তানিম কবিরের ৫ কবিতা
প্রকাশিত : মে ৩০, ২০১৯
বুঝে ফেলা সন্ধ্যা
সবাইকে বুঝে ফেলা
একটা সন্ধ্যাবেলা এলো
সবাইকে বুঝে ফেলে দিল
সকলেই যার যার
না বোঝার মতো করে রাখা সব নিয়ে
বিব্রত হলো
একজন উপন্যাসের মতো
নির্ভুলভাবে প্রবাহিত হচ্ছিল
যথার্থ ও অনিবার্য বাক্য এসে
ঘিরে ফেলছিল তাকে
আমি তার সম্ভাব্য সেমিকোলনটিকে
হাতেনাতে ধরে ফেলতেই
কাহিনি এসে তার প্রতি
অনাস্থা পোষণ করল
আরেকজনকে দেখলাম
নিজের ব্যাপারেই আরেকবার
ভাবতে বসল
ফলে তার ভাবতে বসার দৃশ্যে
আলোক প্রক্ষেপণ ঘটল
ছায়ার সরবরাহ ঠিকঠাক থাকল
যেন অনিবার্যতা
নিজেই সে চূড়ান্ত
রকমের নাটকীয়তা
সবাইকে বুঝে ফেলে দিলাম
উদারতা বশত আবার
টেনেও তুললাম
থাকুক
টানি টানি খুলি ফ্যালো তার
এ জীবন রাখিও না আর
ভাষার ভিতর হতে
আশার ভিতর হতে
টানি টানি খুলি ফ্যালো তার
অকারণ ভঙ্গিমা
ব্যাকরণশিক্ষিত ধ্যানের আকার
ব্যাকা ধোনের আকার তুমি
রাখিও না আর
তুমি আশার এবং
হা-হুতাশার ভিতর হতে
টানি টানি খুলি ফ্যালো তার
মেসে ফিরে
সিলিং ফ্যানে
একটা ব্যক্তি
ঝু
ল
ছে
হায় করুণা—
অসুস্থতা;
স্বেচ্ছাচারের
নোংরা শরীর
দুলছে
লাশ যে কবের
কে বলবে তা;
প্রায় গলিত
জিহ্বাটিতে
ঘুরছে ড্রেনের মাছি
ফালতু সে লোক
সু’সাইড নোটে
একটা বালের
বাক্য শুধু:
‘না থাকলেও আছি’
আছেই বটে
ঝু
ল
ন্ত—তার
চোখ খোলা
য্যান্
জাগবে পুনর্বার
আত্মহ্যতা শেষেও
কি তার
স মু দ্র হী ন লাগবে
পুনর্বার?
হয় না জানা
গরম লাগে
ফ্যানটাও তো
ঝুলতে আছে
অসহ্য সেই
ব্যক্তি নিয়ে—
ফ্যান চালাব
সেই উপায়ও নাই
ঝু
ল
ন্ত
বালব্যক্তিটিকে
উপ্রে রেখেই
কেমন জানি
খাটের ’পরে
ঘুমাইতে মন চায়!
ইগো
আমারই আর কীইবা এবং তোমারই আর কী গো
দুইজনেরই ভিতর বসে
অফিস করে ইগো
অফিসে খুব কড়াকড়ি ম্যাজিস্ট্রেটে ভরা
ইগো যদি আপত্তি দেয়
মুহূর্তে হাতকড়া
প্রত্যেকেকে অ্যারেস্ট করে থানায় নিয়ে যায়
সবাই থাকে বান্ধা ইগো
একাকি গান গায়
নিজেই নিজের আবিষ্কারক নিজের রক্ত খায়
তাতে খুব অহঙ্কার ইগোর ইগো
খাটেও শুতে চায়
শেষে শুয়েও থাকে আপনমনে আপন কারিশমায়
পা তুলে দেয় পায়ে ইগো
গা তুলে দেয় গা’য়
তোমরা দুজন
একদিন খুব সকালে
গাছের যে পাতাগুলো গাছেই ছিল,
সে সবুজ—
আলোর দ্বিধান্বিত অন্ধকারে
বেরিয়ে পড়েছিলে
তোমরা দুজন
রাতজাগা পলেথিন
উড়ে উড়ে রাস্তায়,
যে হোটেল খোলেনি তখনও
তবু খুলবে বলে,
তবু জেগে উঠে কুলকুচি করবে বলে
এক লোক—
তখনও ঘুমিয়ে ছিল
শুধু তার জেগে না ওঠার পাশ দিয়ে
হেঁটে চলে যাচ্ছিলে
তোমরা দুজন























