আবু তাহের সরফরাজের প্রেম ও প্রার্থনার কবিতা
প্রকাশিত : মে ২২, ২০১৯
হাহাকারগুলো
বুকের ভেতর হাহাকারগুলো
হুদাহুদি কেন ওড়াতেছে ধুলো?
ধুলোর প্রলেপে বিস্মৃত স্মৃতি
প্রেমিক সত্তা হতে চায় কৃতি
সে তো বেঁচে আছে দূর কোনো গ্রহে
মুক্তার দ্যুতি আছে সংগ্রহে।
নীরবে যে সয়ে আমূল যাতনা
গভীরের ক্ষত হয়ে যায় সোনা
আয়নার মতো মুখোমুখি প্রেম
এই ভবদহে পরকীয় ফ্রেম।
ফ্রেমের ভেতর কথাটথা হয়
ছবির ভাষায়, দৃশ্যত নয়
এইসব কথা অস্ফুট তবু
হৃদয়ের খুব ভেতরের প্রভু
বলতেছে ডেকে, আবে জমজম
এক ঢোঁক খেয়ে বসে নিও দম।
এ তো দুর্দম দুর্মদ তিয়াসা
আমি কি খিজির? মিটবে পিয়াসা?
যখন আঁধার যখন কুয়াশা
উপন্যাসের নিগূঢ় ধোঁয়াশা
দু’হাতে সরিয়ে, ডাক দিল সে, আয়
পরকীয় চাঁদ রাতেই দ্যাখা যায়।
এত তীব্রতা, যেন এইবার
নীলিমা খাতুন বিস্মৃত, আর
হাহাকারগুলো ভরাট করি হে, চলো
খোদার আসন কাঁপতেছে টলোমলো।
মুক্তার দেহ নাকি অমৃত
চেটেপুটে খায়, যে প্রেমিক মৃত
এ কী বিভ্রম নাকি ঘটমান
জন্মান্তরে নেই ব্যবধান
বেঁচে উঠি তাই মুক্তার রওশনে
আমিও প্রেমিক পৃথিবীর এক কোণে
বসে আছি একা; ঝরে মননের ঘাম
নিয়তির হাতে লেখা আমাদের নাম।
ঝড় কেন ওঠে মাথার ভেতর?
বুকে কেন হাহাকার?
আয় তো এবার ঝিনুকের ডালা
খুলে দেখি, কে কাহার!
যৌবন
যৌবন তোর নাকের ডগায় বিন্দু বিন্দু ঘাম
নক্ষত্রের চূর্ণ যেমন, বিস্ময়ে দেখলাম,
ছিপছিপে তোর সুঠাম শরীর শীত-কুয়াশায় কাঁপে
তলোয়ার কি আছে ঢাকা যৌনসীমার খাপে?
যৌবন তোর লাল নদীটার রক্ত ছলাৎ ঢেউ
আছড়ে পড়ে তীর বরাবর, বাঁধ মানে না সেও।
বাঁধ যেন তার ব্যক্তিগত দেহের সংস্কার
বাঁশবাগানে জ্যোছনার ঢেউ বাইরে অন্ধকার।
দ্বার খোলো হে ঝিনুকমালা খোলো দেহের ভাঁজ
বুক ধুকপুক মুক্তার শ্বাস লুট হবে গো আজ।
দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ ছায়া চাঁদের বিপরীতে
দুই শরীরের উত্তাপে চাঁদ তাপ ছড়াবে শীতে।
যৌবন তোর নুন-সাগরের তীরে জ্যোছনার মাঠ
লাঙল চষে মুগ্ধ কৃষক, কাঁপছে বাঁশের খাট।
বাঁশবাগানের মাথার ওপর চাঁদ উঠেছে ওই
আয় তো আমার দেহের ভেতর, আরও একক হই।
যৌবন তোর জায়নামাজে সেজদায় পড়ে দেহ
নামাজির ধ্যান পারলৌকিক, মনে তবু সন্দেহ।
বুকপকেটে হৃদয় কাঁপে, শব্দ কাঁপে বাক্যে
অক্ষরে লাল যৌবন তুই কল্পনাতেই থাক গে।
যৌবন তোর লাল মলাটের বইতে লিখেছি পদ্য
কেউ পড়ে কয়, অশ্লীল খুব, কেউ বলে অনবদ্য।
আত্মার জাগরণ
আমি তাকে পাঠাতে চেয়েছি জগতের আদিম ইশারা
ভাষা নেই, তবু পরস্পরের চোখে আর চোখে দৃশ্যের জন্ম হয়
ছোট ছোট মুহূর্ত। এই যেমন, ভোরের জমে ওঠা কুয়াশা যখন চারদিকে
কনকনে আর শরীরের হাড়ে শিহরণ তুলে দ্যায়
ঘুম থেকে উঠে আমি যাই দোকানে, এটাসেটা কিছু একটা কিনতে
ঠাণ্ডায় ভিজে থাকা পথটুকু হাঁটতে হাঁটতে আমি দেখতে চাই তাকে
হঠাৎ যদি দেখা হয়ে যায়, ধরা যাক, ঘরের সিঁড়িতে সে দাঁড়িয়ে আছে
যেন এইমাত্র ঘুমভাঙা রক্তজবা
ভোরের সূর্যের মতো উজ্জ্বল, ঠোঁটদুটো কী রকম আহ্লাদি ভঙ্গিমায় হেলে পড়েছে
আর চোখের ঢুলুঢুলু কাতরতা যেন একটি স্থিরচিত্র
টুকরো হয়ে ঝুলে রইল আমার বুকে।
ধরা যাক, আরো কোনো একদিন, সেদিন বিকেলে
আমি হাঁটতে বেরোলাম রাস্তায়
দু’পাশে গাছপালা, শর্ষেখেত, ফুটে আছে হলুদ ফুল
আর সে শর্ষেখেত মাড়িয়ে যাচ্ছে ওপারের মাঠে, সঙ্গে ছোট্ট মেয়েটি
জিগেশ করলাম, কী ব্যাপার, শর্ষেখেতে ছবি তুলবা নাকি?
পেছন ফিরে সে বলল, না, ভাল্লাগতেছে না, তাই একটু ঘুরতেছি
প্রতিদিন এই রকম ছোট ছোট দৃশ্যের জন্ম হয়
আমাদের খুঁটিনাটি নানা সময়ের ফাঁকে
আমি জেনে যায় যে, ইশারা
ওপার থেকেও আসে, কী যেন মানে আছে এই সব জমে ওঠা দৃশ্যের।
এই কামনা
এই কাম
এই প্রলোভন আমি
ক্যামোনে এড়িব প্রভু?
দ্যাখাও সরল পথ
যেপথে তোমার
প্রিয়জন গেছে শুধু।
বধূ শুয়ে আছে পাশে। শিশুটিও আছে। প্রেম আছে, আশা আছে জ্যোছনায়
তবু কেন দেখিলাম জীবনের ভূত? ঘুম কি ভেঙে গেছে আমার...
অথবা হয়নি ঘুম বহুকাল...
ওগো রাব্বুল আলামিন
একটা খেলা চলছিল
খেলাটা যেন দীর্ঘ একটা সূতার গুটি
যা খুলছে তো খুলছেই
খেলা চলছে তো চলছেই
বলতে কি, খেলাটা বিপজ্জনক
খেলাটা এভাবে চলতে থাকলে
হঠাৎ সময়ের কোনো একটা মুহূর্ত
আমাকে দাঁড় করিয়ে দেবে সামাজিক আদালতের কাঠগড়ায়
জৈবরসায়নের সূত্র এই যে,
কামতাড়িত মন আত্মার শুদ্ধতা হারায়
ফলে তা প্রেম নয়, শরীরের লবণ চেখে দেখার খানিক ইচ্ছে
আমি তো লবণশ্রমিক নই যে, সোনালি হৃদের তীর ধরে
আনন্দে আর শিহরণে চাষ করে যাব
ক্লান্তি ঝরে পড়বে ঘামে, লবণে
আমি জেনে গেছি, আমারই এই বোধ এই ছবির মতোন
ভাবনার কোনো নারী নেই
নারীর ছায়া আছে, নারী নেই
আমি জেনে গেছি, পৃথিবীর যা কিছু সুন্দরের মোহ
সবই ভোজবাজি, এই আছে এই নেই... হাওয়া
ওগো রাব্বুল আলামিন,
সকল প্রশংসা তোমারই প্রভু
তোমাতেই আমি লীন।
তুমিই সকল কিছুর সুন্দর
দীপাধারে যেন জ্বলে থাকা নূর
তারই ছিটেফোঁটায়
দুনিয়া রাঙায়
সুন্দরের তুমিই আদি সুর।























