকি নির্দিষ্ট কোন কোন ইউনিরে ছাড় দিতে গিয়া এখন সবাইরেই ছাড় দেওয়া লাগতেছে তাদের? যে কোনো বড় আয়োজনে পলিসিগত স্বচ্ছতা খুবই জরুরি, যা এইবারের লিট ফেস্টে মিসিং মনে হইতেছে।

 

দুই.
লিট ফেস্টের টিকেট সিস্টেম নিয়া বিতর্ক শুরু হওয়ার পর বাঙলা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক এক ইন্টারভিউতে বলছেন যে, টিকেটের ব্যাপারে অ্যাকাডেমিরে কিছু জানানো হয় নাই। লিট ফেস্ট কর্তৃপক্ষ বাঙলা অ্যাকাডেমির ব্যাপারে অসহযোগিতার অভিযোগ আনছেন। বাঙলা অ্যাকাডেমিতে আর লিট ফেস্ট হবে না সামনে— এরকমও শুনলাম।

 

মহাপরিচালক কবি নুরুল হুদার ইন্টারভিউ পইড়া মনে হইল যে, লিট ফেস্ট কর্তৃপক্ষ বাঙলা অ্যাকাডেমিরে না গুইনা ডিরেক্ট সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের লগে লিংক-লবিং করছে বা করতেছে; আর যে কোনো কারণেই হউক, এইটা অ্যাকাডেমি কর্তৃপক্ষ তেমন সুনজরে দেখতেছে না।

 

অ্যাকাডেমি বা এর মহাপরিচালকের সাথে লিট ফেস্ট কর্তৃপক্ষের একটা (ইন্টার্নাল) টানাপোড়েন চলতেছে বোঝা যাইতেছে। গ্যাঞ্জামটা ঠিক কী নিয়া কার সাথে কার— তা অবশ্য এখনো পষ্ট না। টাকা-পয়সার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়া কোন গ্যাঞ্জাম না তো? ইন্টার্নাল এসব ফ্যাসাদের নানামাত্রিক প্রভাব পড়তেছে মেবি লিট ফেস্টের উপর। দুইদিন ঘুইরা এরকম মনে হইল।

 

তিন.
লিট ফেস্টের টাইটেল স্পন্সর বেসিক্যালি জেমকন গ্রুপের মালিকানাধীন পত্রিকা বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউন। জেমকন গ্রুপের একজন মালিক ক্ষমতাসীন সরকারের এমপি। চোখ কান খোলা রাখলে টের পাওয়া যায় যে, বাঙলাদেশের `আর্ট-কালচার দখল`র জন্য কর্পোরেট ও পলিটিকাল মাফিয়াদের একটা কোলাবরেশন হইল এই লিট ফেস্ট। এবারের আসরে প্লাটিনাম স্পন্সর হিশাবে সিটি ব্যাংক ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তারাও মেবি এই লিট ফেস্টের অফিশিয়াল পার্টনার হইল। লিট ফেস্টের কর্পোরেট স্পন্সর সামনে আরো বাড়বে সম্ভবত; শুধু জেমকনের হাতেই এতবড় সম্ভাবনাময় জিনিশটা ছাইড়া দিতে মেবি রাজি হবেন না ঢাকার অন্যান্য কর্পোরেট মাফিয়ারা। ব্যাপারটা মজার। দেখা যাক, কী হয়।