পাপিয়া জেরীনের সাতটি প্রেমের কবিতা
প্রকাশিত : অক্টোবর ১৭, ২০১৯
অনতিক্রমণ
যতবার ভুলে যেতে চেয়েছি
শরীরের সমস্ত সুড়ঙ্গপথে এসে গেছ,
যেন পাতাল রেল—
সিটি বাজিয়ে ইঞ্জিনসমেত ঢুকে পড়ছে গাড়ি;
আমি তোমাকে ভুলে যেতে চাই
ছেড়ে যেতে চাই
অথচ আমার বন্দরে লেগে আছে তোমার সবুজ জলযান কয়েকশো নোঙর সমেত
আমি তোমাকে ছেড়ে যেতে চেয়েছি কতবার!
উড়ে গেছি বিষণ্ণ ড্রোনের মতো মেঘ কেটে কেটে,
শেষে জান্তব ডানা জেনে গেছে—
তুমিই অনতিক্রম্য, তুমি আকাশ!
লুসিড ড্রিম
একের পর এক অবান্তর দৃশ্য বগিচ্যুত হতে যাচ্ছে
ধসে যাচ্ছে বাহান্ন তাস,
দেখি— একমাত্র ছেলেকে সাথে নিয়ে তোমার চাইতেও কোনো লম্পট সুপুরুষের হাত ধরে চলে গ্যাছে ও
আর এদিকে তুমি নির্বিকার—
একটা রাজনৈতিক বক্তৃতায় তুমি কেবল নুনু চুলকে যাচ্ছ
আমার গলায় একটা অদ্ভুতাকৃতির ম্যাডেল
এইমাত্র হাতে পাওয়া একটা অলৌকিক ছাড়পত্র নিয়ে
আমি কাছাকাছি খুব এসে যাব,
প্যারোলে মুক্তি পাবে প্রেম
অথচ, তুমি একটা রাজনৈতিক বক্তৃতায় নুনু চুলকে যাচ্ছ, একমাত্র ছেলের নাম বেমালুম ভুলে—
সাথে আমাকেও...
শরাবন তহুরা
এ কেমন ঋতু, মন্মথ
বিরঞ্জনে ধূসরও ম্লান;
গাছেরাও ছুড়ে দিলো পাতার ব্রেসিয়ার
চাঁদ ঝুলে গেল—
ঝুলে গেল জীবনের ষড়ঙ্গ সবই!
তুমিও ঝুলায়ে রেখেছ আগুন ছাইয়ের আদলে;
আজ মোহিনী তোমার
প্রোন্নত যৌবন সাজায়ে রেখেছিল
লাল কাঁচুলি ভরে—
অঙ্গের মধু, ভ্রমর পিণ্ড
তবু বীতকাম তুমি, হায়
কী চাও এইখানে!
দ্রাক্ষা— প্রসূন— ফল?
ফিরে যাও—
গাছও ঝেড়ে ফেলে রূপ, মন্মথ
আর গাছেদের মতো... এই দেখো আমি, পত্রহীন স্থির—
আবক্ষ শরাবন তহুরা!
দ্য ডার্কেস্ট হ্যাভেন
মেঘের চাঁদরে ঢাকি স্তনচোয়া চাঁদ
হাজার জোনাকি জ্বলে চুলের জালে
আমি সমুদ্ধত শরীর লবণে ডুবাই,
তবু লালস-লোবান আলজিভ
খোঁজে লবণ পেন্ডুলাম;
গজগমনে প্রশমিত থাকে হুর
আমি খুলি অতৃপ্ত নওহর
আসে বরারোহা গেলমেন
সবুজ পাতার ভিড়ে—
আনে তিলরঙা মউ, বিম্বকী চাঁদ!
ভিনসারেমো
আপনারা দেখে এসছেন
ধর্ষণ ঠেকাতে কত তৎপর ছিল ওরা
পার্কে, নিভৃত জলের ওপর ওদের পাহারা
এইসব বর্বরতা ঠেকাতেই নিষিদ্ধ করা হলো
নারীর জন্য পুরুষ, মানুষের জন্যে প্রেম
আপনারা কিছু বলেননি, দেখে এসেছেন
এইসব বর্বরতা ঠেকাতে
সিলগালা করা হলো বার
সিলগালা করা হলো পাড়া
সিলগালা করা হলো জুয়ার আসর
সিলগালা করা হলো শিশ্ন
সিলগালা করা হলো যোনি
তাবৎ শক্তিমত্তা আর পবিত্রতা সমেত মৃত এই রাষ্ট্র ঈশ্বরের মতো বলে উঠলেন... ‘ভিনসারেমো’
তাবৎ শক্তিমত্তা আর পবিত্রতা সমেত এই রাষ্ট্র বলে উঠলেন—
খুনের জন্য দায়ী এই ছুরি তৈরির কৌশল
প্রেম
প্রেম কখনও কুকুরের মতো দাঁড়ায়
হাত বাড়ালেই লেজ নাড়ে
শুঁকে নেয় মাংসের স্তূপ,
ছিঁড়ে ছিঁড়ে ছুড়ে দিলে
জিভে ম্যারিনেট করে খায়;
প্রেম আস্ত একটা কুকুর
চাঁদের আঁধারে রাতের পিছে—
মুতে মুতে রাখে রাজ্যসীমা।
এমনিতে প্রেম মাংস সেদ্ধ খায়
মাঝেমধ্যে খেয়ে নেয় লতাপাতা ঘাস, আর
খুব ক্ষিদে পেলে...
কুকুর হয়ে নামে আস্তাকুঁড়ে।
শরীরজ
বিকার বর্ষা, নাকি রেতঃপাত—
সময়োচিত কোনো বাক্য শব্দ প্রত্যয় খুঁজে পাইনি গতরাতে,
গাছের সবুজ পাতাগুলো দেখছিলাম
ভিজে নুয়ে আঁঠার মতো লেগে ছিল কাছাকাছি,
তোমার কথা মনে হলো, তোমার শরীর
কচি বাদামি পাতার মতন
সঙ্গম শেষে তোমার পুরুষাঙ্গ, বা তুমি—
যেন অবসন্ন কাত হয়ে আছে কিংবা আছো
আবার কি বৃষ্টি এলো
রাতের মতো?
তোমাকে যখন ভাবি, শরীরই ভেবে নিই
ডানা কেটে নেয়া বিপন্ন কোনো পিঠ
তারও নিচ অবধি নেমে গেছ তুমি
বহুদূর ঘ্রাত-অঘ্রাত
প্রণয়োচিত কোনো প্রত্যয়-শব্দ-বাক্য খুঁজে পাইনি এখনও
তোমাকে যখন দেখি, ওই শরীরটুকুই
কচি বাদামি পাতার মতন
ন্যুব্জ, বৃষ্টিপতনের পর
তুমি আছো, সারবত্তা আরও নিচে নেমে গেছো বহুদূর
ঘ্রাত-অঘ্রাত শ্রবণেরও বাইরে
আবারও কি বৃষ্টি!
রাতের মতো?
গতরাতে সবুজ পাতাগুলো দেখছিলাম
ভিজে নুয়ে আঁঠার মতো লেগে ছিল কাছাকাছি
আমার তোমার কথা মনে হলো কেন?
যেন অবসন্ন কাত হয়ে আছো তুমি কিংবা তোমার শরীর!























