মালয়েশিয়ায় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের বয়স সর্বনিম্ন ১৬

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : নভেম্বর ২৪, ২০২৫

আগামী বছর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য মালয়েশিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় এই সিদ্ধান্ত।

 

রোববার মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাজিল বলেন, “অস্ট্রেলিয়া ও কয়েকটি দেশে বয়সসীমা কার্যকর করার যে প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, মালয়েশিয়া তা পর্যালোচনা করছে। কিশোরদের সাইবারবুলিং, আর্থিক প্রতারণা, শিশু পর্নোগ্রাফি ও অন্যান্য অনলাইন ক্ষতি থেকে রক্ষা করা এখন জরুরি।”

 

তিনি আরও বরেন, “আমরা চাই, আগামী বছরের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো সরকারের সিদ্ধান্ত মানবে। ১৬ বছরের নিচে কেউ যেন ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে।”

 

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, গুগল ও মেটা প্ল্যাটফর্মস (যারা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ পরিচালনা করে) এখন যুক্তরাষ্ট্রে নানা মামলার মুখোমুখি। অভিযোগ উঠেছে, তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট আরও তীব্র করছে।

 

অস্ট্রেলিয়ায় আগামী মাস থেকে ১৬ বছরের নিচে যেসব ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে। তাদের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এই ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা এখন বিশ্বজুড়ে নিয়ন্ত্রকদের নজরে। ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, ডেনমার্ক ও গ্রিস যৌথভাবে বয়স-নির্ধারণ অ্যাপের মডেল পরীক্ষা করছে।

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালয়েশিয়া অনলাইন জুয়া, বর্ণ-ধর্ম-রাজতন্ত্র সংক্রান্ত উসকানিমূলক পোস্টসহ ক্ষতিকর কনটেন্ট বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর ওপর নজরদারি আরও কঠোর করেছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় যেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারী ৮ মিলিয়নের বেশি। তাদের এখন লাইসেন্স নিতে হবে।

 

এটি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়া জানুয়ারি মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য ন্যূনতম বয়স ঠিক করার পরিকল্পনার কথা বলেছিল। পরে তারা কিছুটা শিথিল অবস্থান নেয় এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ক্ষতিকর কনটেন্ট ছাঁটাই ও শক্তিশালী বয়স যাচাই ব্যবস্থার নির্দেশ দেয়। সূত্র: আল জাজিরা