খুলে দেওয়া হলো কাপ্তাই বাঁধের ১৬ কপাট
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : জুলাই ১৮, ২০২৬
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে অতিরিক্ত পানির চাপ কমাতে খুলে দেওয়া হয়েছে বাঁধের স্প্রিলওয়ের ১৬ জলকপাট। এতে কর্ণফুলী নদীতে প্রতি সেকেন্ডে ছাড়া হচ্ছে ৯ হাজার কিউসেক পানি।
আজ শনিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে একযোগে খুলে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান।
তিনি জানান, আজ সকাল ১০টায় কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা ১০৪ দশমিক ৮ ফুট বা এমএসএল স্তরে (মিন সি লেভেল) পৌঁছায়। সম্প্রতি টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হ্রদে পানির উচ্চতা ও প্রবাহ বাড়তে থাকায় তা নিয়ন্ত্রণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে কর্ণফুলী বিদ্যুকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রেখে ২২২ মেগাওয়াট উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে প্রতি সেকেন্ডে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি টারবাইনের মাধ্যমে নিষ্কাশন করা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তিতে বাঁধের স্পিলওয়ের জলকপাট খুলে পানি ছাড়ার প্রস্তুতির কথা জানায়। কাপ্তাই হ্রদে সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট বা এমএসএল। যেখানে ১০৭ ফুট হলে বিপৎসীমা পার করে।
পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি ছেড়ে দেওয়ায় বন্যাকবলিত হওয়ার আশঙ্কায় ভাটি এলাকার কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্ণফুলী বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্প্রিলওয়ের গেট খুলে দেওয়ার পর শনিবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শন করে কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের জলকপাট দিয়ে পানি ছাড়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আলমগীর হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হানুল ইসলামসহ কাপ্তাই পিডিবি এবং রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।























