মাসুদ পথিকের কবিতা ‘সর্বজনীন’

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪

তুমি আমাকে বিক্রি করে দিয়েছো কবরের কাছে
আমি এখন কবরের ভেতর অন্ধ ঘর
আমি এখন কবরের মাটি
বুকে আমি শূন্যতার বীজ ধারণ করে আছি

তুমি আমাকে শুষে নিংড়ে খেয়ে, দেন
ছুঁড়ে ফেলে দিলে— আরও অনেক মুনাফার নেশায়
আমাকে কবরের কাছে বিক্রি করে দিলে অনায়াসে
অথচ কত যত্ন করে তোমাকে দুধকলা খাইয়ে
বাঁচিলে তুলেছিলাম
বিষাদ ও একাকিত্ব থেকে কুড়িয়ে এনে

একদিন, আমার
পলিমাটি শরীর থেকে জন্মালো চারা, শূন্যতার।

একদিন আমিও হই বড়, হই শক্তিমান বৃক্ষ
কোনো ঝড় বৃষ্টিই আমাকে ভাঙতে পারে না
তোমার অবহেলাও স্পর্শ করতে পারে না আর
ব্যবহারের পর পারো না বিক্রি করে দিতে

পথচারী কুড়ায় আমার ছায়া— পাখিরা খায় ফল

মা, আমার বৃদ্ধ মা এসে প্রতিদিন বৃক্ষের গোড়ায়
দিয়ে যায় তার জমানো অশ্রুজল
শুষে খাই আমার মায়ের চোখের নোনাজল
আমি ক্রমেই হয়ে উঠেছি শক্তিমান আর সর্বজনীন

মরে যাব বলেই কি তোমাকে ভীষণ ভালোবেসেছি?
মরে গিয়ে বুঝেছি মৃত্যুরও মৃত্যু আছে সুগভীর
জীবনের কবরে কামনার আহাজারি
শূন্যতার সংসারে মৃত্যু করে বসতি, আর
নির্জনতায়ও ঢুকে গেছে চরিতার্থ বাজার অর্থনীতি
প্রলোভন মাখানো কবরের স্তব্ধ ও সচল মাটি

সো,
সব
প্রকৃত প্রেমিকের মনে ছড়িয়ে পড়ে কবরের কান্না
বৃক্ষের মায়া

পৃথিবীতে সভ্যতা গড়ে এইসব প্রেয়সীর ছলনা