সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : জুলাই ৩১, ২০২৬

বৃহস্পতিবার আড়াইটার দিকে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীস্থ পৌরসভার গেটের সামনের রাস্তায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গোলাপগঞ্জ উপজেলার অডিটোরিয়ামে শহিদদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে বের হওয়ার পর আচমকা তাদের গাড়িবহরে হামলা চালায় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়ি ভাঙচুর করেছে।”

এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই হামলায় সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

এ ঘটনায় বিএনপির সহযোগী ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বুধবার রাত ৮টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বাদী হয়ে মামলাটি করেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল।

মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহমেদ রিংগনকে প্রধান আসামি করা হয়। এজাহার নামীয় আসামি ১১ জন। এছাড়া ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

এর আগে হামলার প্রতিবাদ, মামলা এবং আহতদের খোঁজখবর নিতে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা একাধিক স্থানে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে হবিগঞ্জের মিরপুর এলাকায় পুলিশ এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেয়।

দীর্ঘ সময় পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করেও অগ্রসর হতে না পেরে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সড়কে অবস্থান নেন। বৃষ্টির মধ্যেই চলে তাদের অবস্থান কর্মসূচি।

এ সময় সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম বলেন, “হবিগঞ্জে আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছিল হামলার বিরুদ্ধে মামলা, আহতদের দেখতে যাওয়া এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। আমরা হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা করব, তারপর ঢাকায় ফিরব।”

নাহিদ অভিযোগ করেন, মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ পর্যন্ত পথে কয়েক দফায় বালুবাহী ট্রাক, ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন যানবাহন দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। পরে মিরপুর এলাকায় পুলিশ তাদের আটকে দেয়।

তিনি বলেন, “প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করায় তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমিতসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে শুধু মামলা করতে এবং আহতদের দেখতে যেতে চেয়েছিলেন। তবে পুলিশ তাদের সেই সুযোগ দেয়নি।

অন্যদিকে হাসনাত পুলিশ সদস্যদের ওপরে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “আমরা মামলা করার জন্য হবিগঞ্জে যাচ্ছি। আপনারা কেন বাধা দিচ্ছেন?”

গতকাল হামলার সময় আপনারা কোথায় ছিলেন- এমন প্রশ্ন তোলেন এনসিপির আরেক নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এর জবাবে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা নাহিদ ইসলামদের জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাদের গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়েছে।

হবিগঞ্জে এই মুহূর্তে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। তাই গাড়িবহর নিয়ে সেখানে যাওয়া যাবে না। শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু বলেন, “নিরাপত্তাজনিত কারণেই এনসিপির নেতাকর্মীদের অগ্রযাত্রা সাময়িকভাবে আটকে দেওয়া হয়েছিল।”