জান্নাতুল ফেরদৌসের একগুচ্ছ কবিতা
প্রকাশিত : জুন ১৮, ২০১৯
সুখ
সুখ ভাবলো সে বাড়ি যায়,
বিশাল বাড়ি, বিরাট গাড়ি।
ওইখানেই থাকি কিছুকাল।
গিয়ে দেখলো, বউটা কাঁদে
মারের তোড়ে।
ছেলেটা নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে।
মেয়েটা ধর্ষিত হয়েছে, আর পিতা প্রতিরাতে ফেরে নতুন নারী নিয়ে।
সুখ ভাবলো, চলে যায় নতুন কোনোখানে।
যেতে গিয়ে দেখে ভাঙা কুটিরে,
শিশুটি পেটপুরে খেল, পিতা দু’মুখ খেয়ে
বললো, পেট ভরে গেছে। বাকি খাবার
এগিয়ে দিল বউটিকে, যে কিনা হাসিমুখে বসেছিল শূন্য হাঁড়ি নিয়ে।
তুমি আমার
তুমি আমার কাছে এক উড়ন্ত প্রজাপতি
যাকে ধরা যায় না, চোখের তৃষ্ণা মেটে শুধু।
তুমি আমার কাছে প্রথম প্রেমের ব্যাকুলতা
যাকে কোনোদিন বলতে পারিনি, ভালোবাসি।
তুমি আমার মনের ভেতর ভীষণ অসুখ
যাকে আমি ক্ষত করতে দেই হৃদয়জুড়ে।
তুমি আমার ঘুমের মাঝে মিষ্টি স্বপ্ন
যাকে পাব বলে উড়াল দেই নীল আকাশে।
তুমি আমার নাইবা হলে আপন কেউ
যাকে ভালোবেসে খুব হয়েছে হৃদয় ব্যাকুল।
মানুষ
অদ্ভুত ব্যাপার, প্রাণীটা এসে দাবি করছে, সে মানুষ।
তার নাকি দুটি পা আছে, দুটি চোখ, দুটি কান।
সে হাঁটতে পারে, বলতে পারে, ভাবতেও
পারে।
সে গাইতে পারে, হাসতে পারে, কাঁদতেও
পারে।
নাক দিয়ে অক্সিজেন টানে, আর বাতাসে ছাড়ে কার্বনডাই অক্সাইড।
সে নাছোড়বান্দা, তাকে মানুষ হিসাবে মানতেই হবে।
অবশেষে সবচেয়ে যুক্তবাদী মানুষ তাকে বললো,
তুমি কি মিথ্যা বলতে পার? ধোঁকা দিতে পারো? খুন বা ধর্ষণ?
নিজের প্রজাতিকে ধ্বংস করতে পারো? যদি পারো, তবেই তুমি মানুষ।
সেই প্রাণীটি আর কোনোদিন মানুষ হওয়ার চেষ্টা করেনি।























