জাসমিনা খাতুনের ৫ কবিতা
প্রকাশিত : নভেম্বর ২৭, ২০২৫
মাতৃভূমি ভরা আগুনের গোলা
প্রত্যেকটা সৈনিক ছিল দুর্ধর্ষ
মাতৃভূমি ভরা আগুনের গোলা।
অথচ নির্জনতা ছুঁয়ে গেছে বাংলায়,
ঠোঁটে আড়ষ্ট বন্দে মাতরম উচ্চারণ করতে গিয়ে
মুখ চাওয়া-চাওয়ি।
ব্যথা বাড়ছে—
বুকের ভেতর ব্যথা বাড়ছে,
হাতে কচুপাতার ছাতা,
বাঁচছে না মাথা।
গ্রাম থেকে শহরে,
নেকড়ের চেয়েও অধিক হিংস্র নেতা।
তবুও—
চূড়ান্ত ঋণ শোধের আশায়
বোতাম টিপে আবারও চাই
এমনই মানব-উদ্ধার নেতা।
সবটুকুই দেব
অফুরন্ত হাসির স্রোতে নেবে তুমি আমার সমস্ত পদ্যের সুখ,
সবটুকুই দেব এক পলকের ডাগর দৃষ্টির সৃষ্টি হিসেবে।
স্বপ্নের সোহাগে জ্যোৎস্না রাতের উপবনজুড়ে একখানা চাঁদ আঁকা আছে।
কাজল চোখে অপরূপ লীলার সোহাগি কাজল লেগে আছে।
সাঁওতাল পাড়ার মহুয়া মনে মায়া-মরদের সোহাগ মেতে আছে।
চোখের ভেতর বুকের ভেতর সমুদ্রাকাশে তুমুল উচ্ছ্বাসে তোমারই নাম লেখা আছে।
শিউলি শিশিরে শুভ্রাকাশে আবেগি পদ্য লেখা আছে।
অফুরন্ত হাসির স্রোতে নেবে তুমি আমার সমস্ত পদ্যের সুখ।
সত্য বলছি
সত্য বলছি মিথ্যে নয়
বাঙালির ঐতিহাসিক রসগোল্লা ছাড়া একটুও চলে না
ব্লাড সুগার বা ডায়াবিটিস এর ভয়ে লুচির সাথে একটাও রসগোল্লা খাব না
ধুর বাপু, এটা আমি পারবো না
টেনেটুনে দুপুর পাতে ভাতের সাথে দই পাপড় আর ল্যাংচা থাকে
ঐ যে বিকেল বেলায় মোড়ের দোকানে জিলিপি ভাজে
বন্ধুদের খাওয়াতে গিয়ে দু’চার পিস আমারও লাগে
আমি বাপু রাজ ঘরানার পাঁচবেলায় পাঁচ রকম মিষ্টি ছাড়া একদিনও চলে না
সত্যি বলছি মিথ্যে নয়
বাঙালির ঐতিহাসিক রসগোল্লা ছাড়া একটুও চলে না
সাবধান,
সত্যি বলছি মিথ্যে নয়
ডায়াবিটিস, ব্লাড সুগার রোগীরা একটুও মিষ্টি ছোঁবেন না বা ভুল করেও খাবেন না।
সবটুকু দেব তোমার এক পলক ডাগর দৃষ্টির সৃষ্টি ভালোবেসে।
অস্তিত্ব
খুব সকাল সকাল শব্দটা ঢুকে গেছে আমার বেডরুমে।
শব্দ চাঁদর গায়ে দিয়ে নিচে নেমে গেলাম এক কাপ গরম চা।
তাও শব্দ করে খেলাম, অথচ হাত থেকে বিস্কুটটা নেতিয়ে পড়ল উষ্ণতা পেয়ে।
সত্যি, শিরদাঁড়া সোজা না করলে ঠিক এইভাবেই হারাতে হয় অস্তিত্ব।
মহেশের জিহ্বায় আজও তৃষ্ণা
আমি সমুদ্রের পাড়ে বসে ভাবছিলাম,
বালির তল থেকে কোনো একদিন
নুন-লাগা কবিতাগুলো তুলে আনব।
নক্ষত্রের নিচে ঢেউয়ের বুক চিরে
জন্ম-নেওয়া শব্দের সাদা নাভি থেকে
তুলে আনব কবিতাগুলো।
কিন্তু সেই বিছানো বালুকাভূমিতে
গফুর মিয়ার মহেশকে দেখলাম
দাঁড়িয়ে আছে ক্ষুধার্ত চোখে।
সমুদ্রের নোনা আলোই জিভ লম্বা করে দিয়ে
চেটে চেটে খাচ্ছে জল, ঠিক যেন মাটির হাঁড়ি
থেকে ভাতের ফ্যান।
দারিদ্র্যের উষ্ণ বাষ্পে বুঝলাম,
মানুষের জীবনের গভীরতা
মহেশের শুকনো জিহ্বায় লেগে থাকা
চরম সত্যের মতো।
























