অনন্ত সুজনের ৫ কবিতা
প্রকাশিত : আগস্ট ০৮, ২০১৯
জাদু
বনেদি যে কোনো হাওয়া
তোমার ওড়না থেকে পাওয়া—
অনুভূতিময়, লীলাকমল!
যেন গানের পর অনুরণন
নেশাগ্রস্তের পক্ষে বর্তুল বাহবা
কী আশ্চর্য, দূরের আকাশে মেঘ
আমার তখন শরীরভর্তি রতিরোদ
অঙ্গবিহীন আলিঙ্গনের ঘাম আর ঘাম!
যাত্রা
নীলা আপার ব্যতিক্রমী ব্যথার স্তম্ভ ছুঁয়ে পাপের পথে হেঁটে যাচ্ছে বালিকা! উতলা অস্থির!
প্রগাঢ় আর্তনাদ ছড়িয়ে ডুবে যাচ্ছে চোরাবালিতে!
অদূরে দাঁড়িয়ে ভাবছি, আমি আজও কোনো মৃত্যুদৃশ্য সইতে পারি না!
আমি সম্ভবত মানুষই নই কোনো!
মিথ
স্বর্গের প্রস্ফুটিত ফুল ছিল শুধুই সাদাগোলাপ
বাম পাঁজরের হাড় হাওয়াকে পেয়ে অপ্রতিরোধ্য
আদম নিজেকে প্রথম পুরুষ ভেবে পুলকিত হয়েছিল।
ওষ্ঠে বাঞ্ছার জাদু রাখতেই—
প্রেমে
কামে
ঘামে
ম্রিয়মাণ সাদাগোলাপ মুহূর্তেই লালগোলাপে পরিণত
হয়ে বিস্ময় ছড়িয়েছে বাগানে-বাগানে!
রাতের তৃতীয় প্রহরে, আমার নিমগ্ন চিন্তাকক্ষে
গোপন আলাপচারিতায় ঘটনাটা বলেছিল,
ফেরেশতা জিবরাঈল!
সাইরেন
আজকাল বাতাসের রঙ কবন্ধ-কালো
প্রেমিকের চোখ আচম্বিত চোরাবালি
প্রেমিকার দু`হাতে খেলা করে ৫২ তাস!
অসম্ভবের নেই কিছু বাকি আর!
মুখ সব মুখোশের অশুভ দূত
সঙ্গ-শয্যা-সহবাসে তাই সন্দেহ বিপুল
বিস্ময় শব্দটি জাদুঘরে সুরক্ষিত!
বেঁচে আছি, এইতো বেশি!
প্রবাহ
মেয়েটি অসহ্য সুন্দর, আনন্দের অপেরা
স্নানের তাজা বিহ্বল কামিনীঘ্রাণ আর অগণিত
লোলুপ চোখ আজন্ম তার দাসত্বে বিলীন!
এ অভিজ্ঞান অবদমনের আয়াত হতে উৎসারিত!
হয়তো নিজেও জানে না— অজান্তে, আড়ালের
নির্মেদ-নির্জনতায় প্রতিনিয়ত লুণ্ঠিত
অজস্র চিত্রকল্প বা মৈথুনে!
স্নানঘরের সাক্ষাৎকার নেবার প্রাক্কালে ব্যাপক
তুফান সামাল দিতে হয়েছিল— অবিবাহিতের
গমন মাত্রই নিঝুম-নিধুবন! ঝড়ের পাপড়িগুলো
করুণ ছড়ানো ছিল। গোপনে ফেলে রাখা তরল
বিদ্যুৎ, ছোপ ছোপ রুপালি দাগের অন্তরঙ্গে
সে-কি উষ্ণ, দিকহারা রঙিন অভিযোগ!
এই যে হঠাৎ বৃষ্টির বিষয়টি তোমার বুক থেকে
ওড়না সড়ে যাবার দুর্লভ বিভূতি—
হাড়ের গভীরে প্রকাণ্ড গ্রীষ্ম ঠেলে দেয়।
মনে মনে আমি তখন জলধির স্বামী!























