পদ্ম’র ৫ কবিতা

প্রকাশিত : মার্চ ২৭, ২০১৯

বঙ্গোপসাগর

একটা হাতি মরে পড়ে আছে সাগরতটে
ওইপারে যাওয়া যায় নাকি?
মনের বাসনা একা দক্ষিণ সাগর তীরে ধীর সুরে ভাসে তোমারি সম্মোহনে
ঠাণ্ডা বাতাস আছড়ে পড়ে প্রাণে
তোমাকে দেখতে পাই আত্মার অন্তঃস্থলে

তুমি নিজ থেকে বলো কী আছে আমার?
এ-খোলা প্রান্তরে প্রাচীন-এ আকাশের নিচে

তুমি বুকের খাঁচায় হাত দিয়ে দেখো কত আগাছায় ভরা এই ঘনঝোপ
যেখানে ছোট ছোট পাখিরা সব একসাথে ঘর বেঁধে থাকে।

ফুটপাতের ওভারস্যান্ডেল ৪

অনেক বড় হয়ে গেছি মা
আর তো বকা দাও না
তবুও আমার মন খারাপ লাগে
তুমি তা জান না

এখন আমি কম্পিউটারের মন বল ভেঙে দিয়ে যাচ্ছি
আর ও পাগলের মতো আমার পা ধরে ওয়ার্নিং চাচ্ছে

এখানে সন্ধ্যা নেমে গেছে
আমার মা ভাত রান্না করছে
আমাদের নিয়ে ভাবতে ভাবতে ধোঁয়া উড়ে যাচ্ছে বিকেলের মাঠে
আমরা কত ছোট ছিলাম!
মুখে তুলে ভাত খেতে পারতাম না
এখন আমরা কত দূরে থাকি—
আমার মা’র বয়স হয়ে যাচ্ছে
আমি আর ছোট হয়ে যাচ্ছি না।

লিখতে লিখতে যাচ্ছি ২

তোমার অসুখ হলে আমিও চলতে পারি না
কালার-ব্লাইন্ড রোডে সোডিয়াম বাতি ভাল্লাগে না
তবুও তোমার অসুখ হয়
আর দাঙ্গা বাঁধলেই পাবলিকরে পুলিশ পিটায়
মাজা ভাঙা কুত্তা দেখলে খুউব মায়া লাগে
তবুও আমাদের বন্ধুটা মরে গেল
হর্ন দিয়ে চলে গেল মাদারগডেজ উইলেনডর্ফ
যেন একটা পাখি—
শোঁ করে মিশে গেল ভিড়ের ভেতর।

পৃথিবী ও শে

পৃথিবীতে হেঁটে যেতে যেতে
আজ এই বিকেলের পরি
আকাশের ছাদে একা ওড়ে
পথ এসে বলে, পায়ে পড়ি

আমি তো শুনিনি সেই গান
রেডিওতে প্রতিদিন বাজে
আমাকে এখানে আটকাও
গড়িয়ে পড়ছি সবখানে

চুমুকে চুমুকে প্রিয় হাসি
আছড়ে পড়ছে ভাঙা গ্লাসে
এখানে অজস্র রাত কালি
ধুর, আর লিখবো না পথে।

ট্রাভেলারের মৃত্যু

ওইখান থেকে উড়ে আসলাম
ভাল্লাগছে না তাই আবার চলে যাচ্ছি।
আঁটিবাজারের মাঠে গাছের নিচে বসে আছি
মৃদুমন্দ হাওয়া, ফসলের ঘ্রাণ খুব শান্তি দিচ্ছে
এই! শ্যালো মেশিন অফ করতে বলো তো
ধুক-ধুক শব্দে আমার ভাবনাগুলো বারবার ভেঙে যাচ্ছে
ধুর, আর থাকবই না এখানে।
ছাদের উপর থেকে সাগরটা খুব কাছের
ছোট ছোট দ্বীপগুলোকে এখন আর দেখা যাচ্ছে না
স্বপ্নের ভেতর থেকে একটা জাহাজ এসে ভেঁপু বাজাচ্ছে তীরে
ভ্রমণ এখন আর আমাকে টানছে না
আমি দেখতে পাচ্ছি ওইপারের বারান্দায় আমাকে নিয়ে খুব ঝগড়া হচ্ছে।