করোনা আপডেট
আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫৪৫৮৩১ ৪৯৬১০৭ ৮৪০০
বিশ্বব্যাপী ১১৪০০০৫৯৫ ৮৯৫৬৩৭৯৪ ২৫২৯৫৯৩

সদীপ ভট্টাচার্যের উপন্যাস ‘উপোষী মেঘ’

পর্ব ১২

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২১

এই কাহিনি যখন লিখছি, তখন কিছু লেখার মতো অবস্থায় আমার থাকার কথা নয়। চারদিকে শক্ত জং ধরা শেকল পড়ে আছে। আমি আর ঘুম একটা বড় লোহার পাইপের মধ্যে ঢুকে কোনও রকমে লুকিয়ে আছি সেই কখন থেকে।

রতনদা আর নবারুণ ভট্টাচার্য সেই যে একটা বিরাট হাঁ করে থাকা কারখানার মধ্যে ঢুকে গেল, আর তাদের দেখা যাচ্ছে না। শুধু এটুকু জানি, নবারুণবাবুর হাতে একটা পেতলের বন্দুক রয়েছে। এই ফাঁকে বলে রাখা ভালো, নবারুণকে `বাবু` সম্বোধন করলে তিনি বড্ড রেগে যান। এই `বাবু` কালচারের সঙ্গে তার বিরোধ ভারী, সেটা যারা তার দু’চারটে লেখা পড়েছে, তারা জানে বিলক্ষণ।

ঘুম আমার পাশে অনেকক্ষণ লুকিয়ে থেকে শুয়ে পড়েছে। আমি ঘুমকে বলেছি, আমার কিছু লেখা বাকি থেকে গেছে, যেটা না লিখতে পারলে আমার এখানে থাকাটারই কোনও মানে হয় না... সে আমায় একটু দূরে এক থাকতে দিয়ে সরে গেছে। ভয়ে ভয়ে বাইরে দেখছে যদি কারখানার দরজা দিয়ে রতনদাদের দেখা যায়...

ঘুমকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি শব্দটার মধ্যে একটা জোর আছে, না?
ঘুম সতেজ একটা দৃষ্টি দিয়ে আমার দিকে চেয়ে বলল, আছে বলেই তো যত লড়াই চলুক তোমার পাশে, আমি আছি। ঘুমের ঠোঁটে একটা উষ্ণতার লাল রঙ ফুটে উঠেছে।

আমি দেখলাম, রতনদা আর নবারুণ ফিরে আসছে এদিকেই। আমি পকেট থেকে একটা রুমাল বের করে ওদের দেখলাম আর ওরা বুঝতে পেরে আমাদের দিকে এসে পাইপের মধ্যে ঢুকে পড়ল।

আমার বাবার শবদেহটা ওদের কাছেই আছে। বাবাকে ইস্কুল বাড়িতে নিয়ে যেতে গেলে আমাদের মধ্যে যেকোনো কাউকে এখানে থেকে যেতে হবে। কথাগুলো এক নাগাড়ে বলে কিছুটা থামল রতনদা।

আমায় রেখে যেতে পারো। অবলীলায় বলে উঠল ঘুম।
আমি কিছুটা বিরোধ করেই বললাম, আমাকে রাখলে সুবিধে হয় না? আমি তো স্রেফ সাক্ষী।
আমাকে থাকতে হবে। আমিই এদের বিপ্লবের নেতা কিনা। ক্ষমতার এই ইশারা নতুন কিছু না। যে জিনিস তোমাদের দিয়ে হবে না। ওরা এমন একজনকে ঘায়েল করতে চায়, এবং চায় পুরোপুরির জন্য যাতে এই এলাকায় আর বিদ্রোহ নামক কিছু না ঘটে। কাজেই... নবারুণ কথাটা বলে দৃঢ় চোখে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকল।

আমরা সবাই চুপ করে থাকা ছাড়া আর কি করতে পারি, জানি না।
পরেরদিন ভোর হবার আগেই নবারুণকে আমরা দেখলাম, আকাশের দিকে মুখ করে একটা হাঁ করা কারখানার মধ্যে ঢুকে যেতে। ওর হাতের পেতলের বন্দুকটা আবার পাইপের পাশেই মাটিতে পুঁতে রেখে গেছিল। ঘুম কান্না থামাতে পারেনি। রতনদাও ঠোঁট সেলাই করে দাঁড়িয়েছিল চুপ।

আমি বুঝেছিলাম, স্রেফ সাক্ষী হয়ে নেই। আমাদের মাটি খুঁড়ে বন্দুকটা বের করতে হবে। নাহলে কোনও লাভ নেই... তবে আমি বিশ্বাস করতে চাই যে, এটা মন খারাপের গল্প নয়... চলবে