অলঙ্করণ: পাপিয়া জেরীন

অলঙ্করণ: পাপিয়া জেরীন

পাপিয়া জেরীনের একগুচ্ছ কবিতা

প্রকাশিত : জুন ২৫, ২০১৯

ফোনসেক্স ১

তোমার জিহ্বাপ্রেরিত শব্দে বর্ণে ধ্বনিকম্পনে খুলে গ্যাছে সার্ভিক্স...

ধ্বনিআবর্তপ্রতিধ্বনি
প্রেমাবর্তকামার্তযোনী!

 

ফোনসেক্স ২

এই প্ররোচিত ধ্বনি আলজিভ ঠেলে পৌঁছে যাচ্ছে দন্তমূলে, আমার মজ্জাগত সুর— শ্রবণাতীত কম্পন প্রতিধ্বনিত;

তোমার অন্ধ আঙুল সশব্দ অনুসারী
তোমার অজড় শরীরে জেগে উঠছে শব্দের অনুস্তম্ভ
তোমার অস্ফুট কালোবৃন্তে ভিড় করে আছে ওষ্ঠধ্বনিরা, নিরাকার আদিম এই স্বর নেমে আসছে  তোমার শঙ্খ- জঙ্ঘায়—

তোমার অন্ধ আঙুল সশব্দ অনুসারী
তোমার উদ্ধত হাত আমার প্রতিনিধিত্ব করছে

মুদ্রিত তালব্য সুরাসুর, শ্রবণোত্তর শীৎকারে তুমি গলে পড়ছ আমার দ্বিতীয়া অধরে...

 

ফোনসেক্স ৩

অদ্ভুত তোমার উষ্মশ্বাস—
প্রাচীন মকবরা ঠেলে
উঠে আসা পাকুড়ের বন

আমার কণ্ঠস্বর
তোমার পাঁচিল চড়ে বসেছে
ভেঙে পড়ছে মখদুম মঞ্জিল

ছুড়ে দিচ্ছ শব্দবন্ধ শরীর
সুম্বন-চুম্বন, মকমকি...

পৌর্বাহিক সঙ্গমের স্মৃতি
পড়ে আছে তোমার পায়ের কাছে

অদ্ভুত তোমার পা জোড়া—
ক্রমশ আবলুশ অন্ধকার
ঢেকে দিচ্ছে বিজোড় জৈতুন;

তুমি উষ্মশ্বাস, শব্দবন্ধ শরীর—
প্রাচীন মকবরা ঠেলে এসো পাকুড়ের বন

আমি আপ্তকাম
তুমি আপ্তকাম
একটা মার্জারি জিভ চেটে দিচ্ছে
আমাদের নিরায়ুধ মন।

ভ্রামক

জেগে আছি
দ্যাখো, হেলে আছি
দূরবর্তী গাছ যেমন ঢুকে পড়েছে
পরস্পর শাখা-প্রশাখা নিয়ে

কতকাল মুখোমুখি বসে
তুলে দিয়েছি, নেমে গিয়ে
খুলে নিয়েছি যা কিছু শরীরজ

অথচ, একটা নিশ্ছিদ্র ঘর পেলে
আমাদের ঘুম হতো খুব

তুমি ক্লকওয়াইজ
আমি এন্টিক্লক
ঘুরে যেতাম জরায়ুজ ঘোরে

আর এই অবনত স্তন
তুলে নিতো কোলে
তোমার একাকী অনাথ শিশ্ন।

সরলীকরণ

ধরে নাও আমরা ভালোই বাসি
আমরা পরস্পরকে ভালোবাসি,
নয়তো ওরা আমাকে নিম্ফোম্যানিয়াক আর তোমাকে হিপোক্রেটদের দলে ভিড়াবে;

ধরে নিতে হবে আমি গণিতের অনির্দেশ্য মান, কল্পিত রাশি আর তুমি অসীম কোনো সংখ্যা, ভগ্নাংশে পুনঃপৌনিক—
যেভাবে ধরে নিতে হয় গরলের সরল

ধরে নাও, আমরা ভালোবাসি
হ্যাঁ আমরা ভালোবাসি পরস্পর
নয়তো ওরা আমাকে নিম্ফোম্যানিয়াক আর তোমাকে...!

সঙ সার

ধরো আমাদের কোনো কথা নেই
পড়ে আছে কিছু খড়বিচালি, গৃহস্থালি
আমি শুয়ে, তুমি নুয়ে
অভ্যাস বশত

অকস্মাৎ
এই শিশ্ন তোমার
হাঁটু ভর করে উঠে দাঁড়ালে
কি
বুঝে নেব—
ভালোবাসাবাসি আছে?