বাশার মাহফুজের ৪ কবিতা

প্রকাশিত : মে ২৫, ২০১৯

মাথাহীন মানুষের কাছে

ছিনিয়ে নেয়া বিশ্বাসগুলো আপনাকে ফেরত দিতে চাই
আপনিতো এগুলো আঁকড়ে একদিন যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন
আপনার বিশ্বাসগুলো আমাকে সাগরে নিয়ে যাচ্ছে
জ্বলন্ত লাভার পাশে স্থাপন করছে
নিয়ে যাচ্ছে নর্দমায়
মুখহীন মানুষের কাছে
হাত দেখছি
পা দেখছি
দেখছি ঘর্মাক্ত দেহ তবু তাদের মাথা নেই
আমি তাদের চিনতে পারি না।

আপনি আপনার বিশ্বাসটুকু ফিরিয়ে নিন
মানুষ পোড়াতে-পোড়াতে নিজেকে মৃত মনে হয়
নিজেকে গোরস্থান মনে হয়
আর আমার পাশে মানুষের মাথাবিহীন লাশগুলো মাছির মতো কিলবিল করে।

দোহাই আপনার, আপনি আপনার বিশ্বাসটুকু ফিরিয়ে নিন!

আগুনকে ভালোবেসে

আমি হয়তো আমার কাছেই থেকে যাব আরো বহু বছর
ভেতরের হৃদ থেকে তুলে নিয়ে জল শীতলতা ছড়াবো প্রখর রোদে
আমার ভেতরের কাদামাটি আর চালতা ফুলের হাসি নিয়ে
খেলে যাব সকাল-দুপুর।

পেরেকবিদ্ধ ইতিহাসের মতো আমার ভেতর বারবার ফিরে
আসবে যিশু
সভ্যতার পালে বাতাস লেগে তৈরি হবে সিন্ধু মেসোপটেমিয়া
তবু বাঁশি বাজাবে আমার ভেতর নতুন নিরো
রোম থেকে রোমে ভেসে বেড়াবে সে সুর
আগুনকে ভালোবোসে আমি হয়তো আমার কাছেই থেকে যাব আরো বহুকাল।

পারফিউম

বাষ্প হয়ে যাচ্ছে জীবন
সমুদ্র বলে যাকে বারবার দাঁড় করিয়েছো প্রশ্নবিদ্ধ নাবিকের কাছে
তার চুল, মাথা অথবা মৃত হাতের কাছে এক— একটা প্রজাপতি দিন খুন হয়ে যাচ্ছে।

পথের পাশে ফুটে থাকা গোলাপের শরীরে কোনো গন্ধ নেই
পৃথিবীর সব ফুল, কাগজ হয়ে গেছে নিষিদ্ধ সঙ্গমে।

বহুবার দাঁড় করিয়েছি ভালোবাসার কক্ষপথে নিজের গ্রহ
তবু পৃথিবীর কোনো ফুলে গন্ধ নেই
পৃথিবীর কোনোখানে আয়না নেই!

পারফিউম জীবনের পাশে বারুদের নদী জ্বলে যাচ্ছে
শোক নিয়ে চলে যাচ্ছে পুরস্কার
পৃথিবীর কোনো ফুলে গন্ধ নেই!

দরজা

নিজেকে খুলে দিয়েছি, ঢুকে পড়ো প্রিয় শহর
মাছিদের ভনভনানি। পিঁপড়ার নির্লজ্জ কামড়।
বেশ্যার সতীত্ব। মিডিয়ার দালাল। নূরজাহানের লিপিস্টিক।

আটকে রাখা গরম সময়গুলো বের হয়ে যাচ্ছে
প্রতিবন্ধী দিনগুলো পা বাড়াচ্ছে জলের দিকে
প্রিয় সূর্যস্নানের জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠছে।

এতগুলো ইচ্ছারা কেমন যেন পাল্টিয়ে যাচ্ছে রঙ
বাঘের গলায় চুম্বন দিচ্ছে হরিণদিন
সকালের আলোরা পাল্টে যাচ্ছে
রাত বলে-বলে চিৎকার দিচ্ছে আঁধার
তবু কোথাও কোনো নৈঃশব্দ্য নেই
শুধু বেজে যাচ্ছে রঙিন ভায়োলিন, পৃথিবীতে যেন কোনো রাত নেই!

নিজেকে খুলে দিয়েছি, ঢুকে পড়ো বেশ্যার দালাল
ঢুকে পড়ো সময়ের মীরজাফর
ঢুকে পড়ো নিষিদ্ধ জলসা
ঢুকে পড়ো, পড়ো!