অমিতাভ পালের একগুচ্ছ কবিতা
প্রকাশিত : জুলাই ০৬, ২০১৯
বেল্ট
গলায় বেল্ট বাঁধা একটা কুকুর ঘুরছে রাস্তায়
দেখেই বোঝা গেল কুকুরটার কোনো মালিক আছে
এবং সে একটা নিয়মিত জীবনযাপন করে
বেতন পায়
বিনিময়ে মালিকের নির্দেশে কাজকর্ম করে
আমার কোমরে একটা বেল্ট আছে
আমার পরিধানের প্যান্টটাকে যথাস্থানে আটকে রাখার জন্য
নাহলে যে আমি নগ্ন ও বুনো হয়ে যাব
তখন যেকোনো সময় কামড়ে দেব মালিকের পায়ে
বেল্ট আমাদের সভ্য করেছে
আর্টস্কুল
আমরা প্রত্যেকেই নিজেকে বানাচ্ছি
নিজের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা আর অনুপ্রেরণা দিয়ে
আমরা প্রত্যেকেই নিজের ওপরে চালাচ্ছি হাতুড়ি বাটাল
আমাদের পৃথিবী আমাদের প্রত্যেকের মতো
আমরা প্রত্যেকেই আমাদের নিজেদের ভাস্কর
প্রতিদিনের মৃত্যু
প্রতিদিনই মৃত্যু আসে
গোপনে আড়ালে অন্য কোনো দেশে গ্রামে বাড়িতে
প্রতিদিনই কেউ না কেউ কাঁদে
আর আমরা এইসব সত্য জেনেও প্রতিদিনই জীবনযাপন করি
দূরের বৃষ্টির মতো
তারপর হঠাৎ একদিন মৃত্যু প্রকাশিত হয়
সিনেমায় অকস্মাৎ হাজির হওয়া কোনো নগ্নদৃশ্যের মতো
তখন আমরা কেউ কেউ গেল গেল বলে প্রথা আঁকড়ে ধরি
কেউ মুচকি হেসে উপভোগ করি দেহের কুসুম
আর কেউ তারস্বরে চিৎকার করে উঠি আবিষ্কারের আনন্দে—
মৃত্যু জাগে
দূরের বৃষ্টি কাছে চলে আসে
আমরা ভিজে যাই তার অকাল বর্ষণে
এবং আরো সবুজ হয়ে উঠি মৃত্যুর গন্ধে
তারপর আবার মৃত্যু লুকিয়ে পড়ে আমাদের জীবনে ফেলে রেখে
মোহের রুটিন
বাসা থেকে সেজেগুঁজে বেরিয়ে রাস্তার যুদ্ধ শেষে
ঘর্মাক্ত হয়ে অফিসে পৌঁছলাম
আমার সব জামাকাপড় তছনছ হয়ে গেছে ব্যবহৃত ঠোঙার মতো
মনে ফণা তুলছে রাগ
এই নীল গ্রহটাকে এখন অসহ্য লাগছে
ঠিক তখনি সারাশরীরে ঝাপটা মারলো অফিসের
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাতাস
এক গ্লাস ঠাণ্ডা জল আর এক কাপ চা
আর আমি ভুলে গেলাম রাস্তার যুদ্ধ পোশাকের অপমান
এবং ফণাতোলা রাগের কথা—
এখন আমি সুখি
তারপর বিকেলে আবার আমাকে নামতে হলো রাস্তার যুদ্ধে
আবার ঘর্মাক্ত হয়ে বাসায় ফিরলাম
আবার আমার পোশাকগুলি বিরক্ত হলো
আবার রাগ জেগে উঠলো ঘুম থেকে
আর ঠিক তখনি ফ্যানের ঠাণ্ডা বাতাস
(আমার কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র কেনার ক্ষমতা নেই)
বউয়ের বাড়িয়ে দেয়া চা আর
ছেলেমেয়েদের কলকল হাসি
আমাকে আবার ফিরিয়ে দিল হাসিমাখা মুখের
এক আদর্শ গৃহস্বামীর ভূমিকা—
এখন আমি সুখি
আগামীকাল সকালের আগে কেউ আমাকে বিরক্ত করো না
অফিস টাইম
হুড়মুড় করে ছুটে আসছে বাস ট্যাক্সি টেম্পো সিএনজি রিক্সা
কিন্তু সবগুলিই ভরা দুপুরের ভোজনশেষে
মধ্যবিত্তের পেটের মতো
এদিকে মাথার ওপরে গনগনে সূর্য আর
মাথার ভিতরে জরুরি কাজ—
আমরা কিভাবে যাব?
এইসময় একটা খালি সিএনজি পেয়ে উঠে বসলো
একটা ফর্সা গোলগাল লোক
তারপর হুস করে বেরিয়ে গেল আমাদের হা করা মুখের সামনে দিয়ে
আর আমরা অভুক্ত কুকুরের মতো লোলুপদৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলাম
ডাইনিং টেবিলে লালা আর মাংসের কুস্তি
ঘ্রাণের পরে আজকাল দেখাতেও পেট হয়তো কিছুটা ভরে—
এই শান্তি নিয়ে
ওইতো পিছনের বাসটায় লাফিয়ে ওঠা একটা মুখে
জ্বলছে বিজয়ের আলো—
আমরাও তাহলে কোথাও কোথাও জিতি
সবুজ সবজিরা
(দাদন ভাইয়ের কথা মনে রেখে)
কৃষিবিদদের স্মরণসভায় আজ উচ্চারিত হলো
একটি বামপন্থী সবজির নাম
ফলনের বিশ্ববিদ্যালয়ে সে শিখেছিল ছড়িয়ে পড়তে
গড়ে তুলতে আর রান্নার সময় মিশে যেতে
লবণ জল ও মশলার সাথে
আজ তার স্মরণসভায় অনেকেই টের পাচ্ছে
তাদের কোষগুলিতে তার পুষ্টি উপস্থিতি
কৃষিবিদদের স্মরণসভায় আজ একটি বামপন্থী সবজি
গাইলো জীবনের গান
সবুজ সবজিরা সব বামপন্থীই হয়
বাংলা পর্ন
দুইটা হলুদ সাপ জড়াজড়ি করছে
বিছানায় মনে ভোরের স্বপ্নে বাথরুমে
তাদের হলুদ শরীর দুইটা চারদিকে ছিটাচ্ছে হলুদ রঙ
চারপাশ হলুদ হয়ে যাচ্ছে
দুইটা হলুদ সাপ নগ্ন তুমি আর আমি























