আবু তাহের সরফরাজের ই-কারের ছড়া

প্রকাশিত : জুলাই ৩১, ২০১৯

ক থেকে ড বর্ণ পর্যন্ত হ্রস্ব ই-কার দিয়ে যত শব্দ বাংলায় ব্যবহৃত হয়, সেসব দিয়েই এই ছড়া। যেমন কি দিয়ে যত শব্দ আছে, কিম্বা খি গি ঘি এই রকম। তো পাঠক, চলুন পড়ে নেয়া যাক—

 

কি
কিমাকার কিসমত কিল খেলে হাসে
এক কিলো কিশমিশ খেতে পারে মাসে।
কিচমিচ করে যদি কিছু-কিছু দানা
কিলবিল কীট ধরে খায় মিহিদানা।

কিপটের দাঁতগুলো করে কিড়মিড়
কিরকিরে কিলাকিলি করে যেথা ভিড়।
কিশলয় ইসকুলে যাও ছায়াবীথি
ফুলপাখি পাতাদের লেখো ছড়াগীতি।

খি
খিলখিল হাসে ঝিল টলটলে জল
খিলিপান খেয়ে যান খিটিমিটি দল।
খিল দিয়ে করো বিয়ে খিলানের ওপরে
খিদে পেলে যাও জেলে হরিনাম জপো রে।

খিচিমিচি মিছেমিছি খেতে চায় খিচুড়ি
খিটখিটে বুকেপিঠে বয়ে নেন সুপুরি।
খিদমত নাকে খত দিয়ে যায় বাড়ি
খিঁচ ধরে এরপরে ফেরে তাড়াতাড়ি।

গি ঘি
গামছায় গিঁট দিয়ে গিটটু
গিলা করা জামা পরে একটু।
ঘি দিয়ে ঘিলু রেঁধে গিন্নি
দরগায় গিয়ে দেন শিন্নি।

গিনিসোনা পেলে গিরিগুহাতে
ছুটে যান রাত নাই পোহাতে।
গিরিমাটি ঘিরে গিরগিটি
ঘিনঘিন করে মিটিমিটি।

গিজগিজ গিটকিরি এলে
তাকে নিয়ে খেলে ছেলেপেলে।

চি
চিরকাল চিরসুখি চিরজীবী হয় না
চিরায়ত চিনিপাতা দই কেন খায় না?
চিটচিটে চিটেগুড় খাও এক চিলতে
চিদাকাশে চিৎ হয়ে চিঠি লেখে গুলতে।

চিটেধান চিকনিয়া চিঁড়ে হবে কীসে?
চিতাবাঘ চিৎকার দিয়ে বলে, মিছে।
চিড়চিড় চিড়বিড় চিল ওড়ে আকাশে
চিমনির ধোঁয়া খেয়ে কাল যাবে ঢাকা সে।

চিঁহি ডাক ছেড়ে ঘোড়া নাড়ে তার চিবুক
চিমটি খেয়ে বলে, চিতাকাঠ নিভুক।
চিড়িতন চিমটানি কাটে তাই চিড়িয়া
লেবু খায় চিপে চিপে, যেতে চায় সিরিয়া।

 

ছি
ছিপি খুলে ছিপছিপে
লেবু দেয় চিপেচিপে।
ছিমছাম ছিটকিনি
খুললেই তবে চিনি।

ছিরিছাদ ছিনেজোঁক
ধরে খায় তিন ঢোঁক।
ছিনিমিনি ছিঁচকে
ছিরিছাঁদ পুচকে।

ছি ছি ছিনা টান
ছায়াবীথি দেখে যান।  

জি
খুঁটে খুঁটে খাও কি?
খুকি বলে, জিলাপি।
জিরাফ এলে দাও কি?
খুকি বলে, গাওয়া ঘি।

জিদ হলে খাও কি?
খুকি বলে, কুলফি।
জিভ কেটে জিজিয়া
কর দাও হাসিয়া।

জিরজিরে জিনিস
জিত হলে কিনিস।

ঝি
ঝিমধরা ঝিমঝিম মাছ ধরে ঝিলে
ঝিকমিক ঝিরঝির কাজে খুব ঢিলে।
বাঁশবনে হিজিবিজি ডাকে ঝিঁঝিপোকা
ঝিঁকে মেরে ঝিঁক ধরে বসে আছে খোকা।

ঝিনিঝিনি ঝিনঝিন ঝিরঝির বিষটি
ঝি এলে ঝিয়ারী খেতে চায় মিষটি।
ঝিলমিল ঝিঙেফুল ঝিনঝিন হাতপা
ঝিঙা খেয়ে মাঝরাতে ডেকে ওঠে আব্বা।

টি
টিউটর টিউশনি পেলে টিকটিক
ডেকে ওঠে টিকটিকি, ঠিক ঠিক ঠিক।
টিপ পরে টিটকারি টিপসই চায়
টিয়া এলে টিনটিনে টিকা নিতে যায়।
টিপকলে টিপটিপ পানি পড়ে রোজ
টিফিনের ফাঁকে খোকা খেতে চায় ভোজ।

ডি
ডিগডিগে ডিগবাজি দিয়ে খায় ডিনার
এরপর ডিজাইন করে উঁচু মিনার।
ডিঙা বেয়ে ডিঙি এলো ডিমিডিমি তালে
ডিসমিস ডিমভাজি নিয়ে এলো থালে।
ডিমিডিমি ডিবে খুলে খায় খিলিপান
ডিপজিট রাখা আছে দু’হাজার গান।
হারামির ডিপো এসে বলে, ডিগডিগে
পানতা খাই চল পেড়ে এনে ছিকে।