অলঙ্করণ: পাপিয়া জেরীন
পাপিয়া জেরীনের ৫ কবিতা
প্রকাশিত : মে ০৮, ২০১৯
এইসব দৃশ্যরা তোমার
ইটভাঙা শ্রমিকের হাতুড়ি দেখা যায়—
অতর্কিতে বেরিয়ে আসে পাথরের গোপন ফাটল,
কামিজে ঝনঝন করে পুরোনো মোহরের মতো দুধ;
টং দোকান থেকে দুজন বুড়ো আদম
শাবল গেঁড়ে দেখে প্রত্নঘটি
যদিওবা বেঞ্চিতে ঠেকে আছে ফলদ প্রোস্টেট,
ফুঁসে ওঠা কেতলির ভেতর নেতিয়ে পড়ছে চা
একটা দুইটা হলিউড পুড়ছে
মেয়েরা হেঁটে যাচ্ছে গার্মেন্টস—
হাতে টিফিন ক্যারিয়ার
চুল চুয়ে নেমে গেল রাতের গলদঘর্ম।
—পথের পাশে এইসব দৃশ্যরা তোমার
অথচ, তুমি একটা ক্লোজশট হয়ে ফ্রেমে—
মেডিকেলে পড়ে আছ
চোখ স্থির, নুয়ে আছে ঝড়ে ভাঙা ডানা!
উড়াল
হেই বব্, চলো ছাদে যাই
বিড়িতে উড়াই রেসারের ছাই
খোপ খুলি... দেখি সবুজ গিরিবাজ
খোয়াড় গরম করি ধুঁয়ায় ধু্ঁয়ায়
হেই বব্, চলো ছাদে গিয়া বসি
তোমার সুতায় মারি মাঞ্জা মলম—
পুরান প্রেমের যতো ঘুড্ডি উড়াই
হেই বব্! আসো পাতার পুরিয়া
ঠোঁটে দমের আগুন...
চলো আগুন দিয়া আগুন পুড়াই
নামুক তীব্র কালা রাইত
খুলো সাপের ঝাঁপি
রে শীষনাগ, চলো ছুলুম উড়াই!
আমি রাত
আমি রাত
নেমে এসেছি তোমার উপর,
বিগত শোকে, প্রত্যাখ্যাত রমণীর চুলে—
জঙ্ঘার তিলে কিংবা কুঞ্চিত বৃন্তেও এতটা আঁধার ছিল না
আমি রাত
গ্রাস করেছি শুক্রবিন্দুর মতো আলো,
তোমার ঘর্মাক্ত সমুদ্রযান, উদয়ের তটরেখা;
তোমার প্রেয়সীর ঘুমের কর্পুর
উড়ে যেতে যেতে জেনে গ্যাছে
আমি এলে—
তোমার স্বপ্নের ভিতর নেমে আসে
এক অদ্বয় অলকানন্দা রাত!
আমি না এলে—
বিফল সংঘাতে
ঘটে চলে কবিতার ধ্বজভঙ্গ।
কবি
নতমুখ কবি,
এইখানে আত্মগোপনে
প্রেমিকার জেরার মুখে আপনাকে
বলে যেতে হয় মিথ্যার মতো মিথ
বলেছেন তাকে—
স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হলে প্রেমিকার কাছে ছোটো হয়ে যান;
দেখেন, আপনার প্রেমিকার মতো অনিচ্ছুক সঙ্গম শেষে আকাশে কেমন উল্টায়ে আছে প্রকাণ্ডকায় চাঁদ!
আপনিও প্রতিরাতে লিখে চলেছেন ডিজিমডার্ন পোয়েট্রি,
নর্দমার কীট খেয়ে নিচ্ছে আপনার উৎসারিত বঙ্কিম শিশুদের।
আপনি নতমস্তকে আর
শিশ্নের মতো দৈবচয়িত অক্ষর নেমে আসে কখনো ভোররাতে,
আসে আলমোরা আর সিকিমের পাহাড়ি হলদেটে মেয়েমানুষ
ময়ূখ মুদ্রাসমেত মেকরান নটীদল
অথচ, আপনাকে জেরার মুখে বলে যেতে হয় মিথ্যার মতো মিথ
স্ত্রীকে বলেছেন, কিউনিফর্মের মতো গাঁথা আছে খাগের কলম
আর প্রেমিকা জানে—
স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হলে প্রেমিকার কাছে ছোটো হয়ে যান!
বিনিয়ত ব্যাবর্ত
রাত খুঁড়ে খুঁড়ে তুলি যত আঁধারের মুখ
অশরীরে শুধু শরীর জেগে থাকে,
জমে রক্তপ্রাচীরেও কিছু লবণের দ্বীপ;
বিনিয়ত যত কামনা দূরে ঠেলে দিয়ে
আকাশে উদার হই, দেখি দূরতম নক্ষত্র হতে
অদৃশ্য সুতা আসে, দেখি বন্ধনহীন কতো
মৃতবামনেরা শুকায়ে নিঃসাড়—
তারায় তারায় ধরে যতো আকর্ষ-প্রেম
তবে কেউ পতনযোগ্য নয়।
তবু, রাতভর পৃথিবীর বুকে নক্ষত্র জ্বালি,
ভোর কাছে এলে—
পাগড়ির ভাঁজ থেকে ঝরে কিছু মেস্ক-জাফরান
আর আমার হৃদয় হয়ে ওঠে সুরভিত আঞ্জির!























