ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা প্রস্তুত মার্কিন সেনাবাহিনীর

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : মার্চ ২১, ২০২৬

ইরানে স্থল অভিযানের জন্য বিস্তৃত পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। শুক্রবার সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিকল্পনায় ইরানি সেনাদের আটক, বন্দি করা এবং আধাসামরিক বাহিনী মোকাবিলার বিভিন্ন কৌশল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একাধিক বিকল্পও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “প্রেসিডেন্টের সামনে সম্ভাব্য সামরিক বিকল্প তুলে ধরা পেন্টাগনের নিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে এর অর্থ এই নয় যে, স্থল সেনা মোতায়েনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে এরই মধ্যে ৪টি যুদ্ধজাহাজ ও ৪ হাজারের বেশি মার্কিন মেরিন সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রথম দলটি এক সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছাতে পারে।

এ ধরনের প্রস্তুতি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ইঙ্গিত দিলেও, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “আমি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছি না। আর পাঠালেও তা আগে থেকে জানাতাম না। এই সংঘাত দ্রুত শেষ হবে।”

তেলের বাজার নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, প্রত্যাশার তুলনায় দাম কম বেড়েছে এবং অভিযান শেষে বিশ্ব আরও নিরাপদ হবে। তিনি দাবি করেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার এই অবস্থানের সঙ্গে একমত।

রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক মনে করে, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের স্থল অভিযানের নির্দেশ দেবেন। তবে মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ এ ধরনের যুদ্ধের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।

জরিপে আরও দেখা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ছিল ৩৯ শতাংশ, যা বর্তমানে বেড়ে ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে।