আশরাফ রোকনের ৫ কবিতা
প্রকাশিত : এপ্রিল ৩০, ২০১৯
চৈত্রের গীত বৈশাখে
কে বলো যত্ন করে বেঁধে দেবে
এ ঝুরঝুরে মাটির আর্তনাদ
বলো আর কে আর এমন তুমি ছাড়া
চৈত্রের এ চৌচির পারে লাগাতে জোড়া!
মওশুমের শুরুতে লাগা মড়কে ও মেঘপাখি
বৃষ্টিবিলাসী পৃথ্বির উষ্ণ দুই আঁখিজুড়ে আজ
দুই বৃষ্টিফোঁটা রেখে দিয়ে যেও ঊষার আগেই
কামিনীকাননে জুটবে তা হলেই সৌরভ
সাপেরাও মাতাল হয়ে আসবে ছুটে
জানাতে প্রণতি মানুষেরে
ভুলে গিয়ে পুরনো বিবাদ
প্রণয়ের হবে দীর্ঘ চাষ।
পরাজয়
কখনো কখনো শিকারির
ভেঙে যায় তাক
হাত খসে নিচে
পড়ে যায় যখন বন্দুক
নিশানার তীর সেও তীব্রতা হারায়
যখনই শিকারের ইচ্ছে যায় টুটে
দৃষ্টির আড়ালে শিকার হারানো আজ
শিকারির সবটুকু পরাজয় ভেবে
মুহ্যমান চোখে কেবলই
জল চলে আসে।
ছায়া
যখন মেঘের পালকে বোনা
সন্ধ্যা নামে চোখের উপর
হামাগুড়ি দেয় অন্ধকার
অার খণ্ড খণ্ড জোছনায়
স্বপ্নের বিলাপ মিলেমিশে
লেবুপাতার সবুজ আর
বৃষ্টিফোঁটায় রচিত কোনো
ঘুমেরই উপাখ্যান পাঠরত একা
শূন্যমাঠে দাঁড়িয়ে তখন
নিজের ছায়াটিকেই দেখা
দেখা কত কাতর আর সহায়হীন
পড়ে আছে যেন
মেঘেরাই প্রসব করেছে এইমাত্র!
বিস্মরণ এক
একদিন ফুল হয়ে ওঠার প্রতীক্ষাতেই আজ
চোখে তুলে নিচ্ছি অপূর্ব, অদ্ভুত সব কাঁটাদের;
রূপকথার সে সূঁচরাজার মতোই
মনে হয় আমার ঘুমকে
তারা বেঁধে রেখে দিয়েই ঘুমিয়ে গেছে
খুলে নি এখনও যাদের চোখের অর্গল
নক্সাকাটা ভোরের বাতাসে
জানি খুঁজে দেখবে না কেউ
কোনখানে কার প্রতীক্ষায় যায় ঝরে
আকাঙ্ক্ষায় তীব্র কোন গোলাপবকুল
ফুলস্বরা আলোয় চোখ ভরাতে কেনো
বিষম পথ হেঁটে গোপনে একা একা
আঁধারকে অতিক্রম করে যেতে হয়
আর পৃথিবীর শেষ সিঁড়ি মনে হয়
যেখানে ফুলেল সংগীত,
পাখিদের বিস্মরণ এক!
ক্যাপ্টেন
হুমায়ূন আজাদ— সময়ের স্মারক, শব্দশিল্পী
সূর্যের ঠিকানা জানতেই
আগ্রহি এতোটা পথ হেঁটে
এগিয়ে চলেছি
আর সময়ই
হাঁটায় ওঠবস করায় আমাদের
যেনবা সময় উদ্যমি ক্যাপ্টেন এক
আমাদের সামনেই থাকে সকল সময়
প্যারেডের তালে তালে বাঁশিবাজানিয়া
অদৃশ্যের গতিনির্দেশ জানায় আমাদের
আর জানি একবার মাত্র দাঁড়ালে যে
সবকিছু ভেঙে প`ড়ে নষ্ট হবে, নষ্ট।























