বাশার মাহফুজের ৪ ছড়া

প্রকাশিত : মে ১৩, ২০১৯

আমি কি আর ছোট

অনেক কিছুই করতে পারি তবু কোন নাম নেই
আশে পাশের সবাই বড় আমার কোন দাম নেই!
দ্বিতীয় শ্রেণি পড়ছি তবু সবাই বলে ছোট্ট খোকা
তাদের দেখে অবাক চোখে মুখের ভেতর ঢুকছে পোকা।

গুনে গুনে দুমাস হলো দাঁত উঠেছে ছয়
এখন আমি অনেক বড় পাইনা কোন ভয়।
মায়ে তবু ভয় দেখাতে ভূতের কথা বলে
ভূতরা নাকি লম্বা পায়ে গভীর রাতে চলে!

মামা এসে হাঁতটা ধরে রাস্তা করে পার
এসব দেখে মনের ভেতর ভাল্ লাগেনা আর।
মজার ছড়া একা একাই পড়তে পারি বইয়ের পাতায়
ফড়িং পোকা ব্যাঙের ছানা আঁকতে পারি আঁকার খাতায়।

শিমুল ডালে পাতার ফাঁকে ঘুঘু পাখির ডাকটা
দূরের দেশে বয়ে চলা চিত্রা নদীর বাঁকটা
বিকাল বেলা একা একাই ঘুরেফিরে মনটা তাজা
দোকান থেকে কিনতে পারি লাঠি লজেন্স বাদাম ভাজা।

আরো পারি অনেক কিছুই সবাই তবু ছোট বলে
বড় ভাইয়া বড় আপু নেইনা কেন তাদের দলে!
সবাই আমায় বললে ছোট আমি কি আর ছোট
মানটা ভেঙে হাসলে আমি গোলাপ তুমি ফোটো।

কবি রবি

লম্বাচুলে দীপ্ত পায়ে হাটেন তিনি একা
নীল আকাশে মেঘের চূড়াই পাই যে কবির দেখা।
গল্প নাটক গান ছড়াতে ঝুমকো লতার দোলা
সব খানেতে মিশে আছেন যায়না তাকে ভোলা।

রঙ তুলিতে মন লাগিয়ে আঁকছি যখন ছবি
পেছন থেকে হাত বাড়িয়ে চমকে দিলেন কবি।
হাসিমাখা মুখটা জুড়ে ভালোলাগার সৃষ্টি
তপ্ত ক্ষরায় মুসলধারে নামলো যেন বৃষ্টি।

কবির মতো কবি হতে ইচ্ছে জাগে মনে
ঘুঘুর পিছে সবুজ মেখে কাটিয়ে দি বনে।
নদীর সাথে কথা বলি কবির পাশে বসে
ছুটে বেড়ায় নিত্য দুপুর গান কবিতা চষে।

কবি তিনি বিশ্বমাঝে বাঙলা মায়ের ছেলে
বাঙলাটাকে ভালোবেসে প্রদীপ দিলেন জ্বেলে।
সকাল বেলার রবির মতো মেখে দিলেন আলো
কচিকাঁচা বৃদ্ধ যুবক সবাই বাসি ভালো।

সবুজ বুকে সূর্য হাসে

ওই যে পাহাড় হাতছানি দেয় আমায় শুধু ডাকে
ছোট্ট মনে সে সব ছবি ইচ্ছে মতো আঁকে।

ওই যে দেখো তারার মেলা চাঁদের মিষ্টি হাসি
জোছনা মেখে নিত্যরাতে ফিরে ফিরে আসি।

ওই যে দেখো সবুজ বনের কত্ত রকম পাখি
বুকের ভেতর সকাল দুপুর করছে ডাকাডাকি।

ওই যে দেখো মেঘ আকাশে হরেক রকম ছবি
মেঘের আড়াল কাজল মেখে মুখটা লুকায় রবি।

ওই যে দেখো নদীর বুকে ফুসছে জলের খেলা
এসব দেখে খেয়াল খুশিই যাচ্ছে কেটে বেলা।

ওই যে দেখো ফুলের বনে প্রজাপতির পাখা
দিন গুলো সব মায়ের মতো ভালোবাসায় মাখা।

ওই যে দেখো ধানের ক্ষেতে ঝির ঝিরানো হাওয়া
কাছে দূরের সব মানুষের বন্ধু হয়ে যাওয়া।

ওই যে দেখো সকাল বেলা শাপলা ফোটা হাসি
শূভ্র মনে এই জীবনে সবাই ভালোবাসি।

ওই যে দেখো রামধনুতে সাতটি রঙের মেলা
মনের ভেতর ছড়িয়ে যায় হাজার রঙের খেলা।

পাখির গানে ফুলের হাসিই এইতো আছি বেশ
সবুজ বুকে সূর্য হাসে এই আমাদের দেশ।

খুশিতে আটখানা

হাতি পোশার শখ হয়েছে বাড়ির পাশে বিল্লির
আনন্দে তার সময় কাটে খবর পেয়ে দিল্লির।
দিল্লি থেকে প্যাকেট ভরে আসবে হাতির ছানা
পা দুটোকে উপর তুলে খুশিতে আটখানা।
কোথায় রাখে কিযে খাওয়ায় ভীষণ রকম ব্যস্ত
বিল্লি এখন দিল্লি ফেরত হাতি পোশায় ন্যাস্ত।

খুব সকালে ঘুম ভেঙে যায় হাতির করে খোঁজ
কিন্তু হাতি ছুটে বেড়ায় বন বাদাড়ে রোজ।
বনের ভেতর কলাগাছের স্বাদটা লাগে বেশ
ভালোবাসে সারাজীবন সবুজ মাখা দেশ।
ফিরে আসে ঘুরেঘুরে আলো ছড়ায় ভোর
স্বপ্ন ভাঙে হাতি নিয়ে বিল্লু খোলে দোর।