আগস্টে ৩৮ গণপিটুনির ঘটনায় নিহত ২৩: প্রতিবেদন
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৫
আগস্ট মাসে ৩৮টি গণপিটুনির ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৪৩ জন গুরুতর আহত হয়। জুলাই মাসে গণপিটুনির সংখ্যা ছিল ৫১টি এবং নিহতের সংখ্যা ছিল ১৬।
মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) আগস্ট মাসের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। রোববার গণমাধ্যমেক পাঠানো এমএসএফের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও নিজেদের তথ্যানুসন্ধানে এই প্রতিবেদন তৈরি করে সংস্থাটি। নিহতদের মধ্যে ১০ জনকে চুরির অভিযোগ, ৪ জনকে সন্দেহজনক চুরির অভিযোগ, ৩ জনকে ডাকাতির অভিযোগ, ১ নারীসহ ২ জনকে পূর্বশত্রুতার জেরে, ১ জন মাদক মামলায় অভিযুক্ত, ২ জনকে ছিনতাইয়ের অভিযোগ ও ১ জনকে চাঁদাবাজির অভিযোগে হত্যা করা হয়।
আগস্ট মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ৩৩টি ঘটনায় ৯৬ সাংবাদিক হামলা, হয়রানি, হুমকি, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আগস্টে আক্রান্ত সাংবাদিকদের সংখ্যা জুলাই মাসের তুলনায় প্রায় ৩ গুণ। আর নির্যাতন ঘটেছে জুলাইয়ের প্রায় দ্বিগুণ।
এমএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্ট মাসে আক্রান্ত সাংবাদিকদের মধ্যে ১ জন হত্যা এবং ৩৬ সাংবাদিক আইনি হয়রানির শিকার হয়েছে, যাদের মধ্যে ১ জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২৩ সাংবাদিক তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আহত ও হামলার শিকার হয়েছে। লাঞ্ছনা ও হুমকির শিকার হয়েছে ১৬ সাংবাদিক এবং ২০ সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
আগস্ট মাসে ৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় দুজন নিহত ও ৫৪৭ জন আহত হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪ জন গুলিবিদ্ধ এবং নিহত ব্যক্তিরা বিএনপির কর্মী-সমর্থক। সহিংসতার ৪৯টি ঘটনার মধ্যে ১১টি ঘটনায় রাজনৈতিক বিরোধ ও সহিংসতাকে কেন্দ্র করে পার্টি অফিস, বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিকাণ্ড এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে।
সহিংসতার ৩৮টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বে ২৩টি, বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে ৫টি, এনসিপি-আওয়ামী লীগ দ্বন্দ্বে ২টি, বিএনপি-এনসিপি দ্বন্দ্বে ১টি, বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ২টি, আওয়ামী লীগ-জামায়াত সংঘর্ষে ১টি, আওয়ামী লীগ-গণপরিষদ ১টি, জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের সংঘর্ষের ২টি, গণ অধিকার পরিষদ-পুলিশের ১টি সংঘর্ষ ঘটেছে।
আগস্ট মাসে কারা-হেফাজতে মৃত্যু কমেনি। এমএসএফের তথ্য বলছে, আগস্টে কারা হেফাজতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত মাসে এর সংখ্যা ছিল ১০। এ মাসে ৩ কয়েদি ও ৭ হাজতির মৃত্যু হয়েছে।
কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৩ হাজতি, ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে ১ হাজতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে ১ হাজতি, কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে ১ হাজতি, নড়াইল কারাগারে ১ হাজতি এবং রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার, রাঙামাটি জেলা কারাগার ও শরীয়তপুর জেলা কারাগারে একজন করে কয়েদি মারা যায়।
এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে বিভিন্ন পর্যায়ে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু নির্যাতনের ১০টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট ২টি, ধর্ষণের ১টি, জমি দখলের ঘটনা ১টি, ১টি গুজব এবং ৩টি ঘটনায় কটূক্তির অভিযোগে ৩ জন যুবককে গ্রেফতার করা হয়।
এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে ৩৪৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন হয়, যা গত মাসের তুলনায় ৩টি কম। এ মাসে ধর্ষণের ঘটনা ৪৭টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১৯টি, ধর্ষণ ও হত্যা ৪টি। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৯ প্রতিবন্ধী কিশোরী ও নারী।
ধর্ষণের শিকার ৪৭ জনের মধ্যে ১১ জন শিশু, ১৭ জন কিশোরী, অন্যদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় ৬ জন কিশোরী ও ৯ জন নারী এবং ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় ২ জন শিশু ও ১ জন কিশোরী। ধর্ষণের চেষ্টা ২৪টি, যৌন হয়রানি ২১টি, শারীরিক নির্যাতনের ৯৪টি ঘটনা ঘটে।























