জ্যোতির্ময় চক্রবর্তীর একগুচ্ছ কবিতা

প্রকাশিত : জুলাই ০৩, ২০১৯

পাখিকল্পচোখ

পাখিদের কান্না কোনোদিন দেখিনি
এ চোখ সত্যি আমার কি!
গৃহত্যাগী যে ছেলে গিয়েছিল অরণ্যে
ছয় ক্লাস পড়ায় সে এখানে।
কুয়াশার ভোরে বুড়িগঙ্গা
বাড়ি ফিরে গেল
হলো না দেখা মুখোমুখি;
হয়তো দীর্ঘ দৃষ্টিত্রুটি।
জানা গেল, ভৈরবি বেদনায়
কোনোদিন যায়নি সে আর মানুষের শ্মশানে
রোজ রাতে তবু সেই মানুষের শরীরে শুয়ে
একা সকালে আমি
পাখিদের চোখ পরে থাকি।

উত্থান আলোক স্বাতী

উত্থান লিখে রেখে আলোকপাতায়
শিথানে হাত রেখে বসে ছিল কে!
প্রকৃতিস্থ স্তনে মুখ গুজে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম
জরায়ূ ছিন্ন; বিচ্ছিন্ন ক্রমে...

অতিদূর নির্বাসিত নষ্টনদী তীরে
মৃত শঙ্খসারদের কান্না ঘিরে
ঘোরলাগা বাজারের লাশকাটা কলে
অসহায় ভয় আর সংশয় অতলে
পরাক্রমে কে রেখেছিল স্বপ্ন-আঁচলে?

আজকের এ সুখ সকালে
সুর নূপুর-নিক্কনে
নিখিল আলোক নন্দনে
অখিল এ আনন্দলোকে
কে জাগালো আমাকে!

বিভ্রান্তি

উটকো লোক আমি তোমার নগরে
জিহ্বা বেরিয়ে যাওয়া চৈত্রের কুকুর যেন
উদ্ভ্রান্ত আক্রোশে দাঁড়িয়েছি কাছে
হাঁপাচ্ছি যেন তাড়া খাওয়া চোর
বিপদ আক্রান্ত বিপন্ন হৃৎপিণ্ড আমার
ধমনীতে ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত অতীত।
আদিম ভঙ্গিতে তুমি পেতে দিলে তোমাকে
টেনে নিলে উলঙ্গ ফুলে; আনন্দ উপকূলে
মেয়ে মানুষের শরীরে আঁশটে গন্ধমোহে
বীজ বুনে ফিরে গেলে পাব তোমাকে...

হিংসা আসন

অন্ধকার চিরে মানুষ আর আসবে না
কেউ ভাসবে না আর আশায়
এই মৃত্যুহ্রদে ডুবে মরবো আমরাই
সত্তাভ্রষ্ট নষ্টকষ্ট বিশিষ্ট সবাই
সুন্দর; আর আমার কাছে এসো না তুমি
পাপবিদ্ধ স্বদেশ আমার জন্মভূমি।

পতন

পতনের সূত্র খুঁজে
নিজের মুখ
মাপছে মুখোস।

বোনাস

খা রে খা
খা রে খা
পক্কিলারে খা
লুটে পুটে খা
চাটে চুষে খা
খানকির পোলারা খা
মার স্বপ্ন খা
আমার ঘাম খা
শির ও নাম খা
প্যাকেট খাম খা
মাল খা আর
ভুদার বাল খা
খা রে খা
মান খা
ঈমান খা
খা রে খা
লুটে পুটে চেটে চুষে খা
গুটি খা
খুঁটি খা
ডাই খা
পাঞ্চ খা
র খা
ম খা
গু খা
খা খানকির পোলারা খা
বেশ্যার বিয়া খা!

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ

ন্যাপকিনের গাড়িতে ঘুমিয়ে পরা ক্লান্ত কর্পোরেট, দৃশ্যত কর্মহীন আপাত কবিকে গাড়ি দিয়ে ঘড়ি সারাতে পাঠাবেন না, আপনার সময় পাল্টে দেবে; সাবধান!