দুর্নিবার সুজনের ৫ কবিতা

প্রকাশিত : এপ্রিল ০৫, ২০১৯

স্বপ্ন

মৃত্যুই মজার; কিচ্ছু জানবো না, কিচ্ছু বুঝবো না, কোনো কষ্ট-যন্ত্রণা থাকবে না...
একটা নির্ভার শূন্যের মতো জীবন
একটা অনাবিল হাওয়ার স্বর্গ

বেঁচে থাকাই মজার
কত আনন্দ আকাশে বাতাসে
কত জীবন জলে জলে ভাসে
কত জীবন হেঁটে যায় গেয়ে যায়
কথা বলে যায় কত!
কত জীবন মাটিফুঁড়ে আকাশের দিকে যেতে যেতে
থেমে যায়
শাখা ছড়ায় চারপাশ, নেচে নেচে দুলে যায়
হাসে কি? গায় কি!
বুঝতে মজা লাগে।

স্বপ্নই মজার
ভাবো, যা হচ্ছে প্রতি মুহুর্তে সবই স্বপ্ন
পৃথিবী ব্রহ্মাণ্ড সাগর নদী আকাশ গ্রাম শহর
এসব আসলে কিচ্ছু না
তুমি আসলে কেউ না, কোথাও ছিলে না।
তোমার কখনও জন্ম হয়নি
আমার কখনও মৃত্যুও হবে না

বিরহ

বিরহ, আকাশের অনন্তের মতো
দিক দিশাহীন।
কোথাও কেউ থাকে না তখন।
নক্ষত্রগুলোও নক্ষত্রদের দূরত্ব নিয়ে চলে!
বিরহের হেমন্ত কেটে গেলে নতুন মিলনের আকাংঙ্ক্ষা
হয়তো হবে চিরায়ত নিয়মে
নতুন বিরহজলও নামবে কপোল বেয়ে
তবু আজ তোমাকে ভুলতে পারছি না কিছুতেই!
আজ বিরহ বড় ভালো লাগছে।
আজ নিষ্ঠুর গরলে অমৃত সুধা—
মরে যেতেও ভালো লাগছে!
কফিনের অনেকটা দূর থেকে সকলের আড়াল থেকে তুমি—
কিংবা বিগত প্রেমও যদি
হঠাৎ বিরহীর মতো কুহক ডাকো!
আমার কি কিছু এসে যাবে?
বিরহে মরে যাচ্ছি হে...

প্রথম মৃত্যু, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে

কবি মরে গেলে আমার কি!
বিপ্লব বিবর্তিত হলে
বদলে যায় কবিতার শ্লোগান
বখতিয়ারের ঘোড়া লাফাতে
লাফাতে
তলোয়ার নাচিয়ে বলে,
রক্তেই ফয়সালা
জিহাদ জিহাদ...
পানকৌড়ির রক্ত চাই
হিমাংশুর রক্ত চাই

সুবোধ চলে গেল তাই!

`কর্তৃত্ব গ্রহণ করো নারী!`
এই নষ্ট শহরে
নাম জানা না-জানা
অনেক কবিই
সময়ের
সবচেয়ে নষ্ট সন্তান
কবিরাও দাঙ্গাবাজ, মাস্তান!
এমন সব কবি মরে গেলেও
মানুষেরা নির্বিকার;
নির্বাণের পথে হাঁটে!

দেহ দিলে দেহ পাবে
দেহের অধিক কিছু নাই!
ও মাটি;
পুনর্জন্মে এইসব কবিদের মগজেও
সততার জিন দিও
ও সমুদ্র;
একটু নোনাজল দাও
মরে যাওয়ার আগে
কবি ভণ্ড হয়ে গেলেই
আমি মৃত্যু শোকে
কাঁদতে চাই!

তোমার স্বপ্ন বাড়ি আমার না

তোমার সাথে আমার হবার না
তুমি যেমন ভাবো, আমি তেমন ভাবি না।
আমি স্বপ্ন দেখি ঘোরের ঘর
তুমি তার মানে বোঝো না!
আষাঢ় মাসে ব্যপক ঝড়
ব্যপক তোড়ে নদীর চর।
তোমার সুরে আবেশ আছে
কে আর ডাকে তোমায় কাছে!
আমি স্বপ্ন দেখি, তুমি তুমি না!
তুমিই সবাই, সবাই তুমি
যৌথপ্রেমের ঘর হবার না।
ঈর্ষা যেন প্রেমের শেকল
উদার হলে এসব বিকল।
আনন্দ বাড়ি কি তোমার না?
হাসাহাসির আসর হবে,
তুমি আসো না... তোমায় ভালোবাসি।
তোমার মৃদু হাসি
তোমার ডাগর চোখ
ভুলতে পারি না;
তবু তোমার সাথে আমার হবার না!
আমি স্বপ্ন দেখি; জড়িয়ে আছি
তুমি আমি।
তুমি স্বপ্ন দেখ, পাখির বাড়ি;
পাখির ঘরে ডিমের ভ্রুণ
শাখায় শাখায় হাসছে দ্রুম।
তোমার স্বপ্ন বাড়ি আমার না!
তোমার সাথে আমার হবার না!

যার বুকে দিনের রঙ

মেঘের গর্জন শোনা যাচ্ছে, সূর্যের শব্দ বোঝা যাচ্ছে না
চিন্তার বিক্রিয়া হচ্ছে, চিন্তাসূত্র আবিষ্কার হচ্ছে না!
সূর্যের কেন্দ্রে সবুজ রংয়ের আগুন
লেলিহান লকলকে ভঙ্গিতে পুড়তে পুড়তে
পৃথিবীতে দিনের রঙ পাঠায়
পৃথিবীর প্রত্যেকটা আবহে প্রতিটি প্রাণী ও মানুষ
নতুন চিন্তা পায়
তুমি যা বলছো, তোমার কথা শুনছি বলেই
আমি আরেকভাবে ভাবছি
তুমি মরে গেলেও আমি আরেকরকম ভাববো
তোমার চিন্তার আকাশে আমি নেই হলেও
যে ও যারা আছে সে ও তারা
তোমার চিন্তার বিক্রিয়ায়
সংকেত যোজনীর যোগান দিবে;
কল্পনায় তুমি পৃথিবীর উপর দিয়ে উড়ে দেখতে
পারো পাখির মতো
সূর্যের ভেতর ঢুকে যেয়ে না পুড়েও সব শব্দ
বুঝে ফেলতে পারো
নীরব হলে চিন্তা এমনও হতে পারে!
একটা চিন্তার বিক্রিয়ায় একটা মানুষ বুড়ো বটগাছটার
নিচে বসে থেকে ভাবে,
পৃথিবীর পিঠে বসে আছি আমি
সকলেই পৃথিবীর পিঠে বাঁচে
হাসে গায় ঘুমায় খেলে নাচে
সকলেই কাটায় সকলের ছাঁচে
দিনের আলো সূর্যের, রাতের আলো
চাঁদের
আর সব নক্ষত্রের;
রাত হয়ে গেলেও মেঘের গর্জন শোনা যায়
সূর্যের শব্দ বোঝা যায় না!