আত্মদীপের ৩ কবিতা

প্রকাশিত : মার্চ ০৬, ২০১৯

জীবন থেকে শেখা

কবিতাকে জীবন করে ফেলো,
মেঘ করে আসুক উত্তরায়ণ পথে...
অনেক শ্রাবণ ধৌত করে, মৃত্যু সরাতে সরাতে,
জল ধোয়া ঘাট থেকে স্নাত হয়ে ফিরে আসুক বিধবা স্মৃতি।
ঘষে ঘষে তুলে ফেলো বন্ধন যত ছিল,
মাথার উপরের ছাদ পিটিয়ে, টুকরো টুকরো করে ভেঙে,
আমাকে আকাশ দিও অসীম,
ভালোবাসতে তো পারলে না, আমাকে একটা কবিতা দিও কবি।

থেমে যাওয়ার আগে

শোনো, তুমি আমার ভেজা চোখের পাতা, জ্বরের কপাল,
আমার প্রতিশ্রুতির ঠোঁট ছুঁয়েছ, তুমি আমাকে ছেড়ে যেও না!
মনটা আর কত টুকরো করলে তবে শান্তি পাবে সময়?
হাজারখানেক মানুষ মেরেও কী ভালোবাসা জেতা যায়? নন্দিত-কিশোর!
নিজের থেকেই কাছে টেনে, নিজের থেকেই দূরে ছুঁড়ে ফেলতে গেলে
নিষ্ঠুরতার জীবন লাগে দু-চার জন্ম,
ভালোবেসে দেখতে পারলে হেরেই যেতে, তাই না?
এখন আমি কোথায় যাই বলো তো...!
হাজারটা নদী পেরিয়ে তোমার পলকা দরজায় দাঁড়িয়েছি...  
শরীরে আমার বন্যার হাহাকার, মনের কাছে জল ফুরোনোর আশঙ্কা,
আমাকে এখানে ছেড়ে  যেও না... যেও না...

ঘরবসত

তুমি বললে বসন্ত,
সে বুঝল চিকেন পক্স!
তুমি প্রেম বললে, সে বাজারের ফর্দ বোঝে...
ইলিশ আর চিংড়ির দ্বন্দ্ব,
অনুভূতি আর যন্ত্রণার ঝগড়া...
তুমি বুঝলে না, সেও বোঝেনি কখনো...
সময় গেলে সমস্ত সম্পর্কই খাদ্য-খাদকের হয়ে যায়, তাই না?