হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণ, দুটি তেলের ট্যাঙ্কারে আগুন

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : জুলাই ১৮, ২০২৬

হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশে মাইন বিস্ফোরণে দুটি তেলের ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে গেছে। এতে জাহাজ দুটির মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভুল নির্দেশনায় বিভ্রান্ত হয়ে ট্যাঙ্কার দুটি হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশের মাইনক্ষেত্র দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

সেখানে মাইন বা নৌ-বোমার আঘাতে জাহাজ দুটিতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। তবে জাহাজ দুটির নাম, মালিকানা বা নাবিকদের হতাহতের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উক্ত মাইনক্ষেত্রে প্রবেশের আগে ট্যাঙ্কার দুটিকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তারা তা উপেক্ষা করে। তারা নাবিকদের নিজেদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার্থে আমেরিকার ছড়ানো বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

হরমুজ প্রণালিকে অত্যন্ত অনিরাপদ আখ্যা দিয়ে এই ঘটনার পর আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তেল, গ্যাস বা রাসায়নিক সার রফতানির কোনো জাহাজকে এই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।

মার্কিন বাহিনী টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা ও বোমাবর্ষণ করার পরই এই মাইনে বিস্ফোরণ হলো।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার রাতভর যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে নিখুঁত নিশানা বজায় রেখে এই হামলা চালানো হয়। হামলাগুলো মূলত ইরানের উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, লজিস্টিক অবকাঠামো এবং সামরিক ড্রোন ঘাঁটি লক্ষ্য করে করা হয়।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রর ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর কয়েকদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় তীব্র উত্তেজনা চলছে। মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছে, যার বিপরীতে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে তাদের উপকূলীয় রুট বাদে অন্য কোনো রুট দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে দিচ্ছে না।