আশরাফ রোকনের ৪ কবিতা
প্রকাশিত : আগস্ট ১০, ২০১৯
পামগাছ
পথ হাঁটি পথে শ্রাবণের হাওয়ায় উচাটন
পথের বৃক্ষমালার দিকে সহজেই নিষ্পলক
পারিনি যে তাকাতে একটিবারও তবু হে বৃষ্টি
প্রতীক্ষার ক্ষণগুলোর দীর্ঘতা পুষে রেখে জানি
নিয়ত এখানে যে আমার যাত্রাপথকেই আমি
আরও করছি দীর্ঘতর কত বেদনা ও ক্লান্তি
পার হয়েই জানি না পথ হেঁটে আজ কতদূরে
পথ হাঁটায় আশ্চর্য এক পথের দেখা মিলবে
একদা মহাজগতের অস্পষ্ট তারাগুলোরই
ঝলমলে অবস্থান ভেবে পথেরও শেষবিন্দু
দেখতে পাব নিজেকে নিজে কখনও
হয়তো বা কোনো অবজ্ঞায় হারিয়ে সহসাই
সুদীর্ঘ আবহমান পথরেখা ফুরোয় না আর
অনালোকিত বাহুর পাশেই আবদ্ধ মনে হয়
যাপন করি যে আমি এক প্রায়ান্ধকার পামগাছ!
নয়ানজুলির পাশে
একটা অপরিসর নয়ানজুলির পাশে এসে
দাঁড়াতেই মনে হয় শূন্য হতে ভেসে আসা
কণ্ঠগুলির অপরিচিত স্বর প্রভু হে এখানে—
অনাকাঙ্ক্ষিত যেখানে কেউই চেনে না
আর চিনি না যে আমাকেও আমি কভু,
তাহলে কী করে চিনবো তাদের সাতসকালে
যাদের কলহ ও কোলাহলে ঘুম ভেঙে গিয়ে
সাধের স্বপ্নেরা গেছে টুটে আজ; শোনা-বোঝার আগে
যদিও দিয়েছো শক্তি কিছু বোঝা ও শোনার প্রভু
সতত কেবলি মন দিয়ে তবু শুনে যেতে পারি নাই:
মনে হয় মৃত্যুর শাশ্বত দরোজা পাশে দাঁড়িয়ে কোনো
সহস্র প্রহর একা একাকী কী করে চিনবো তাহলে!
দিব্যরেখা
মূলত রাতের উচ্চারণ শোনে মুগ্ধ
তারা বাতাসের কণ্ঠে কণ্ঠ মেলাতেই
খোলা আকাশের বুকে দাঁড়িয়ে ঊর্ধ্বমুখি:
আর হয়তো বা কণ্ঠসাধনও আজ
নিরলে একাকী সামনে পেছনে দূরে
আরও সুরের অনুগমনে এখানে—
যুগ যুগ তাইতো সন্দিগ্ধ মনে হয়
নিত্য ফুটে ও ঝরে বকুল,
যেন কালের অন্তরাটুকু শোনাতেই
নিশি জাগে চাঁদ অসহিষ্ণু;
কী যে বিরহব্যথায় লীন!
নিশিজাগা বৃক্ষই কতক সারি সারি
শোনে সে-ই গান হয় চির উদাসীন,
নেচে ওঠে দূরে ওই চোখের অপারে—
চিক চিক যেথা দেখা দেয় সহসাই
রাতের যৌবন, প্রভাতের দিব্যরেখা!
স্বপ্নকথন
স্বপ্নে দেখি, হাওড়পারের জলের উপর গ্রাম
করচহিজলে ঘেরা সুনসান লাল মাটির ঘর,
অসংখ্য ভিত; পায়ের চিহ্নই মানুষের আর
মনে হয় মানুষেরা গড়ছে নিয়ত
সুনিপুণ বসতি তাদের
আবহমান সভ্যতা আর সবকিছু
গড়ে ওঠে শাসনতান্ত্রিক আবহমুক্ত সেখানে
নারী ও পুরুষ: প্রকৃতি ও বিজ্ঞান এই দুইটি
ভিন্ন সত্তা পরস্পর পরস্পরের ঘনিষ্ঠ খুব
যেনো একই স্রোতে দুইটি
বহমান নির্বিবাদ কাষ্ঠখণ্ড আর
সেখানে কোনো বিরোধ নেই
মানুষের সাথে মানুষের—
উপরন্তু সুন্দর বাতাসে দোলা দিয়ে
বহুদূর হতে বয়ে আসে দেখি, এক
নাব্য ঘোলাটে জলের নদী;
ফলে জলের তৃষ্ণায় ওষ্ঠাগত নয়
সেখানে সময়: নয় বাস্তবের মতো
মোটে নিঃসঙ্গ আর একা,
কাউকে যে সঙ্গে নেয় না কখনও পথচলায়।























