কাজল কাননের ৩ কবিতা
প্রকাশিত : জুন ২৯, ২০১৯
চোরাবার্তা
তুমিও সবুজ ধসিয়ে খানিকটা হলুদ হও
মন থেকে দু’একটা পাতা, একটু ঝোপঝাড়
মেরে ফেলো; আহ্বান পাবে, ধান-দূর্বা পাবে
শুধু তোমার নিজস্ব কিছু নর্দমায় ফেলো
অন্তত ওই মুখগুলোর মতো
সুবাস পাবে বহুরূপী স্মার্ট চঞ্চল
দেখবে হলুদও ছাড়িয়ে গেছো একদিন
এই সময়ে এর চেয়ে সফল চোরাবার্তা নাই
বাবাকে ডাকি
বাবা যখন গান গাইতেন
ঘরে ছায়া পড়তো পরীর
বাবাকে বলতাম পরী নেবো
তিনি বলতেন গান নাও
আমি বলতাম আমার কণ্ঠ ভালো নয়
তিনি বলতেন গান কণ্ঠের কাজ নয়
আমি বলতাম সবাইতো বলে
বাবা বলতেন সবাই বললেই সব হয় না
এরপরও আমি পরীই চাইলাম
বাবা আমার মন ভাঙলেন না
এখন প্রতিবারই গান তোলার
চেষ্টা করলে গলায় পরী আটকে যায়
এই দশা কাটাতে বাবাকে ডাকি
শীতলক্ষ্যার আফালে ভাসে ত্বকীর মুখ
এই শহরের মুখর ফুটপাত আর
শেষ সুন্দর জানে
তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী
মাকে বলেছিল, ফিরে আসবো;
নুনভাতের মতো সেই প্রতিশ্রুতি আজও ঘোরে
নগরে ঢুকেপড়া বুনোবাতাস, শহীদ
মিনার, ভিখারির কানাপয়সা জানে
অনর্গল বিকেলের দিকে হেঁটে গিয়ে ত্বকী
মরা রাষ্ট্রে গানের অঙ্কুর তুলেছিল
সহোদর অশ্রু, সংক্ষুব্ধ মেঘ
পথ আর পথিকের মিশ্রণ জানে
এই শহরের কোথায় চুপসে
গেছে একটি নয়নতারা
যার কফিনে চাপা পড়েছি অজস্র আমরা
দুপুরের নহর বৃষ্টি, অনুচ্চারিত কথা জানে
মৃত্যুর বুদ্বুদ ওঠা শীতলক্ষ্যার
আফালে ভাসা ত্বকীর মুখ
বাবার গালে এঁকে যায় নীল প্রতিরোধ
যার যার নিঃসঙ্গ মৃত্যু, অন্তর্গত স্বপ্নক্ষরণ জানে
আমরা সন্তানের লাশবাহী এক বাবার সমকাল
আমাদের হাতে হাতে মরা নয়নতারা
দুর্বৃত্তের শহরে রোপণ করি আর
উদ্ভিদের মতোই জন্ম নেই সন্তানের ঘ্রাণে























