সৌদি আরব সড়ক দুর্ঘটনা, একই পরিবারের ১৮ জন নিহত

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : নভেম্বর ১৯, ২০২৫

সৌদি আরবের মদিনার কাছে একটি ডিজেল ট্যাঙ্কারের সঙ্গে ওমরাহ হজযাত্রীবাহী একটি বাসের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪৫ জন নিহত হয়। এর মধ্যে ভারতের হায়দরাবাদের একই পরিবারের ৩ প্রজন্মের ১৮ সদস্য রয়েছে।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই ভারতীয় নাগরিক। যাদের বড় অংশ তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ এলাকা থেকে গিয়েছিল। বাসটি মক্কা থেকে মদিনার পথে যাচ্ছিল। ভারতীয় সময় রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

স্ত্রী, ছেলে, তিন মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে ভ্রমণ করছিলেন রেলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী শাইক নাজিরউদ্দিন। তারা সবাই নিহত হয়েছেন।

 

নাজিরের ভাতিজা মোহাম্মদ আসলাম পিটিআইকে বলেন, “‘এটা নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু, আমরা নিশ্চিত নই। তবে নাজিরউদ্দিন, তার ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ ১৮ জন একই বাসে ছিলেন। এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও তীর্থযাত্রার আয়োজন করা ট্র্যাভেল এজেন্সির ভূমিকা কঠোরভাবে যাচাই করতে আমি দাবি জানাচ্ছি।”

 

ঘটনার খবর পৌঁছাতেই হায়দরাবাদের রামনগরে নাজিরউদ্দিনের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার এক আত্মীয় মোহাম্মদ আসিফ এনডিটিভিকে বলেন, “আমার জা, দেবর, তাদের ছেলে, ৩ মেয়ে ও নাতি-নাতনিরা ৮ দিন আগে ওমরাহ করতে গিয়েছিলেন। ফিরতি পথে রাত দেড়টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। শনিবার (১৫ নভেম্বর) তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল।”

 

আসিফ আরও বলেন, “এক পরিবারের নয়জন প্রাপ্তবয়স্ক ও নয়জন শিশু, সব মিলিয়ে ১৮ জনের মৃত্যু আমাদের জন্য অকল্পনীয় কষ্টের।”

 

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নাজিরউদ্দিন (৭০), তার স্ত্রী আখতার বেগম (৬২), ছেলে সালাউদ্দিন (৪২), মেয়ে আমিনা (৪৪), রিজওয়ানা (৩৮), শাবানা (৪০) এবং তাদের সন্তানরা।

 

হায়দরাবাদের পুলিশ কমিশনার ভি. সি. সজ্জনার বলেন, “এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কমপক্ষে ৪৫ জন ভারতীয় ওমরাহযাত্রী মারা গেছেন এবং তাদের বেশির ভাগই হায়দরাবাদের বাসিন্দা। তবে সৌদি আরব বা ভারত, কোনো পক্ষই সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।” সূত্র: এনডিটিভি