জুয়েল মাজহারের একগুচ্ছ কবিতা

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮

পিগমি হেন এই টরসো আমার

এক.
কোন মিড়-তারানায় কোন সুর বেহালায়
ক্রমে পাচ্ছে ভাষা; পরা নীল চাঁদোয়ার
নীচে রাত্রি দীঘল। বুকে গলছে বরফ
আমি নাই আমি-তে আমি অন্য কারো
চুরি করছি ছায়া; তাকে সঙ্গোপনে নিয়ে ঘুরছি
এবং করি সম্প্রসারণ ছোটো,
পিগমি হেন এই টরসো আমার

দুই.
আজ কোন ঈগলে হৃৎপিণ্ড আমার
বসে দূর পাহাড়ে তার বক্র নখে
হায়, খুবলে নিয়ে তার ক্রূর দু’ঠোঁটে
এই ঘোর আঁধিয়ায় শুধু রক্ত মাখে!

আর পারছি না যে এই পিগমি-দেহের
ভার বইতে আমার আর পারছি না যে
এই পিগমি ছায়াও আজ দুর্বহ খুব

ওগো মাতৃরূপেণ ওগো ধাত্রী আমার
মোরে লও কোলে আর এই দুঃখদিনে
হও দুঃখহরা
এই জ্বর-কপোলে এসে পরম মায়ায়
দাও আলতো পরশ তব মন্ত্রপুত
তব এই নিদালির আজ দাও পরশন
এই পিগমি দেহে
আজ শান্ত করো আর দুঃখ ভোলাও
এসো, লও গো কোলে নাও বক্ষে তোমার

নিশিডাক

সর্পদুষ্ট এক মায়াবন থেকে
কে যেন ডাকছে নিস্বর ইঙ্গিতে;
সাড়া দিতে ভয়। নীরবে পালাই,
আর,
ঝাঁপ দিয়ে পড়ি অন্য ঘুমের ঘোরে।

এই পলায়ন তবু অসফল, বৃথা!
অতিকায়-ডানা গরুড় পেছনে ওড়ে
কুহক-জটিল জাল পাতে ডাইনিরা
প্রেতযোনীদের আচমকা খল হাসি
ছল্কে পড়ছে শ্রবণের পেয়ালাতে;

অনেক নখর, অগণিত বাঁকনল
আংটার মতো ঝুলছে ওপর থেকে।
দশ দিকে আর সব দিকে ভয়ানক
রজ্জুর মতো সাপ পড়ে থাকে পথে
বুনো ক্যাকটাস, মায়াফুল মাথা নাড়ে!
ডাইনির আঁকা শ্মশানে ঝিঙুর পোকা
ডেকে মরে আর পাগল পাতারা ওড়ে

মরণফুলের বিভ্রমে দিশেহারা
জীবিতরা সব মরে গেছে কতো আগে
বুনো ক্যাকটাস, মায়াফুল মাথা নাড়ে!
আংটায়, ফাঁদে, বল্লমে, আঁকশিতে

কে কাকে শিকার করবে আজকে রাতে?
আততায়ী ঘোরে সখার ছদ্মবেশে।
বুনো ক্যাকটাস, মায়াফুল মাথা নাড়ে!