ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৩, ২০২৬

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া (৮৮) মারা গেছেন। শুক্রবার সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরায় জেকে মেমোরিয়াল হাসপাতালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। শুক্রবার তাকে জেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ায় শ্বাসকষ্ট বাড়ে। চিকিৎসকরা প্রাণান্তকর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

২০০৬ সালে স্ট্রোকের পর সুকুমার বড়ুয়ার ডান পা অবশ হয়ে যায়। এরপর হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় তিনি ভুগছিলেন।

১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি রাউজানের মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে তার জন্ম। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৬৩ সালে তোপখানা রোডে একটি বেড়ার ঘর ভাড়া নিয়ে স্বাধীনভাবে লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন তিনি।

ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৭ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে সরকার। এছাড়া বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সম্মাননা, অবসর সাহিত্য পুরস্কার, আনন ফাউন্ডেশন আজীবন সম্মাননা ও চন্দ্রাবতী শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা লাভ করেন তিনি।

কচিকাঁচার আসর, খেলাঘর ও মুকুলের মাহফিলসহ বিভিন্ন শিশু-কিশোর পত্রিকায় নিয়মিত তার লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোরকিপার হিসেবে তিনি অবসর নেন। প্রায় ৬ দশক ধরে ছড়া রচনার মাধ্যমে সুকুমার বড়ুয়া বাংলা শিশুসাহিত্যে অনন্য অবস্থান তৈরি করেন।

ব্যঙ্গ, রস, নৈতিক শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাজনৈতিক সচেতনতা তার ছড়ার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এই দীর্ঘ সাহিত্যযাত্রায় তিনি ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’ ও ‘ছড়াসম্রাট’ এমন নানা অভিধায় পরিচিতি লাভ করেন।

তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: পাগলা ঘোড়া, ভিজে বেড়াল, চন্দনা রঞ্জনার ছড়া, এলোপাতাড়ি, নানা রঙের দিন, সুকুমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া, চিচিং ফাঁক, কিছু না কিছু, প্রিয় ছড়া শতক, নদীর খেলা, ছোটোদের হাট, মজার পড়া ১০০ ছড়া, সুকুমার বড়ুয়ার ছড়াসম্ভার (দুই খণ্ড), যুক্তবর্ণ, চন্দনার পাঠশালা ও জীবনের ভেতরে বাইরে।