গাজায় একদিনে নিহত ৬৪, ত্রাণ নিতে গিয়ে নিহত ১৩

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : আগস্ট ২৭, ২০২৫

ইজরায়েলি বাহিনীর হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ৬৪ ফিলিস্তিনি নিহত ও ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। এ সময় মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে নিহত হয় ১৩ জন। অনাহার ও অপুষ্টিতে মারা গেছে তিনজন।

ইজরায়েলি সেনারা গাজার সবচেয়ে বড় শহর গাজা নগরীতে আরও গভীরভাবে ঢুকে পড়েছে। পুরো মহল্লা-মহল্লা ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। ফলে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর আর কোথাও আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থাকছে না।

আল আহলি আরব হাসপাতালের সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার গাজা নগরীর পূর্বাঞ্চলের জনবহুল বাজারে ইজরায়েলি হামলায় ৫ ফিলিস্তিনি নিহত ও অনেকে আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই নারী ছিলেন।

আল জাজিরার যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, ইজরায়েলি হামলার মুখে উত্তর গাজার আস সাফতাওয়ি এলাকা থেকে মানুষ পালাচ্ছে। প্রায় ১০ লাখ মানুষকে জোর করে দক্ষিণ দিকে ‘কনসেন্ট্রেশন জোনে’ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে ইজরায়েল।

ছবিগুলোতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপে ভরা ধুলোমাখা রাস্তায় লম্বা সারি বেঁধে হাঁটছে নারী-পুরুষ-শিশুরা। কারও হাতে ব্যাগ, কম্বল, খাটিয়া, কেউ ঠেলাগাড়িতে বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছে সামান্য জিনিসপত্র, আবার কেউ ছোট ছোট বাচ্চাদের হাত ধরে হাঁটছে।

প্যালেস্টাইনি সিভিল ডিফেন্সের হিসাব অনুযায়ী, ৬ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া টানা অভিযানে গাজা নগরীর জায়তুন ও সাবরা এলাকায় ১ হাজারেরও বেশি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে ইজরায়েল।

গাজা নগরীর বাসিন্দা ও লেখক সারা আওয়াদ বলেন, “ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে প্রতিদিন এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, নিজ ঘরে থেকে অবিরাম বোমাবর্ষণের ঝুঁকি নেবে, নাকি আবারও উদ্বাস্তু হবে। আমি সবসময় ভাবি, কেন আমাকে পালিয়ে গিয়ে তাঁবুতে থাকতে হবে। অথচ আমার ঘর তো এখানেই। প্রতিদিন দেখি, পরিবারগুলো ঘর ছাড়ছে, অথচ তাদের যাওয়ার জায়গা নেই।”

হাসপাতাল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ইজরায়েলি হামলায় ৬৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন নিহত হয়েছে সাহায্যের আশায় লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সমর্থিত জিএইচএফ চলতি বছরের মে মাসের শেষদিকে ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সাহায্য সংগ্রহের চেষ্টায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক দপ্তর (ওসিএইচএ) শেষ প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে, গাজায় ক্ষুধা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া জরুরি সেবাগুলো ভেঙে পড়ছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহারে মারা গেছে তিনজন। ফলে গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০৩। এর মধ্যে ১১৭ শিশু। সূত্র: আল জাজিরা