কবিতায় যেভাবে জীবনানন্দকে বেচলেন সাঈফ ইবনে রফিক
সাঈফ ইবনে রফিকপ্রকাশিত : জুন ১৭, ২০১৯
এক.
তেলাপোকা এখন বলছে,
সেই নাকি পোস্ট-মডার্ন পাখি।
করপরেশন যাদুতে
পর্যটন পাখির মতো অভিযোজন।
প্লাস্টিক শহরে যেমন কাকের রাজত্ব
মিলিটারি টিয়া পাখি ঢুকে গেছে
সিভিলিয়ান খাঁচায়।
সাইবেরিয়ায় যখন সিআইএ রোদ,
দূর্গাসাগরে তখন
অতিথি চিনাহাঁসের নাগরিকত্ব ইস্যু করছে পাখি সংসদ।
`আবার আসিব ফিরে` গাইতে গাইতে
জলবায়ু ফান্ডে কাঁপছে সাউন্ডবক্স।
বকের মিছিলে বকেয়া ফারাক্কার হিস্যা;
ইস্যুর বন্যায় দেখলাম লক্ষ্মীপ্যাঁচাও
প্রতিষ্ঠানের পালক পড়েছে।
দুই.
ধানসিঁড়ি এখন অভিজাত রেস্তোরাঁর নাম।
একদা প্যাডেল হুইলের পেটে আজ জংধরা প্রপেলার।
ইঞ্জিনের নৌকা দৌড়ায়, স্রোতে কাঁপছে জাল।
পূর্বপুরুষের ইলিশ এখন পুঁটি-সরপুঁটি
এরইমধ্যে মূলনদী ঘুরে গেছে, আর
গুগলম্যাপেও ভেজাল।
বরিশাল-কলকাতা স্টিমার রুটের ওপর এখন ধানক্ষেত।
গুচ্ছগ্রাম আর উন্নয়নের সর্বনাশ!
‘আবার আসিব ফিরে’ এই বলে জীবন ছেড়ে পালানো আনন্দে
কিছুটা বিষাদ; কড়া পরাজয়ের গন্ধে
বেশ ক্ষেপেছেন বনলতা সেন।
ঠিক ঠিক উত্তর দিন, জীবনানন্দ দাশ—
‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’
তিন.
নির্মলেন্দু গুণ ইলেকশন করেছিলেন।
রবীন্দ্রনাথের করা লাগে নাই।
জীবনানন্দ জানতেন না, ইলেকশন কি! দুনিয়াটা তার কাছে সিলেকশন মনে হইতো!
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ আমলা থেকে প্রোমোশন পেয়ে মন্ত্রী হন।
জীবনানন্দের দেখাদেখি যে অধ্যাপকরা আজ কবি, তারা ভোট দেন।
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর মতো যে আমলারা আজ কবি, তারা রিটার্নিং অফিসার সাজেন।
এরশাদই ভালো। ক্ষমতায় থাকাকালে কবি ছিলেন!























