পশ্চিম তীরে নতুন ৭ শতাধিক ইহুদি বসতি, অনুমোদন ইজরায়েলের
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : ডিসেম্বর ১১, ২০২৫
গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেই অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের আরেক অংশ পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য নতুন ৭৬৪টি বাড়ি তৈরির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ইজরায়েলের সরকার।
বুধবার ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল সেভেনের বরাতে এই তথ্য জানায় তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু। চ্যানেল সেভেনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার ইজরায়েলের সরকার ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য পশ্চিম তীরের রাজধানী রামাল্লার হাশমোনাইম এলাকায় ৪৭৮টি, বেইতার ইল্লিত এলাকায় ২৩০টি এবং গিভাত জেএভ এলাকায় ৫৬টি, সব মিলিয়ে ৭৬৪টি নতুন বাড়ি তৈরির অনুমোদন দিয়েছে।
তবে ইজরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই ইস্যু নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। আন্তর্জাতিক আইন ও জনমত উপেক্ষা করে কয়েক দশক ধরে ধীরে ধীরে পশ্চিম তীরে নিজেদের দখলকৃত এলাকা বাড়াচ্ছে ইজরায়েল। ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এই তৎপরতা কয়েক গুণ বেড়েছে।
ইজরায়েলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ৩ বছরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ৫১ হাজার ৩৭০টি নতুন বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পিস নাও নামের ইজরায়েলের যে সংস্থাটি অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সরব, তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী পূর্ব জেরুজালেমে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ও পশ্চিম তীরে ৪ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি ইহুদি বসতি স্থাপনকারী (সেটলার) বসবাস করছে।
জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্যের আল-আকসা অঞ্চলে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন নামের দুটি পৃথক রাষ্ট্র হওয়ার কথা।
কিন্তু প্রায় প্রতি বছর ইজরায়েল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সংখ্যা বাড়াতে থাকায় প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভূখণ্ড কমছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এ ইস্যুতে বহুবার ইজরায়েলকে আপত্তি জানানো হয়েছে, কিন্তু ইজরায়েলের সরকার এসবে কর্ণপাত করছে না।
গত বছর জুলাই মাসে জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস এক রায়ে পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেম এলাকায় নতুন বাড়িঘর নির্মাণ ইজরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অবৈধ বলে ঘোষণা করেছিলেন এবং ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে নিতে ইজরায়েলের সরকারকে নির্দেশও দিয়েছিলেন।
এরপরও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তারা। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
























