মরমী কবি হাছন রাজার আজ মৃত্যুদিন

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ০৬, ২০২৫

"ভালা করি ঘর বানাইয়া কয় দিন থাকমু আর আয়না দিয়া চাইয়া দেখি পাকনা চুল আমার" ভাল করে ঘর বানিয়ে কয় দিন থাকবেন আর? তাইত আজকের এই দিনে ১৯২২ সালে ইহলোক ছেড়ে পরলোকে গমন করেন মরমি সাধক ও কবি হাছন রাজা।

হাছন রাজা ২১ ডিসেম্বর ১৮৫৪ সালের সেকালে সিলেট জেলার সুনামগঞ্জ শহড়ের নিকটবর্তী সুরমা নদীর তীরে লক্ষণশ্রী পরগণার তেঘরিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা দেওয়ান আলী রাজা এবং মাতা হুরমত বিবির তৃতীয় সন্তান ছিলেন তিনি।

হাসন রাজা ছিলেন বেশ সুদর্শন। বহু লোকের মধ্যে চোখে পড়া সৌমদর্শন ছিলেন হাছন রাজা। ছিলেন পিতার ন্যায় প্রভাবশালী জমিদারও। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও স্বশিক্ষিত হাসন রাজা তার লেখায় এবং জীবন দর্শনে অমরত্ব লাভ করেছেন।

সৌখিন হাছন রাজা তার যৌবন কাটিয়েছেন ভোগ বিলাসীতায়। বিপুল অর্থ সম্পত্তি ব্যায় করেছেন আমোদ প্রমুদে। রমনী সম্ভোগে হাছন রাজা ছিলেন অক্লান্ত। তিনি নিজ লেখার এর পরিচয় নিয়েছেনও বটে, `সর্বলোকে বলেন হাসন রাজা লম্পটিয়া`

বর্ষাকালে প্রমোদ তরীতে বের হতেন হাছন, নৃত্য গীতে ভেসে বেড়াতেন তিনি, তখনই রচনা করতেন গান। গানে সুর দেয়া হত গান গাওয়া হত।

হাছন রাজার জীবনে হটাৎতি পরিবর্তন আসে, এক আধ্যাত্নিক সপ্ন দর্শন তার জীনের গতি পাল্টে দেয়। মনের দোয়ার খুলতে শুরু করে হাছনের। এক সময় বিপুল সম্পত্তি বিলি বন্টন করে দরবেশ জীবন যাপন শুরু করেন তিনি।

হাছন রাজা কত গান রচনা করেছেন তার সঠিক হিসেব পাওয়া যায় না। মুখে মুখে গান রচনা করতেন হাছন রাজা, তার নায়েব গোমস্তারা তা লিখে রাখতেন।

স্ত্রী লোক, ঘোড়া, এবং কোড়া পাখি বেশ পছন্দের ছিল হাছন রাজার। আঞ্চলিক ভাষায় গান রচনা করা এ কবির গান আজও মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত রয়েছে।

রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর ১৯২৫ সালে Indian Philosophical Congress এর প্রথম অধিবেশনে বক্তৃতা কালে প্রসঙ্গ ক্রকে হাছন রাজার দুটি গানে অংশ বিশেষ উদ্ধৃত করে তার দর্শন চিন্তার পরিচয় দেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বক্তৃতার অংশ বিশেষ হল এই - "পূর্ববঙ্গের এক গ্রাম্য কবির (হাছন রাজা) গানে দর্শনের একটি বড় তত্ত্ব পাই সেটি এই যে, ব্যক্তিস্বরূপের সহিত সম্বন্ধ সূত্রেই বিশ্ব সত্য। তিনি গাহিলেন- মম আঁখি হইতে পয়দা আসমান জমিন শরীরে করিল পয়দা শক্ত আর নরম আর পয়দা করিয়াছে ঠান্ডা আর গরম নাকে পয়দা করিয়াছে খুসবয় বদবয়। এই সাধক কবি দেখিতেছেন যে, শাশ্বত পুরুষ তাঁহারই ভিতর হইতে বাহির হইয়া তাঁহার নয়নপথে আবির্ভূত হইলেন। বৈদিক ঋষিও এমনইভাবে বলিয়াছেন যে, যে পুরুষ তাঁহার মধ্যে তিনিই আধিত্যমন্ডলে অধিষ্ঠিত। রূপ দেখিলাম রে নয়নে, আপনার রূপ দেখিলাম রে। আমার মাঝত বাহির হইয়া দেখা দিল আমারে।

১৯৩০ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে `হিবার্ট লেকচারে` রবীন্দ্রনাথ `The Religion of Man` নামে যে বক্তৃতা দেন তাতেও তিনি হাছন রাজার দর্শন ও সঙ্গীতের উল্লেখ করেন।