অলঙ্করণ: পাপিয়া জেরীন

অলঙ্করণ: পাপিয়া জেরীন

বাশার মাহফুজের ৫ কবিতা

প্রকাশিত : মার্চ ২১, ২০১৯

আপনিতো জীবনে একবারই পালাতে চেয়েছিলেন

পালাতে-পালাতে সূর্য নিয়ে কোথায় সকাল লুকাবেন
রোদ আপনাকে ডেকে যায়
আলো আপনাকে ভালোবাসতে চায়
আপনিতো জীবনে এই একবারই পালাতে চেয়েছিলেন
আপনার সাথে তবু অসংখ্যবার আমার দেখা হয়ে যায়!

একটা শস্যক্ষেতের পাশে কিছু রাত রাখা ছিল
কিছু বেনামী ইতিহাস জমা ছিল
আমাকে কেউ ক্ষুদ্র শস্য ভেবে তুলে নিয়ে গিয়েছিল তার বাড়িতে
সেখানেও আমিতো আপনাকে দেখেছি পালাবার প্রস্তুতি নিতে!

পালাতে-পালাতে আপনার শরীরটা রুগ্ন হয়ে আসছে
আপনার পা দুটো থেমে যাচ্ছে।
আপনার চোখদুটো স্থির হওয়ার জন্য প্রার্থনায় রত
শেষবারের মতো তবুও আপনি পালাতে চাচ্ছেন
অথচ বারবার আমাদের দেখা হয়ে যাচ্ছে!

নিঃসঙ্গ দরজায়

চোখ নিয়েতো চলেই যাচ্ছ
আমাকে ভালোবেসে এভাবে নিয়ে যাচ্ছ শস্যসময়
আদরের গন্ধ। চেনা অচেনা রাত
পাপ ও পাপিদের প্রিয় শব্দ।

আমিতো একা হয়ে যাচ্ছি মধ্যবিলের তালগাছটার মতো
বহুবিধ জিজ্ঞাসা এসে দোল দিচ্ছে
অক্ষরবৃত্ত স্পর্শরা থমকে যাচ্ছে!

চোখ নিয়েতো চলেই যাচ্ছে
আহা এতো ভালোবাসা তোমার, আমাকে অন্ধকরে!

দ্য নিউ রাজদূত অপেরা ৩

কিছু আগুন ছিল হাতের মুঠোয়
কিছু মুখ ছিল চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে
আগুনে হাত পুড়ে যায়
মুখগুলো জড়ো হয়
সেলাই দিতে দিতে মালা হয়
এতগুলো মুখ গলায় নিয়ে নেচে ওঠে সময়।

চোখ দুটো ছড়িয়ে পড়ছে নেশায় বুদ হওয়া মাতালের চোখে
বিজলী নাচো। নাচো। আমি মাতাল পৃথিবী মাতাল!

বিজলী বাঈ

আগুন নিয়ে খেলছে ত্রিভূজ রাত
রাতের চোখে নোনা আদর ভালোবাসা নিয়ে ঝরে
প্রেম প্রেম খেলায় মাতে হাজার বুক
মাতাল হয়ে ওঠে শব্দের শরীর
আহা বিজলী কত রাত আমি কবিতা খাই না
কত রাত আমি আগুন খাই!

প্রেম নিয়ে বাড়ি ফেরে স্বর্গের ঘাসবন

ইস্টিশন চলে যায় ভাঙা রেলের কাছে। অসুস্থ রেলের ভেতর যাত্রী হয়ে উঠে বসে সুস্থ সবল রাত। প্রদীপ নিয়ে অন্ধকার দাঁড়িয়ে থাকে। আলো ফোটে। ফুল ফোটে। রেলের ভেতর অসংখ্য ভুলেরা ফোটে। প্রেম নিয়ে বাড়ি ফেরে স্বর্গের ঘাসবন। তবু অপেক্ষারা দাঁড়িয়ে যায় ভাঙা রেল লাইন ধরে। রেলেরা বোধ হয় পালিয়ে যায় প্রতিদিন।
আর সুস্থ সবল রাতগুলো স্টেশনের পিঠে চড়ে বর্ষায় ভেজে। অসুস্থ হতে চায় ভীষণ রকম!