ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইজরায়েলি ড্রোন হামলা, নিহত ১৩
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : নভেম্বর ১৯, ২০২৫
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইজরায়েল ড্রোন হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
হামাস এই হামলাকে বর্বর আগ্রাসন বলে আখ্যায়িত করেছে। ইজরায়েলের দাবি, তারা হামাস সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
মঙ্গলবার উপকূলীয় শহর সাইদার কাছে আইন আল-হিলওয়ে শরণার্থী শিবিরে একটি মসজিদের পার্কিং লটে থাকা গাড়িতে ড্রোন হামলা চালায় ইজরায়েল।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ হামলায় কমপক্ষে চারজন আহত হয়। অ্যাম্বুলেন্সে করে আরও আহতদের আশপাশের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ইজরায়েল জানায়, তারা শিবিরের ভেতরে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে তৎপরতা চালানো হামাস সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখাই আদ্রেয়ি বিবৃতিতে বলেন, “উত্তর সীমান্তে কোনো ধরনের হুমকি আমরা বরদাস্ত করবো না। ওই অঞ্চলে সক্রিয় সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীই আমাদের টার্গেটে আছে।”
তিনি আরও বলেন, “লেবাননে হামাসের উপস্থিতি গড়ে তোলার চেষ্টা এবং তাদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলার যেকোনো তৎপরতার বিরুদ্ধে শক্ত হাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইজরায়েলের এই দাবি হামাস প্রত্যাখ্যান করেছে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীটি বলেছে, শরণার্থী শিবিরে তাদের কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই। এ হামলা নিরীহ ফিলিস্তিনি জনগণ ও লেবাননের সার্বভৌমত্বের ওপর বর্বর আগ্রাসন।
এই হামলার আগে মঙ্গলবার লেবানন জানিয়েছিল, দক্ষিণাঞ্চলের অন্য এলাকায় ইজরায়েল দুটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা করে এবং সেখানে দুজন নিহত হয়। গাজায় ইজরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৯ হাজার ৪৮৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজার ৭০৬ জন আহত হয়েছে।
লেবাননে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয় এবং নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়। যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইজরায়েলি হামলায় লেবাননে এখন পর্যন্ত ২৭০ জনের বেশি নিহত এবং প্রায় ৮৫০ জন আহত হয়েছে।
লেবাননের রাজনৈতিক বিশ্লেষক করিম এমিল বিতার বলেন, “ইজরায়েল প্রায় প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুসারে ইজরায়েলের ২৬ জানুয়ারির মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করার কথা ছিল, কিন্তু তারা সেই সময়সীমা মানেনি।” সূত্র: আল জাজিরা ও এনএনএ























