নওগাঁয় মাছভর্তি পুকুরে বিষ, ২৪ লাখ টাকার মাছ মৃত

ওমর ফারুক, নওগাঁ

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ০৩, ২০২৫

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সিংসাড়া গ্রামের একটি পুকুরে বিষ দিয়ে প্রায় ২৪ লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতের কোনো একসময়ে পুকুরে বিষ দেওয়া হয়।

 

আজ বুধবার সকালে পুকুর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা পুকুরে মরা মাছ ভেসে উঠতে দেখে পুকুর মালিক ডা. দেওয়ান মো. মেহেদী হাসানকে খবর দেয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার সিংসাড়া গ্রামের বাসিন্দা দেওয়ান মহসিন আলী মৎস্য হ্যাচারী গড়ে তুলে মাছের রেণু উৎপাদন ও বাণিজ্যিকভাবে মাছ করে আসছিলেন।

 

গুণগত মানের রেণু উৎপাদনে বিশেষ অবদান রাখায় ২০০৯ সালে মহসিন আলীর হ্যাচারী জাতীয় মৎস্য পদক পায়। বর্তমানে তাঁর ছেলে দেওয়ান মেহেদী হাসান এই হ্যাচারী দেখাশোনা করেন।

 

দেওয়ান মেহেদী হাসান বলেন, “আমাদের হ্যাচ্যারিতে ছোট-বড় বেশ কয়েকটি পুকুর আছে। ছোট পুকুরগুলোতে মাছের রেণু উৎপাদন করা হয়। আর বড় পুকুরগুলোতে পোনা ছেড়ে মাছ বড় করে বেচা হয়।”

 

তিনি আরও বলেন, “যে পুকুরটিতে বিষ দেওয়া হয়েছে সেটির আয়তন ১৩-১৪ বিঘার মতো। পুকুরটিতে বড় মাছ ছিল। পুকুরটিতে ধাপে ধাপে ১৫ লাখ টাকার পোনা ছাড়া ছিল।”

 

দেওয়ান মেহেদী হাসান বলেন, “এছাড়া ৬-৭ মাস ধরে মাছের খাবার ও শ্রমিক খরচ বাবদ ৯-১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। মাছগুলো বেচার উপযুক্ত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু হঠাৎ করে আজ সকালে খবর পেলাম, পুকুরের মাছ মরে ভেসে উঠছে।”

 

তিনি আরও বলেন, “প্রথমে মনে হয়েছিল, হয়তো পুকুরে গ্যাসের কারণে মাছ মরে ভেসে উঠছে। কিন্তু পরে পুকুরের ধারে বিষের বোতল খুঁজে পাওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছে, মাছ মেরে ফেলার জন্য কে বা কারা রাতের অন্ধকারে পুকুরে বিষ দিয়েছে।”

 

দেওয়ান মেহেদী হাসান বলেন, “মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখে গ্রামের লোকজন অনেকেই মরা মাছ ধরে নিয়ে গেছে। এছাড়া কিছু মাছ মরার আগেই জাল টেনে তুলে বাজারে আড়তে বিক্রি করা হয়। তবে বিষ দেওয়া পুকুরের মাছ হওয়ায় পানির দরে ২০-৩০ টাকা কেজি দরে মাছগুলো বেচতে হয়েছে।”

 

তিনি আরও বলেন, “ভালো মাছ বিক্রি করে যেখানে ২৪-২৫ লাখ টাকা পাওয়া যেত, সেখানে মাত্র ৩ লাখ টাকার মতো মাছ বিক্রি হয়েছে। পুকুরে কারা বিষ দিতে পারে তা প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে না। আমাদের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই। তবে এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ করব। আশা করি, পুলিশ তদন্ত করে যারা দোষী তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনবে।”

 

আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, “সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। তবে এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”