অরিজিৎ কুণ্ডুর দুটি কবিতা
প্রকাশিত : এপ্রিল ১৮, ২০১৯
আমার তোমার দেশপ্রেম
গোধূলিকালে অদ্ভুত ছন্দে
দলবেঁধে সারি সারি পাখি
যেমন ডানাওয়ালা জেটপ্লেন একসাথে
বীরবিক্রমে ধোঁয়ার নিশান রেখে পাশাপাশি ওড়ে
অথবা তারা আদৌ এক নয়
আমার কাছে তোমার কাছে কোনটা দেশ?
পাখি না জেটপ্লেন?
মানচিত্রের ফানুসে গ্যাস ভরে যে দেশ
সেটা আমার দেশ না।
শিশুর মুখ, পাহাড়ে মেঘের স্তব অথবা
প্রেমিকার খিলখিল হাসি আমার দেশ ।
আমার দেশ মানে পাড়ার চায়ের দোকানে
আলুর দাম থেকে পাশের বাড়ির কেচ্ছা
অথবা হক আদায়ের দাবীতে পথে নামা মলিন পায়ের পাতা
বুলডোজার দিয়ে ঘর ভেঙে রাস্তা
আর কোনও এক বেনিয়াকে বেচে দেওয়া দেশ
আর যারই হোক, আমার না।
ওই পোড়া শ্মশান নিয়ে তোমরা থাকো।
ওই শ্মশানে সহোদরের লাশের উপর ভেলভেটের কার্পেট বসিয়ে
তেরঙ্গা পতাকা জড়ানো জোকারদের ভাড়া করে এনে
বুক বাজিয়ে উল্লাসে নাচো।
আমরা গুটি কয়েকজন
এখনও হাতে হাত রেখে স্বপ্ন দেখবো
মানচিত্রবিহীন এক দেশের।
শেষদিনের চিঠি
বন্ধু রে
নেশাতুর চোখে কত কথা বলে যাস
মাঝে সাঝে বমির মতো
আবার পরক্ষণে শোনায় যেন
শুকনো পাতা পুড়তে দেখে
আদিম সন্ন্যাসীর ধ্বংসের হাসি।
লুকোচুরি কুমিরডাঙার
রঙ রঙ কল্পনার রাজবাড়ি সব শেষ,
কোন দেশে কার সাথে তুই
আর পাল্টে পাল্টে এখন কোনটা আমার ঘর।
কাঁচের অট্টালিকায় ভালোই আছি
প্রতিবিম্ব দেখিনি বহুকাল
স্বচ্ছ স্ফটিক কাঁচের দেওয়াল
আয় ভেঙে দিয়ে চোখে চোখ রাখ
আমায় নিয়ে চল নদীর পারে ওই শ্মশানে
একজন্ম পোড়ার শব্দ শুনিনি
চল শ্মশানে গিয়ে চুপচাপ
পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া
ছোটবেলায় প্রিয় নদীর
পুড়ে যাওয়ার শব্দ শুনি।























