মার্কিন তরুণ প্রজন্মের ৬০ শতাংশের সমর্থন হামাসের পক্ষে

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : আগস্ট ৩১, ২০২৫

হার্ভার্ড/হ্যারিস পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রে প্রজন্মভিত্তিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সি ভোটারদের ৬০ শতাংশ হামাসকে সমর্থন করছে ইজরায়েলের বিপরীতে। অন্যদিকে সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জনমতের ৭৪ শতাংশ এখনও ইজরায়েলের পক্ষে রয়েছে।

অন্য সব বয়সি ভোটারদের মধ্যেও ইজরায়েলের প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি সমর্থন পাওয়া গেছে। তবে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ইজরায়েলবিরোধী মনোভাব ক্রমেই বাড়ছে। যদিও সামগ্রিকভাবে ৫১ শতাংশ ভোটার ইজরায়েলের যুদ্ধ পরিচালনায় অসন্তুষ্ট, কিন্তু ৭৭ শতাংশ হামাসের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে।

জরিপে ৬৯ শতাংশ মার্কিনি স্বীকার করে, গাজায় দুর্ভিক্ষ চলছে। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের ৭৮ শতাংশ, রিপাবলিকানদের ৬৫ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র ভোটারদের ৬৫ শতাংশ দুর্ভিক্ষের বাস্তবতা মেনে নিয়েছে।

রিপাবলিকানদের অধিকাংশ (৭৪%) হামাসকে দায়ী করেছে। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৬০ শতাংশ হামাসকে দায়ী করেছে। আর ডেমোক্র্যাটরা সমানভাবে বিভক্ত— ৫০ শতাংশ হামাসকে ও বাকিরা ইজরায়েলকে দায়ী করেছে। এছাড়া তরুণ ভোটারদের বেশির ভাগই ইজরায়েলকেই দায়ী করেছে।

গাজায় ইজরায়েল ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে কিনা এ বিষয়ে ভোটাররা সমানভাবে বিভক্ত (৫০-৫০)। ইজরায়েলবিরোধী সমালোচনা মূলত মানবাধিকার রক্ষার কারণে কিনা নাকি ইহুদিবিদ্বেষ থেকে প্রভাবিত— এ নিয়েও জনমত প্রায় সমানভাবে বিভক্ত (৫১% বনাম ৪৯%)।

৫৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছে, ইজরায়েল কেবল তখনই হামাসের হাতে আটক ইজরায়েলিদের মুক্তির জন্য সমঝোতায় যাবে, যদি হামাস পুরোপুরি গাজা ত্যাগ করে।

এই জরিপটি ২০–২১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ২ হাজার ২৫ নিবন্ধিত ভোটারকে নিয়ে পরিচালিত হয়। ত্রুটির সীমা ছিল ২.২ শতাংশ।

হার্ভার্ড-হ্যারিস জরিপের ফলাফল মার্কিন জনমতের পরিবর্তনের ধারারই অংশ। জুলাই ২০২৫ সালের এক গ্যালাপ জরিপে দেখা গেছে, ৩৫ বছরের নিচের মাত্র ৯ শতাংশ মার্কিনি ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে।

কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক জরিপে উঠে এসেছে, ফিলিস্তিনিদের প্রতি মার্কিনিদের সহানুভূতি সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ তরুণ প্রজন্মের তথ্যপ্রাপ্তির ধরন। যেখানে প্রবীণরা প্রচলিত গণমাধ্যমের ওপর নির্ভর করেন, সেখানে জেনারেশন জেড মূলত টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সংকট সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছে।

ফলে তারা ফিলিস্তিনের ইস্যুটিকে ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং ন্যায়বিচার ও মানবিক সংকটের ইস্যু হিসেবে দেখছে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট